ন্যাশভিলের বাঙালিরা কেমন আছেন ?

মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

ন্যাশভিলের বাঙালিরা কেমন আছেন ?

 

Te Fশনিবার রিপোর্টঃ  যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে রাজধানী ন্যাসভিল । যুক্তরাষ্ট্রে সর্বত্র এখন বাঙালি অর্থাৎ বাংলাদেশিদের পদচারণা। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা বাংলা প্রেসের সম্পাদক জনাব সাবেদ সাথী গিয়েছিলেন টেনেসির ন্যাশভিলে । সেখানে বসাবাসরত কতিপয় বাংলাদেশিদের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাত করেন । তার সেই সাক্ষাতের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ শনিবারের চিঠির  পাঠকদের সৌজন্যে পত্রস্ত হলোঃ


বাংলাদেশিদের চেয়ে টেনিসিতে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা খুব ভালো অবস্থানে আছেন। তাঁরা নিজদের কর্মদক্ষতায় বয়ে এনেছেন দেশের সুনাম। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে উজ্জ্বল করে তুলেছেন বাংলাদেশের মুখ। অন্যান্য স্থানের মতো ন্যাশভিলের বাংলাদেশিরাও নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত। স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিবছর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসগুলো পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু এসব কর্মকান্ডের কোন খবর নিউ ইয়র্ক বা দেশের কোন মিডিয়াতে প্রচার পায় না।

 ন্যাশভিলে রয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ন্যাশভিল (ব্যান) নামের একটি সামাজিক সংগঠন। আমাদের এ প্রতিনিধি গত ৩১ জানুয়ারি টেনেসির ন্যাশভিলে গিয়ে সেখানকার বাংলাদেশি নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেছেন। তিনি বাংলাদেশিদের অবস্থা জানতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ন্যাশভিল (ব্যান) এর সাবেক সভাপতি ও ন্যাশভিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হকের কাছে। ড. জিয়াউল এ প্রতিনিধিকে জানান, ন্যাশভিলে প্রায় দেড়শত বাংলাদেশি পরিবার বাস করছেন। সেখানে মোট বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৬’শ জনের মতো। সকলেই ভালো পেশায় চাকুরি করছেন। তিনি নিজেও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অংকশাস্ত্রে অধ্যাপনা করছেন। তিনি বলেন, ন্যাশভিলে কাজের কোন অসুবিধা নেই। বাংলাদেশিরা খুব ভালো অবস্থানে আছেন। সবাই নিজেদের পেশায় মেধা ও কর্মদক্ষতা দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দেশের সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছেন।

ten 01ব্যান এর বর্তমান সভাপতি ও স্থানীয় নার্সিং ইন্সটিটিউটের ডীন সালামত হোসেন সুজন বলেন, টেনিসিতে কোন যে সকল বাংলাদেশি রয়েছেন সকলেরই কোন না কোন বিষয়ে রয়েছে কর্মদক্ষতা। বিশেষ করে ন্যাশভিলে অদক্ষ বাংলাদেশি নেই বললেই চলে। এখানে রয়েছেন চিকিৎসক, গবেষক, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও আইটি পেশার লোক। সবাই নিজ নিজ পেশায় বেশ সাফল্যতা লাভ করেছেন। তাঁদের স্ব স্ব দক্ষতা ও মেধায় র মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে দেশের সুনাম কুড়িয়েছেন।

মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে স্থানীয় জেমারেল মটরস কোম্পানীতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর এ প্রতিষ্ঠানে কাজের বেশ সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেখানে অন্য কোন বাংলাদেশি নেই। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ফোন কোম্পানী এটিঅ্যান্ডটিতে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন। গত ছয়মাস আগে তিনি ন্যাশভিলে এসে সেখানে বসবাস শুরু করেছেন। এর আগে তিনি একই পেশায় পার্শ্ববর্তী জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় কাজ করেছেন। সাইফুর রহমান সজীব জানালেন তিনি তিন বছর ধরে লাইফওয়ে ক্রিশ্চিয়ান রিসোর্স কোম্পানীতে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি প্রায় এক বছর পার্শ্ববর্তী মেমফিস শহরে ছিলেন। চাকুরি সূত্রে এক বছর আগে তিনি ন্যাশভিলে এসে বসবাস শুরু করেছেন। একই সাথে তিনি স্থানীয় বাংলাদেশি সংগঠনের নানা কাজেও সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন।

সালেহ আহমেদ ১২ বছর ধরে ন্যাশভিলের বাসিন্দা। কাজ করছেন স্থানীয় টেনেসি হাসপাতালের অধীনে টেনেসি মেন্টাল হেলথ ইন্সটিটিউটে কর্মরত আছেন। তিনি বলেন এর আগে তিনি কেন্টাকি ও মিজৌরি অঙ্গরাজ্যে কর্মরত ছিলেন।

সোলায়মান চৌধুরী হস্পিটাল কর্পোরেশন অব আমেরিকা (এইচসিএ) প্র্তিষ্ঠানে তিন বছর আইটি হিসেবে কাজ করছেন। ওহাইওর কলম্বাসে প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘ ১৭ বছর কাজ করেছেন। তিনি জানান, তার এইচসিএ কোম্পানিতে কোন বাংলাদেশি নেই। মানিয়া আবরার বাইরে কোথাও কাজ করছেন না। তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ন্যাশভিল (ব্যান) এর সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, ন্যাশভিলের বাংলাদেশি কমিউনিটি খুব ছোট হলেও এখানকার মানুষ অত্যন্ত ভাল মনের এবং আন্তরিক। তাদের সাথে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কাজ করে তিনি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। তিনি বলেন যা কিছুই করি সবকিছুই নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মাঝে সাংস্কৃতিক চেতনা তুলে ধরাই আমাদের পরিকল্পনা।

Ten 02বাংলাদেশি কমিউনিটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রাণখুলে কথা বলেলেন অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক, নার্সিং ইন্সটিটিউটের ডীন সালামত হোসেন সুজন, প্রকৌশলী সোলায়মান চৌধুরী, সালেহ আহমেদ, প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম, প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার সাইফুর রহমান সজীব ও ব্যান এর সাংস্কৃতিক সম্পাদক মানিয়া আবরার। ন্যাশভিলে পুরুষদের পাশাপাশি বাংলাদেশি মহিলারাও অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। তাঁরা কর্মরত আছেন বিভিন্ন পেশায়। এদের মধ্যে কথা হয়েছে নার্গিস ইউসুফ, শিরিন পারভিন, হ্যাপী, শিরিন আহমেদ, সেতু, ও রিতা তাহমিনার। তাঁরা জানান ন্যাশভিলে মহিলারাও ভাল পেশায় কাজ করছেন। টেনিসির ন্যাশভিল ছাড়াও জ্যাকসন সিটি,নক্সভিল, অ্যাশভিল, চ্যাটানোগা, জ্যাকসন ও মেমফিস শহরে কিছু সংখ্যক বাংলাদেশিরা বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। টেনেসিকে যুক্তরাষ্ট্রের দেশাত্ববোধক গানের (কান্ট্রি মিউজিক) কেন্দ্রস্থল বলা হয়ে থাকে।

বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরাঁ, বিমানবন্দর ও বিভিন্ন লোকসমাগমস্থলে দেশাত্ববোধক গানের শিল্পীদের সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশনের দৃশ্য দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় অনেক সঙ্গীতশিল্পীদের জন্মস্থান টেনিসি। এখানে রয়েছে রক অ্যান্ড রোল, ব্লুস, কান্ট্রি ও রকাবিলী। এছাড়াও মেমফিস শহরে রয়েছে বেয়াল ষ্ট্রিট ব্যান্ড। এখানে জন্ম গ্রহন করেছেন বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ডাব্লিউ. সি. হ্যান্ডি। যিনি ১৯০৯ সালের তাঁর গানে আলোড়ন তুলেছিলেন। এছাড়াও টেনেসিতে জন্ম গ্রহন করা অন্যান্য শিল্পীরা হলেন এল্ভিস প্রেসলী। জনী ক্যাশ, কার্ল পারকিন্স, জেরী লী লুইস, রয় অরবিসন ও চার্লি রিচ। বিশ্বব্যাপী পরিচিত এ প্রজন্মের জনপ্রিয় সঙ্গীত তারকা মাইলী সাইরাসের জন্ম টেনেসির ন্যাশভিল শহরে। ন্যাশভিলে রয়েছে কান্ট্রি মিউজিক হল অব ফ্রেম অ্যান্ড মিউজিয়াম, মেমফিসে রক এন সৌল মিউজিয়াম, জ্যাকসনে রক এন বিলী মিউজিয়াম ও রকাবিলী হল অব ফ্রেম। টেনিসি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। ৪২ হাজার ১শ ৪৩ বর্গমাইলের এ অঙ্গরাজ্যের মোট জনসংখ্যা ৬৫ লাখ ৪৯ হাজার ৩শ ৫২জন (২০১৪ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী) যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি মধ্যে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে টেনেসির অবস্থানে ১৭তম। উত্তর সীমান্তে কেন্টাকি ও ভার্জিনিয়া, পুর্বে নর্থ ক্যারোলিনা, দক্ষিনে জর্জিয়া, আলাবামা ও মিসিসিপি এবং পশ্চিমে আরকানসাস ও মিজৌরি অঙ্গরাজ্য ।

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:২৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com