পরকীয়া সন্দেহে স্বামীর অণ্ডকোষ নিয়ে টানাহেঁচড়া

বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৭

পরকীয়া সন্দেহে স্বামীর অণ্ডকোষ নিয়ে টানাহেঁচড়া

 

অমিতাভ বিশ্বাস,তেহট্ট, ভারতঃ টানা ৪৫ বছরের সংসার। তবুও স্ত্রীর সন্দেহ নিজের মানুষটি বুঝি নিজের নয়। তাঁর প্রতি মন নেই অথচ পাড়ার মেয়েদের সঙ্গ বেশ ঠাট্টাতামাশা। বুড়ো বয়সে ভীমরতি!


তারপরেও ‌সত্তরোর্ধ্ব স্বামীর মন জয়ের কম চেষ্টা করেননি ষাটোর্ধ্ব স্ত্রী। তাঁদের ৪৫তম বিবাহবার্ষিকীর প্রস্তাব দিয়েছিলেন বুড়ো বরকে। সে প্রস্তাব হেলায় ঠেলতেই স্ত্রীর সন্দেহ গাঢ় হয়। নজর রাখেন স্বামীর চলাফেরায়। তা নিয়ে বেশ কয়েকদিন মনকষাকষিও চলছিল। সোমবার সেই কথা কাটিকাটি থেকেই স্ত্রী রাগের বশে ঝাঁপিয়ে পড়েন বৃদ্ধ স্বামীর ওপর।

ঘটনাটি ঘটেছে তেহট্টের বেতাই এসআই অফিসপাড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, সোমবার রাতে বৃদ্ধ ঝন্টু বিশ্বাস বাড়িতে ঢোকামাত্র তাঁর স্ত্রী ফুলমালা বিশ্বাস বৌমার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক আছে, এই সন্দেহে অকথ্য ভাষায় তাঁকে গালিগালাজ করতে থাকেন। বচসা ক্রমে চরম আকার ধারণ করে।

তারপরেই আচমকা স্বামী ঝন্টুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন স্ত্রী ফুলমালা। ঝন্টুর অণ্ডকোষটি দু’হাতে চেপে ধরে টেনে ছিঁড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি। ঝন্টুর অণ্ডকোষ বেয়ে রক্তের ধারা বইতে থাকে। পরিত্রাহি চিৎকার জুড়ে দেন তিনি।

ঝন্টুর তুমুল চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাঁকে বাড়ি থেকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে এবং পরে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। ঝন্টুর অণ্ডকোষে আঘাতের জায়গায় মোট পাঁচটি সেলাই পড়ে। প্রতিবেশীরাই পুলিসে খবর দেন। পুলিস এসে স্ত্রী ফুলমালাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে অবশ্য স্বামী ঝন্টুই ফলমালাকে পুলিসের হাত থেকে চাড়িয়ে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু তাতে এলাকায় চাঞ্চল্য চাপা থাকেনি। দিনভর বিষয়টি নিয়ে জোরা আলোচনা চলছে।

ঘটনাচক্রে, পুলিসের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকারই করেছেন প্রৌঢ়া ফুলমালা। পুলিস সূত্রের খবর, তিনি থানায় গিয়ে বলেছেন, ‘‌বহুদিন থেকেই আমার স্বামী পাড়ার অন্য মেয়েদের দিকে তাকাতেন। অন্যদের সঙ্গে নিয়মিত ঠাট্টাতামাশা আর রঙ্গ–রসিকতা করলেও আমার দিকে নজর দিতেন না। বিয়ের প্রথমদিকে উনি আমাকে খুব ভালবাসতেন। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, তত উনি আমার থেকে দূরে চলে যাচ্ছেে। আমার দিকে ফিরেও তাকান না এখন। কিন্তু আমার দিকে নজর না দিলেও উনি অন্য মেয়েদের দেখলে আপ্লুত হয়ে যান।’

ফুলমালার পুলিসের কাছে আরও বক্তব্য, ‘খুব শখ করে বেশ কয়েকবার আমাদের বিবাহবার্ষিকী পালন করার কথা ওঁকে বলেছি। কিন্তু সেকথা তুললেই উনি বলতেন, আর সময় নেই। শ্মশানে গিয়েই আমাদের বিবাহবার্ষিকী পালন হবে।’‌

পক্ষান্তরে, বৃদ্ধ ঝন্টুর পাল্টাঅভিযোগ, ‘‌আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে প্রায় খারাপ ব্যবহার করে। অকারণে আমাকে সন্দেহ করে। পাড়ার মেয়েদের নিয়ে তো বলতই। এমনকী, আমাদের বৌমাকে জড়িয়েও কুকথা বলতে ছাড়েনি।  যা শুনে পাড়ার লোকেরাও খুব হাসাহাসি করত।’

নিজের তরফে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ঝন্টু বলেন, ‘সোমবার রাতে ওইসমস্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি চলতে চলতেই আমার স্ত্রী আচমকা আমার অণ্ডকোষটি ধরে টানাটানি শুরু করে। অনেক চিৎকার–চেঁচামেচি করার পড়ে যখন সে আমার অণ্ডকোষ ছাড়ে ততক্ষণে সেখান থেকে অনেক রক্তপাত হয়ে গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর আমি মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ি ফিরেছি।’‌

বিশ্বাস দম্পতির প্রতিবেশী সুলেখা বারুই বলেন, ‘‌ওই মহিলা বিভিন্ন সময়েই বিভিন্নভাবে বৃদ্ধ স্বামীকে মানসিক নির্যাতন করতেন। কিন্তু সোমবার উনি যেটা করেছেন, সেটা খুব লজ্জার। যে কারণে আমরা গ্রামের কেউ বিষয়টা মেনে নিতে পারিনি। তাই গ্রামের তরফে ওই বৃদ্ধাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য সটান পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। যাতে ভবিষ্যতে তিনি এমন কাজ আর না করতে পারেন।’

বিশ্বাস দম্পতির তিন ছেলের প্রত্যেকেই কাজের জন্য বাইরে থাকেন। তাই বৌমার অভিযোগক্রমেই পুলিস ফুলমালাকে আটক করে। তিনিও থানায় গিয়ে নিজের বক্তব্য খোলাখুলি জানান।
তবে শেষপর্যন্ত সেই স্বামী ঝন্টুই চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে থানায় গিয়ে স্ত্রী ফুলমালাকে সসম্মানে এবং সাদরে বাড়িতে নিয়ে যান। ‌‌‌

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ ২৬ অক্টোবর , ২০১৭

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৭

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com