নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছুক খালেদা জিয়া

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০১৫

নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছুক খালেদা জিয়া

 

ঢাকা: বিএনপি চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ‘সরকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে ইচ্ছুক খালেদা জিয়া।’


মঙ্গলবার দুপুরে খন্দকার মাহবুব তার চেম্বারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও তার কার্যাইলয়ে ফিরে আসার আশ্বাস পেলে আত্মসমর্পণ করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’

খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি সব সময়ই শ্রদ্ধাশীল। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি আমরা এখনো হাতে পাইনি, তারপরও যদি আদালতে যেতে এবং আত্মসমর্পণ করতে হয়, তাহলে তিনি (খালেদা জিয়া) আদালতে যেতে ইচ্ছুক। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও কার্যালয়ে ফিরে আসার আশ্বাস দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে দুইটি বিষয় আছে। একটি হচ্ছে বিচারিক আদালতের প্রতি আমরা অনাস্থার আবেদন করেছি। ব্যাপারটি উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এ আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারিক আদালত আইনগতভাবে ও নৈতিকতার দিক থেকে এই মামলার শুনানি করতে পারেন না। কারণ, তার বিপক্ষে তো আমরা অনাস্থা দিয়েছি। তার তো নৈতিকতার দিক আছে যে, আমার বিপক্ষে অনাস্থার আবেদন দিয়েছে, দেখি উচ্চ আদালত কী বলে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি অবরুদ্ধ । প্রতিদিন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতারা তার কার্যালয় ঘেরাও করে রাখছেন। এমনকি সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাড়ি ঘেরাও করেছিলেন সরকার। স্বাভাবিকভাবেই তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন।’

মাহবুব আরো বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে যদি একবার বের হন তাহলে তাকে জনবিচ্ছিন্ন করার জন্য তার কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে আমাদের মনে হচ্ছে। তারপরও আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পেলে এবং তার নিজ কার্যালয়ে ফেরত আসতে পারলে, স্বাভাবিক জীবন যাপন করার আশ্বাস পেলে খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পন করবেন।’

মাহবুব হোসেন অভিযোগ করেন, ‘এই মামলাটি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক।’

সম্প্রতি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পুরানো তিনটি মামলা সচলের জন্য দুদকের আবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চারিটেবল ট্রাষ্ট্রে কুয়েত থেকে টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। এখানে সরকারের কোনো টাকা নেই। কিন্তু সরকার খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য তার বিরদ্ধে এ মামলাসহ অনেক মামলা সচলের উদ্যোগ নিয়েছে।’

খন্দকার মাবুববের অভিযোগ, ‘ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে অনেক মামলা আছে কিন্তু সেগুলোর দিকে সরকারের নজর নেই। সরকারের নজর শুধু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। যেকোন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছেন।’

এরআগে ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

অপরদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় ৪ মার্চ তারেক রহমানকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ মামলার অপর আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

অপরদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় আরও একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

মাহবুব বলেন, ‘আগামীকাল বুধবার নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়ার হাজির হওয়ার কথা। আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বেগম জিয়ার ইচ্ছাও রয়েছে। তবে আদালতের যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে পর্যাপ্ত নিরাপাত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আমরা যারা খালেদার সিনিয়র আইনজীবী আছি তাদের আইনি বিষয়ে পরামর্শ করার ক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দিচ্ছে। আইনি পরামর্শ করার জন্য সিনিয়র আইনজীবী বিচারপতি টিএইচ খানের মোহাম্মদপুরের বাসায় গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। আমরা খালেদার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগও পাচ্ছি না। আমাদের বাধা দেয়া হচ্ছে।’

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৪ মার্চ ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com