নিজ শিশু হত্যাকারী মা নিজেকে বাঁচাতে সাজিয়ে ছিলেন খাদ্যে ‘বিষক্রিয়ায়’ মারা যাওয়ার নাটক

শুক্রবার, ০৪ মার্চ ২০১৬

নিজ শিশু হত্যাকারী মা নিজেকে বাঁচাতে সাজিয়ে ছিলেন খাদ্যে ‘বিষক্রিয়ায়’ মারা যাওয়ার নাটক

ঢাকা : সন্তানের কাছে মায়ের কোল সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। যে কোনো বিপদে পড়লে সন্তান প্রথমেই ছুটে যায় মায়ের কাছে। মা সান্ত্বনা দেয়াসহ সন্তানকে জীবন বাজি রেখে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। কিন্তু রামপুরার বনশ্রীতে ঘটলো ভিন্ন ঘটনা। যেখানে মায়ের কোলই হলো সন্তানের হন্তারক। নিজ হাতে আদরের ছেলে-মেয়েকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করলেন ‘মমতাময়ী’ মা। পরে অনুতপ্ত হলেন এবং কাঁদলেনও। আবার নিজেকে বাঁচাতে সাজালেন খাদ্যে ‘বিষক্রিয়ায়’ মারা যাওয়ার নাটক।

রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে দুই ছেলে-মেয়ে অরণি (১৪) ও আলভিকে (৬) হত্যার পর তাদের মা মাহফুজা মালেক জেসমিন অনুতপ্ত হন। সেই অনুশোচনা থেকেই দুই ছেলে-মেয়ের লাশের পাশে বসে কিছুক্ষণ কাঁদেন। এরপর শুরু করেন নিজেকে বাঁচানোর পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তার স্বামী আমান উল্লাহ আমানকে ফোন করে বলেন, অরণি ও আলভি কেমন যেন করছে। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।


পরে আমান উল্লাহর বাসায় আসতে দেরি হবে জেনে বোন মিলাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। কয়েকজনের সহায়তায় নিহত দুই ছেলে-মেয়ের নিথর দেহ নিয়ে যান স্থানীয় আল-রাজি হাসপাতালে। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর চিকিৎসক ময়না তদন্তের জন্য অরণি ও আলভির মরদেহ ঢামেক মর্গে পাঠায়।

হত্যাকারী জেসমিনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তরার র‌্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি জানান, খাদ্যের বিষক্রিয়ায় নয়, মা নিজেই তার দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়েই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন জেসমিন। ঘটনার দিন (২৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে অরণি ও আলভিকে তাদের শিক্ষিকা পড়িয়ে যাওয়ার পর মায়ের বেডরুমে ছেলে ঘুমিয়ে ছিল। জেসমিন তখন মেয়ে অরণিকে ডেকে নেন তার রুমে। বলেন তার সঙ্গে রেস্ট নিতে। এরপর মেয়ের গলায় তার (মা) উড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় অরণি বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। একপর্যায়ে মেয়ে খাট থেকে নিচে পড়ে যায়। এরপর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মা জেসমিন। মেয়েকে হত্যার পর ছেলে আলভিকে ঘুমন্ত অবস্থায়ই শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি।

ছেলে-মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর জেসমিন অনুতপ্ত হয়ে কিছুক্ষণ কান্নাকাটি করেন। পরে সন্তানদের বাবা আমান উল্লাহকে ফোন করে বলেন, ‘সন্তানরা কেমন যেন করছে। তাদের হাসপাতালে নিতে হবে। আমান উল্লাহর আসতে দেরি হবে জেনে ফোন দেন তার (মাহফুজা) বোন নিলাকে। পরে আমান উল্লাহর বন্ধুরা এসে দুই ছেলে-মেয়েকে উদ্ধার করে নিয়ে যান স্থানীয় হাসপাতালে। সেখান থেকে নেয়া হয় ঢামেক হাসপাতালে।

ওই সময় সন্তানদের ঘাতক মাহফুজা নাটক সাজিয়ে বলেন, ‘গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বিবাহবার্ষিকী ছিল। বাবা-মার ১৪তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে তারা বনশ্রীর ক্যান্ট চায়নিজ রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খান। খাওয়ার পর অবশিষ্ট অংশ সঙ্গে করে বাসায় নিয়ে আসেন। পরদিন ওই খাবার খেয়ে ভাই-বোন অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ‘বিষক্রিয়ায়’ মারা গেছে।’

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ মার্চ ০৪, ২০১৬

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৪ মার্চ ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com