রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

ন্যাটো-রাশিয়ার সরাসরি সংঘাত মানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ : বাইডেন

শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২

ন্যাটো-রাশিয়ার সরাসরি সংঘাত মানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ : বাইডেন
প্রেসিডেন্টন্ট জো বাইডেন। ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে না বলে আবারও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে, তিনি সতর্ক করে বলেছেন—ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংঘাত মানে হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনে সেনা পাঠাবে না যুক্তরাষ্ট্র।


টুইটারে জো বাইডেন লিখেছেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ন্যাটোর সমস্ত শক্তি দিয়ে এবং দ্রুততার সঙ্গে আমরা ন্যাটোর প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষা করব।’

এ ছাড়া জো বাইডেন বলেন, ‘ইউক্রেনে আমরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াব না। ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংঘাত মানেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে শুরু।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগেও অনেক বার বলেছেন—রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো আশঙ্কা নেই।

সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে জো বাইডেন প্রশাসন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে তিন দিক থেকে হামলা শুরুর পর রুশ সেনারা এখন ধীরে ধীরে রাজধানী কিয়েভ ঘিরে ফেলছে। স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কিয়েভের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে আবার অগ্রসর হতে শুরু করেছে রুশ বাহিনী।

এর আগে কিয়েভ অভিমুখে যে লম্বা রুশ গাড়িবহর স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গিয়েছিল, সেটি আবার কিয়েভ শহরের প্রান্তে সংঘবদ্ধ হতে শুরু করেছে বলে এখন দেখা যাচ্ছে।

ইউক্রেনের সুমি শহর থেকেও রাশিয়ার একটি বহর কিয়েভের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করেছে।

প্রতিরক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউটের ড. জ্যাক ওয়াটলিং ধারণা করছেন, রুশ সেনাদের কর্মকাণ্ড থেকে মনে হচ্ছে, তারা কিয়েভে পুরোদস্তুর হামলার পরিবর্তে শহরটি অবরুদ্ধ করে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে, ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান শহর দানিপ্রোর ওপর হামলা শুরু করেছে রুশ বাহিনী। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম শহরটির ওপর রাশিয়া হামলা শুরু করল। ভারী শিল্পের জন্য বিখ্যাত এ শহরে রকেট কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে রুশ সেনাদের যাতায়াতের জন্যও কৌশলগতভাবে শহরটি গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া লুৎস্ক ও ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক শহর দুটির ওপর সারা রাত বোমাবর্ষণ করেছে রাশিয়া। আর, দক্ষিণের শহর মারিওপোল এখনও অবরুদ্ধ করে রেখেছে রাশিয়ার সেনারা।

তবে, ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলে রুশ সেনাদের গতি কমে গেছে। বেলারুশ থেকে আসা রাশিয়ার যে বিশাল সেনাবহর চেরনোবিল হয়ে দানিয়েপার নদের ওপর দিয়ে কিয়েভের দিকে আসছিল, তার গতি অনেক কমে গেছে। বহরটিতে জ্বালানি তেলের সংকট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে চেরনিহিভ শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে রুশ বাহিনী।

তবে, উত্তরে গতি কমলেও দক্ষিণ এলাকায় দ্রুত অগ্রগতি পাচ্ছে রুশ সেনারা। মারিওপোল শহরটি ঘিরে রেখেছে রুশ সেনারা। শহরটিতে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ আটকা পড়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সর্বশেষ কিছু তথ্য

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভ বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে তাঁর দেশ মধ্যস্থতা করতে পারে। তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বুলগেরিয়া শান্তি আলোচনার আয়োজন করতে পারে।

এদিকে, মারিওপোল থেকে বেসামরিক বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে আজ শনিবার আরেক দফা উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগে শহরটি থেকে প্রায় এক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, জাতিসংঘে কোনোরকম তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই রাশিয়া দাবি করেছে—ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের জীবাণু অস্ত্র চালানো হয়েছে। তবে, জাতিসংঘ বলেছে, এরকম কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।

আর, ইউক্রেন আশঙ্কা করছে—খুব শিগগরিই রাশিয়ার আগ্রাসনে যোগ দিতে পারে বেলারুশ।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com