নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ সরকারের ১ম বর্ষ পূতি “গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকী” পালিত

মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০১৫

নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ সরকারের ১ম বর্ষ পূতি “গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকী” পালিত

 

A Leaugeনিউইয়র্কঃ  নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইস্ট্রস্ এর পালকি পার্টি সেন্টারে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ও ১৯টি সংগঠন এর সহযোগিতায় যৌথভাবে পালিত হলো ৫ই জানুয়ারী আওয়ামীলীগ সরকারের ১ম বর্ষ পূতি “গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকী”। কেক কেটে এদিনের শুভ ও গণতন্ত্রের দীঘ আয়ু কামনা করা হয়। শেখ হাসিনার সরকার-বারবার দরকার’ শ্লোগানে মুখরিত পরিবেশে যৌথ এই কমসূচীতে যে সকল সংগঠন অংশগ্রহন করেছে তারা হলো- মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র কমান্ড, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামীলীগ, যুক্তরাষ্ট্র কৃষকলীগ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী যুবলীগ, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামীলীগ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চ, আওয়ামী আইনজীবি পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র পেশাজীবি সম্মনয় পরিষদ, শেখ হাসিনা মঞ্চ, স্বাধীনতা চেতনা মঞ্চ, বঙ্গমাতা পরিষদ, যুব কমান্ড, বাংলাদেশ আওয়ামী ফোরাম, বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদ, বৃহওর চট্রগ্রাম আওয়ামী ফোরাম, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, স্বদেশ ফোরাম, আওয়ামী সমথক জোট ও ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ানেজ অব বাংলাদেশ জেনোমাইড ’৭১। বাংলাদেশ গৌরবময় একটি স্বাধীন গনতান্ত্রিক দেশ। দেশের গনতন্ত্রকে নস্যাৎ করার জন্য স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি-জামাত জোট ষড়যন্ত্র করে চলেছে। স্বাধীনতা-গনতন্ত্রের ইতিহাস এখনও তারা বিতর্ক করে চলেছে। গনতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই করতে পুরো জাতিকে জননেএী শেখ হাসিনার পিছে ঐক্য হওয়ার আহবান জানানো হয়।


এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন। রাষ্ট্রদূত মোমেন তার বক্তব্যে বিএনপির সাম্প্রতিক এক অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে গত এক বছরে ১.৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করার সুনির্দিষ্ট তথ্য হাজির করুন। তাহলে সরকার নিশ্চয়ই ঐ অর্থ পাচারকারী/দের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন। অন্যথায় ডাহা মিথ্যা বলে সস্তা পাবলিসিটির পাশাপাশি জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার দায়িত্ব একদিন আপনাদের নিতেই হবে।’ রাষ্ট্রদূত মোমেন বিভিন্ন পরিসংখ্যাণ উদ্ধৃত করে আরো বলেন, ‘এই যুক্তরাষ্ট্রে গত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৪৩৫ আসনের মধ্যে ১০৯টি আসনেই প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এরা সকলেই কংগ্রেসম্যান হিসেবে নিজ নিজ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসকেও কী অবৈধ বলা হচ্ছে?’১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪.৬% এর মধ্যে। পক্ষান্তরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন গত ৫ বছরের শাসনামলে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে ৬.২% এ দাঁড়িয়েছে অর্থাৎ বাংলাদেশে সুশাসন কায়েমের যে অঙ্গিকার ছিল সেটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ অনেক সুনাম কুড়িয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের শেষার্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘গ্লোবাল লিডারশিপ এওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে’-বলেন রাষ্ট্রদূত মোমেন। বাংলাদেশের বিশেষ একটি মহলের পক্ষ থেকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যায়ে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু সীমিত সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্বূ উন্নতি সাধনের কারণে ঐসব অপপ্রচারে কেউই আর কান দিচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মোমেন। বাংলাদেশের মিডিয়ায় উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রকৃত চিত্র খুব কমই উপস্থাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, ‘এখন সময় এসেছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। তাহলে কোন শক্তিই বাঙালি তথা বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা ব্যাহত করতে পারবে না।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরনবী কমান্ডার এবং পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সেক্রেটারী আশরাফুজ্জামান। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় আরো অংশ নেন ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর, গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, খুরশিদ আনোয়ার বাবলু, ফারুক হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার আসরাফুল হক, শরীফ সাহাবউদ্দীন, শওকত আকরব রিচি, এবি সিদ্দিক, আইরিন পারভিন, শাহীন আজমল, মুর্শেদা জামান,হাজী নিজামউদ্দিন, জাকারিয়া চৌধূরী,শাহনাজ মমতাজ, তারিকুল হায়দার চৌধূরী, বাহার খন্দকার সবুজ, স্বপন কমকার,আলী হাসান কিবরিয়া অনু, মোজাহিদ আনসারী, আবুল খায়ের,জালালউদ্দিন জলিল, কায়কোবাদ খান, হেলাল মাহমুদ, হিরু র্ভূইয়া, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার গিয়াসউদ্দিন, সাহদৎ হোসন, জসিম খান মিঠু, জাহাঙ্গীর হোসেন, টি মোল্যা,আমিনুল ইসলাম কলিন্স, মাসুদ হোসেন সিরাজী, দরুদ মিয়া রনেল, একরামুল হক সাবু, হারুনর রশিদ,ড্যানী, মঞ্জুরুল আলম বিটি, সাহাবউদ্দীন চৌধূরী লিটন,সুভন রায়, আতিকুর রহমান সবুব, এ, কে,এম শফিকুল আলম, জাহাঙ্গীর আলম,উলফত মোল্যা, দেলোয়ার মোল্যা, ও কামাল ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন যে, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সংবিধান ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন এবং তাই অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যাবস্থা গ্রহন করার দাবী করেন। একই কারণে লন্ডনে বসবাসরত ফেরার আসামী তারেক রহমানকেও ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারের দাবি করেন কয়েকজন বক্তা। বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনা যে পথে হাঁটছেন সেটিই বাঙালির চিরচেনা পথ এবং প্রবাসীদের অকুন্ঠ সমর্থন রয়েছে শেখ হাসিনার চিক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বের প্রতি। সভায় অংশগ্রহনকারীরা সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বিজয়-উল্লাসও করে দিনটি পালন করে।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:২২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com