নিউ ইয়র্কে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর নাম উল্লেখ না করায় মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০১৫

নিউ ইয়র্কে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর নাম উল্লেখ না করায় মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ

 

বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্কঃ নিউ ইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় অনুষ্ঠানের মাঝেই অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধারা। গত রবিবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে বাংলাদেশ সোসাইটি আয়োজিত মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতার মাধ্যম্যে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 


আলোচনা সভা শুরু হবার মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অনুষ্ঠানের আয়োজক বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে কেউ ভুলক্রমেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও সেক্টর কমান্ডারদের নাম উচ্চারন না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সম্মাননা গ্রহন করতে আসা প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধারা। এ সময় অনেকেই তাঁদের প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেন।

উপস্থিত সূধীমন্ডলীর একাংশ ছবিঃ সাবেদ সাথী

উপস্থিত সূধীমন্ডলীর একাংশ ছবিঃ বাংলা প্রেস

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটি প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেওয়ার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এটি সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৌরবের বিষয়। কিন্তু স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে আয়োজবৃন্দ কিংবা অনুষ্ঠানের সঞ্চালক একটিবারের জন্য হলেও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করাটা অত্যন্ত অপমান জনক। বঙ্গবন্ধু না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হত না। এ কথাটি সোসাইটির কর্মকর্তারা নিশ্চয়ই জানেন। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী, জাতীয় চার নেতা, বঙ্গবন্ধুর  পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষনাকারী জিয়াউর রহমান, সেক্টর কমান্ডার কিংবা কোন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম পর্যন্ত উচ্চারন করেননি ।  মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য এই নেতাদের কৃতজ্ঞতা জানাতে বাংলাদেশ সোসাইটির লজ্জা কোথায় ? তিনি বলেন,যদি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দিতে চান। তাহলে অবশ্যই যথাযথ মর্যাদায় তাঁদেরকেও সম্মান জানাতে হবে। আর তা নাহলে আমরা লজ্জিত হব। তিনি উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নিয়ে কেন লুকোচুরি করছেন। বাংলাদেশ সোসাইটিকে বৃহৎ সংগঠন হিসেবে দাবি করেন, অথচ নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত করবেন তা হয় না। এখানে কাউকে আপা কিংবা ম্যাডাম বলতে হয় না। কাউকে জী হুজুর করতে হয় না। তাহলে এত ভয় কীসের? 

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা খান মিরাজের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষন করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ইতিহাস বিকৃত কিংবা মুক্তিযোদ্ধার নামে কোন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করতে দেখলে শুধু প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধারাই নন যে কোন মুক্তিযোদ্ধাই লজ্জিত হবেন,এটাই স্বাভাবিক। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দিতে হলে আয়োজকদের আরও সচেতন হতে হবে। তবে এ ঘটনার জন্য অনেকেই সংগঠনের সা. সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদারের দুর্বল ও নিম্নমানের উপস্থাপনাকে দায়ী করেছেন।

অনুষ্ঠানে শুরুতে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সভাপতি আজমল হোসেন কুনু এবং সঞ্চালনাকরেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ ৪নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার মাহবুবুর রব সাদী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্রুকলীন বরো প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি ড্যাব ওয়াস্তি, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা মিরাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, খোরশেদ আনোয়ার বাবলু, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আজিজ, ষ্ট্রাষ্টি বোর্ড সদস্য এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি, সাবেক ষ্ট্রাষ্টি বোর্ড সদস্য আলী ইমাম সিকদার, সাবেক নির্বাচন কমিশনের সদস্য হাজী মফিজুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন, আজিমুর রহমান বোরহান, মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী, সাবেক সহসভাপতি আজহারুল হক মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সালু, ফখরুল আলম, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক কামাল, বর্তমান সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ফিরোজুল ইসলাম পাটোয়ারী, সোসাইটির সিনিয়র সহসভাপতি দেওয়ান মহিউদ্দিন, সহসভাপতি ফারুক হোসেন মজুমদার, সহসাধারণ সম্পাদক ওসমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এম.কে জামান, মুজাহিদুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবুল কালাম, গীতা পাঠ করেন নীল ভৌমিক, বাইবেল পাঠ করেন লিটন ফিলিফস। এরপর বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ৯/১১ নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। দ্বিতীয় পর্ব ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও সোসাইটির কর্মকর্তাদের পরিচিতি অনুষ্ঠান। এতে প্রায় অর্ধ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা ত্রেুষ্ট, সার্টিফিকেট তুলে দেন প্রধান অতিথি সাব সেক্টর কমান্ডার মাহবুবুর রব সাদী। মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান অতিথিকে সোসাইটির পক্ষ থেকে ত্রেুষ্ট তুলে দেন সোসাইটির কর্মকর্তাবৃন্দ। এ পর্ব পরিচালনা করেন কোষাধক্ষ মোহাম্মদ আলী।

তৃতীয় পর্বে মনিকা রায়ের পরিচালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন নীলা ড্যান্সের মালিক ও প্রশিক্ষক নীলা জেরীন, হিন্দোল সঙ্গীতালয়ের  ফটিক চৌধুরী, মনিকা রায় ও শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা। 

 

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ০১ এপ্রিল ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com