পাগড়ি খুলে শিশুর জীবন বাঁচালেন জনৈক শিখ

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০১৫

পাগড়ি খুলে শিশুর জীবন বাঁচালেন জনৈক  শিখ

5177

হারমানর সিং

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ শিখদের পাগড়ি পড়া ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলক। এটি তাদের সম্মান ও ধর্মের প্রতীক। জনসমক্ষে শিখদের পাগড়ি খোলা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করে নিউজিল্যান্ডে নিজের পাগড়ি খুলে দুর্ঘটনায় আহত এক শিশুর জীবন বাঁচালেন হারমানর সিং নামে এক শিখ।

১৫ই মে ২২ বছর বয়সী এই হারমান তার বাড়ির সামনে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় তিনি তৎক্ষণাৎ তার মাথার পাগড়ি খুলে কাপড়টি ছেলের আঘাতপ্রাপ্ত মাথায় পেচিয়ে দেন। এতে তার রক্ত পড়া কমে যায়।


অনলাইনে তার এ কাজটি ছড়িয়ে পড়ার পর সবাই তার প্রশংসা করতে থাকে এবং নিউজিল্যান্ডের ওয়ান নিউজ থেকে একজন তার সাক্ষাৎকার নিতে আসে। তার সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করলে দর্শকরা হারমানের বাড়ি দেখে বিস্মিত হয়। তার বাড়িতে আসবাব বলতে কিছুই ছিলো না। তার ঘরে শুধু কিছু প্লাস্টিকের চেয়ার ছিলো। এমনকি ছিলো না কোনো শোবার খাটও। সে মাটিতে শুয়েই ঘুমাতো।

এরপরে টিভি চ্যানেলটি আরেকটি রিপোর্ট করে। এসময় তার এই খ্যাতি কেমন উপভোগ করছে জিজ্ঞাসা করলে সে খুব বিনয়ের সাথেই তার খ্যাতির বিষয়টি প্রত্যাখান করে এবং জানায় সে মোটেও কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি নয়।

হারমান বলেন, “আমি আসলে বিশেষ কিছুই করিনি। সে অবস্থায় আমার যা করা উচিত ছিল আমি তাই করেছি। আমার স্থানে অন্য যে কেউ থাকলে হয়তো তাই করতেন।”

কিন্তু দ্বিতীয় সাক্ষাতকারের মাঝামাঝি তাকে দারুণ এক সারপ্রাইজ দেয়া হয়। তাকে তার ঘর সাজানোর জন্য বেশকিছু ফার্নিচার উপহার দেয়া হয়। একটি স্থানীয় ফার্নিচার দোকানের সঙ্গে মিলিত হয়ে তাকে এ উপহার দেয় টিভি স্টেশনটি।

উপহার পাওয়ার পর আবেগে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন হারমান। তবুও নিজে বিনয় ধরে রাখেন তিনি। বলেন এটিই তার জীবনের সেরা সারপ্রাইজ।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২৬ মে ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com