নড়াইলের শুঁটকির ভারত জয়

সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

নড়াইলের শুঁটকির ভারত জয়

উজ্জ্বল রায়, নড়াইলঃ নড়াইলের দেশি পুঁটি মাছের শুঁটকি এখন রফতানি হচ্ছে ভারতে। এক যুগ আগে শুধু স্থানীয় বাজারের জন্য কিছু শুঁটকি তৈরি হলেও দেশের বাইরে বাজার তৈরির একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এটি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এ বছর তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মন শুঁটকি উৎপাদন হবে।

এ বাণিজ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান, সচ্ছলতা ফিরেছে শতাধিক পরিবারে। বিস্তারিত উজ্জ্বল রায়ের রিপোর্টে, নড়াইল সদরের মাইজপাড়া ইউনিয়নের সোলুয়ার বিলের খালপাড়ে কল্যাণখালী গ্রামে গড়ে উঠেছে শুঁটকি পল্লী। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের মাচায় শুকানো পুঁটি মাছ। এখানে কাজ করছেন স্থানীয় নারী-পুরুষ। ব্যবসায়ীরা জানান, ভালো দামে ভারতে রফতানি হচ্ছে। শুঁটকি তৈরির খরচ কম হওয়ায় লাভও ভালো। এ কারণে দিন দিন বাড়ছে এ ব্যবসার পরিধি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সোলুয়া, আড়ংগাছাসহ কয়েকটি বিলে বিপুল পরিমাণে দেশী পুঁটি পাওয়া যায়। ১৩ বছর আগে কল্যাণখালী গ্রামের অলোক মালো প্রথম শখের বশে এ পুঁটির শুঁটকি তৈরি করে বাজারজাত শুরু করেন। সেই থেকে নড়াইলে শুঁটকি মাছের ব্যবসা শুরু। এখন প্রতি মৌসুমে মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও মাগুরা জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নড়াইলে এসে পুঁটি শুঁটকি তৈরি করেন। বিল থেকে মাছ সংগ্রহের সঙ্গে সরাসরি জড়িত স্থানীয় জেলেরাই। তারা জানান, প্রথমে হাটবাজার থেকে মাছ কিনে খালের পানিতে ধুয়ে বাঁশের মাচায় এক সপ্তাহ থেকে ১৫ দিন রোদে শুকাতে হয়। এরপর বস্তাবন্দি করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। কার্তিক থেকে শুরু করে পরবর্তী সাড়ে চার মাস পর্যন্ত এ ব্যবসা চলে। কল্যাণখালী গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী অলোক মালো জানান, গত বছর তিনি ২৫০ মণ পুঁটির শুঁটকি তৈরি করেছেন। এ বছর দুই মাস আগে থেকে মাছ শুকাতে শুরু করেছেন। ঢাকা, খুলনা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলার বেপারি এসে এ মাছ কিনে নিয়ে যায়। তারাই মূলত আকার অনুযায়ী মাছ বাছাই করে রফতানির জন্য প্রস্তুত করে। খয়রা ও অন্যান্য কিছু দেশী মাছও ভারতে রফতানি হয়। তবে পুঁটির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি বলে জানান এ ব্যবসায়ী। অলোক মালো আরো জানান, কাঁচা মাছ প্রতি মণ ৫০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকায় কিনে শুকানোর পর সাড়ে ৬ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা মণ বিক্রি করা হয়। মাগুরার ব্যবসায়ী মিরাজুল বিশ্বাস জানান, স্থানীয় কৃষকের কাছ থেকে ছয় মাসের জন্য জমি লিজ নিয়ে ১০টি মাচা তৈরি করে মাছ শুকান তিনি। কেমন লাভ হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি বছর কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। খরচ বাদে লাভ একেবারে খারাপ থাকে না। পুঁটি শুঁটকির চাহিদা দেশের চেয়ে ভারতে বেশি। ফলে লাভটা ভালোই হয়। প্রতি বছর এখানে আনুমানিক ৫ কোটি টাকার লেনদেন হয় বলে জানিয়েছেন ফরিদপুরের মুসা বেপারি।


শুঁটকি ব্যবসার প্রসারের ফলে স্থানীয় জেলেরাও লাভবান হচ্ছেন। তারা জানান, অনেক মাছ অল্প দামে বিক্রি করতে হতো। পুঁটি মাছ দ্রুত পচে যায়, এ কারণে অনেক সময় লোকসান হতো। কিন্তু এখন সব মাছ শুঁটকি পল্লীতে একবারে বিক্রি করা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে নড়াইল জেলা মত্স্য কর্মকর্তা হরিপদ মণ্ডল বলেন, প্রতি বছর নড়াইলের বিল, খাল ও বিভিন্ন নদী থেকে অনেক দেশীয় মাছ ধরা পড়ে। বর্তমানে এসব মাছ শুকানো হচ্ছে। রফতানি হচ্ছে ভারতেও। এরই মধ্যে ভারতে আমাদের এখানকার শুঁটকির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। একসময় নড়াইল জেলার শুঁটকি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করবে বলে তার প্রত্যাশা।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:০০ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com