পরিবার রেখে বাংলাদেশি এক বিজ্ঞানীকে ডিপোর্ট করতে যাচ্ছে ইউএস ইমিগ্রেশন

মঙ্গলবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

পরিবার রেখে বাংলাদেশি এক বিজ্ঞানীকে  ডিপোর্ট করতে যাচ্ছে ইউএস ইমিগ্রেশন

হানিফ সিদ্দিকী ,লস অ্যাঞ্জেলসঃ  স্ত্রী এবং তিন ছেলেমেয়েকে রেখে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সৈয়দ আহমেদ জামালকে ডিপোর্ট করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে আমেরিকার ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা Immigration and Customs Enforcement বা সংক্ষেপে ICE .গত ৩০ বছর ধরে ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের লরেন্স সিটিতে পরিবার নিয়ে বসবাসরত করত্বন । পেশায় বিজ্ঞানী ৫৫ বছর বয়স্ক সৈয়দ আহমেদ জামালকে লরেন্সে তাঁর বাড়ির সামনে থেকে আইসিই গ্রেফতার করে গত ২৪ জানুয়ারি সকালে । তখন ছেলোমেয়েদেরকে স্কুলে নিয়ে যাবার জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন তিনি ।

আইসিই বলেছে , ইমিগ্রেশন জাজের রায় লংঘন করে বেঅইনীভাবে এদেশে অবস্থান করার কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । তিনি এখন ডিপোর্টেশন সেন্টারে আইসের হেফাজতে আছেন । আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে তাঁকে নিজ জন্মভূমি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবার প্রস্তুতি চলছে। গত তিন দশক ধরে এদেশে বসবাসরত জনাব জামাল এদেশ থেকেই বিজ্ঞানে নিয়েছেন আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী । সভ্য, রুচিশীল ভদ্রলোক এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ববান ব্যক্তি হিসেবেই সবাই তাঁকে জানে ।


তাঁদের তিন সন্তানের সবাই এদেশে জন্ম নেয়া আমেরিকান সিটিজেন । এখন তাঁর স্ত্রীর আশংকা, পরিবার তাঁকে হয়তো আর কোনদিন দেখতে পাবে না । একই আশংকা তাঁর সন্তানদেরও । “ আমার বাবা একজন আগাগোড়া ভাল মানুষ । কখনো কারো ক্ষতি করেন নি ।” মেয়ে নাহিন কাঁদতে কাঁদতে বললো । বডছেলে বললো, “ বাবা হলেন একজন পরিবার অন্ত:প্রাণ মানুষ ।”সৈয়দ জামালকে ডিপোর্ট না করে এদেশে থাকতে দেবার জন্য একটি অনলাইন পিটিশন খোলা হয়েছে যাতে স্বাক্ষর পড়েছে ৮০০০টি । সবাইকে এই পিটিশনে স্বাক্ষর করার জন্য পরিবার এবং বন্ধু বান্ধবদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে ।পিটিশনে তাঁকে একজন পরিবার অন্ত:প্রাণ , সামাজিক মানুষ ও বিজ্ঞানী বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।

Jamalআইসিই এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে  জামাল যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার শর্ত ভঙ্গের কারণে নিজ দেশে ফিরে যাবার জন্য দেয়া মার্কিন আদালতের দেয়া রায় লংঘন করে এদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন । এবিসি টিভিকে দেয়া আইসের বিবৃতি অনুযায়ী জনাব জামাল ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে টেম্পরারি নন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন । কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষেও অনেকদিন ওভারস্টে করেন । ফলে একজন ফেডারেল ইমিগ্রেশন জাজ তাঁকে ১২০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন আমেরিকা ছাড়ার ।

তিনি আদালতের নির্দেশ মেনে দেশে ফিরে যান । তবে তিনমাস পরে আবারো একই ভিসা নিয়ে আমেরিকায় পরিবারের কাছে আসেন । আবারো ভিসার মেয়াদ শেষে ওভারস্টে করেন । সে কারণে আবারো ফেডারেল ইমিগ্রেশন জাজ তাঁকে ১২০ দিনের সময় সীমা বেঁধে দিয়ে আমেরিকা ছাড়তে বলেন । কিন্তু এবার তিনি ফিরে যান নি । আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে থেকে যান । আদালতের কাছে এব্যাপারে রিপোর্ট দাখিল করা হলে আদালত ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে ধরে আমেরিকা থেকে বের করে দিতে ইমিগ্রেশনকে নির্দেশ দেন । সেই থেকে তিনি আইসিই এর কালো তালিকাভুক্ত হন এবং তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে তারা । এরই ধারাবাহিকতায় এবার তাঁকে ধরা হয় ।

২০১১ সালে একবার জামালের ভিসা বাতিল হলে বিচারক তাকে স্বেচ্ছা প্রস্থানের নির্দেশ দেন। কিন্তু পরে তাকে নজরদারিতে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি দেয়। ওয়ার্ক পারমিট রক্ষা করতে প্রতিবছর আইসিই’র কাছে রিপোর্ট করার ভিত্তিতে তাকে থাকতে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন অভিবাসননীতিতে নজরদারিতে থাকার ওই নিয়মে দেশটিতে বসবাসরত অভিবাসীদের ওপর খড়গহস্ত হন। ২৫ লাখ মার্কিন অভিবাসী এ শ্রেনীতে পড়েন। তাদের ৮০ শতাংশ কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।

শনিবাবের চিঠি / আটলান্টা/ ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:০০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com