নাসিরনগর ঘটনায় এবার পুলিশের মামলা

সোমবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৬

নাসিরনগর ঘটনায় এবার পুলিশের মামলা

শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দিরে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় এবার পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছে।

গতকাল রোববার রাতে এ দুটি মামলায় করা হয় বলে এ প্রতিনিধিকে  জানিয়েছেন নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর। তিনি জানান, দুটি মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের দেড়শ জনকে আসামি করা হয়েছে।


এর আগেও হামলার ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছিলেন।

গত ২৮ অক্টোবর (শুক্রবার) নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাস নামের এক যুবক পবিত্র কাবাঘরের ছবি সম্পাদনা করে ফেসবুকে পোস্ট করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার দিনভর নাসিরনগর সদর উত্তাল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পরের দিন রোববার উপজেলা সদরের কলেজ মোড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। সমাবেশ চলাকালে সদরের কয়েকটি মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িতে হামলা হয়।

ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কাজল দত্ত ও নির্মল দত্ত বাদী হয়ে গত ৩১ অক্টোবর (সোমবার) নাসিরনগর থানায় দুটি মামলা করেন। স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পুলিশ সদর দপ্তরের উদ্যোগে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ঘটনার তিনদিন পর এলাকায় যান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক। চারদিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেই নাসিরনগর উপজেলার পশ্চিমপাড়ার দুটি ঘর ও দক্ষিণপাড়ার তিনটি ঘরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। রাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে দুটি পাড়ার গোয়ালঘর ও রান্নাঘরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এরপর শুক্রবার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক আবুল হাশেমকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে জেলা আওয়ামী লীগ।

আজ রোববার পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত তিনদিনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৩ জনকে। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মোয়াজ্জেম আহমেদকে নাসিরনগর থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।সূত্রঃ এনটিভি

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / নভেম্বর ০৭, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com