পান পচনে রাজশাহীর পান চাষীরা হতাশ

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০১৫

পান পচনে রাজশাহীর পান চাষীরা হতাশ

ইলিয়াস আরাফাত,রাজশাহীঃ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় পানবরজে পচন ও মরে যাওয়ায় চাষীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। প্রথমে পান গাছের গোড়ায় কালচে দাগ হয়ে ধীরে ধীরে পুরো গাছ মরে যাচ্ছে। কোনো ওষুধ প্রয়োগেও কাজ হচ্ছে না। পানবরজে এ রোগের কারণে পানচাষীরা আর্থিক ভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

Pan 02উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সেনোপাড়া গ্রামের পানচাষী ইয়াছিন আলী জানান, চারটি পানবরজের মধ্যে তিনটি বরজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর্থিকভাবে তিনি অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই এলাকার আজাদ, মুনসুর রহমান, সামসুর ইসলামসহ অনেক পানচাষীর পানবরজ ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।


বাগমারায় কৃষকদের মাঝে পান চাষের আগ্রহ বাড়ছে। পান চাষ লাভজনক হওয়ায় বাগমারার প্রতিটি ইউনিয়নেই নতুন নতুন পানবরজ তৈরি করছে কৃষকরা। অন্য আবাদের চেয়ে পানবরজে তুলনামূলক লাভ বেশি হওয়ায় তারা পান চাষে ঝুঁকছেন বলে কৃষকরা জানান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগমারায় ৬২৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হচ্ছে। ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা এলাকায় ৮৮৭২টি পানবরজ রয়েছে। রোগাক্রান্ত এলাকাগুলোতে কৃষকদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উপজেলার সব এলাকাতেই পানবরজে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

রাজশাহীর অন্যতম হাট তাহেরপুর থেকে প্রতি সপ্তায় ১৫/২০ ট্রাক, মোহনগঞ্জ থেকে ৮/১০ ট্রাক, মচমইল হাট থেকে ৬/৭ ট্রাক আলোকনগর থেকে ৪/৫ ট্রাক পান দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে বলে ব্যসায়ীরা জানান। বাগমারা উপজেলার মিষ্টি পানের কদর সর্বত্রই। দেশে ও দেশের বাইরে ব্যাপক চাহিদা বাড়িয়েছে এখানকার পান। বাগমারার পান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

তাহেরপুর, মোহনগঞ্জ, মচমইল, আলোকনগরসহ কয়েকটি হাটে পান কেনাবেচার সুবিধার্থে এলাকায় প্রায় সহস্রাধিক পানবরজ গড়ে উঠেছে। তুলনা মুলক কম খরচে গড়ে তোলা পানবরজে যথেষ্ঠ যত্ন নিতে হয়। প্রথম দিকে শাড়ক, লগর, বাতা, খড়, পাটখড়িসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে আবৃত করতে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়।

উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সেনোপাড়া গ্রামের পান চাষী সাইফুল জানান, সৌদিআরব ও কাতারে এই এলাকার পান বেশ জনপ্রিয়। এছাড়াও বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুরসহ উত্তরের অনেক জেলায় বাগমারার পান বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

রাজশাহী শহরের পান ব্যবসায়ী বাদশা বলেন, ২০ বছর থেকে তাহেরপুর হাটে পান কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছি। প্রতি হাট তাহেরপুর থেকে ১৫/২০ ট্রাক পান বিভিন্ন স্থানে সরবাহ করেন ব্যবসায়ীরা। এই এলাকার পান অন্য স্থানের চেয়ে বেশি সুস্বাদু বলে এখানকার পানের কদর অনেক বেশি।

বাগমারার মোহনগঞ্জ, মাদারীগঞ্জ, সেনোপাড়া, বাজেগোয়ালকান্দি, বুজরুক কোলা, চকমহব্বতপুর, সগুনা, শ্রীপুর, চাঁইপাড়া, দাউদপুর, খয়রাসহ বিভিন্ন গ্রামে অসংখ্য পানবরজ রয়েছে। ওই সমস্ত পান বরজ হতে চাষীরা তাহেরপুর হাটে পান বিক্রি করেন। এছাড়াও দূর্গাপুরের গোপালপুর, কয়ামাজমপুর, আলিপুর, খালিশপুরের পান চাষীরা তাহেরপুর হাটে ব্যাপক পান যোগান দিয়ে থাকেন।

দেশের অন্যান্য জেলার মত উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁসহ অন্য জেলাগুলোতে তাহেরপুরের পানের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, পানবরজে রোগের হাত হতে রক্ষা করতে পারলে চাষীরা ব্যাপক লাভবান হবে।

পানচাষীরা জানান, অচিরেই পানবরজে পচন ও মরে যাওয়া রোগ নির্মূল করা না গেলে পানচাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২৭ জুলাই ২০১৫

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৭ জুলাই ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com