নারীকে অপমান করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে

শনিবার, ২১ আগস্ট ২০২১

নারীকে অপমান করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে
নারীকে অপমান করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে

নারীদের অপমান আমি একদম সহ্য করতে পারি না। নারীদের আমি কখনও কষ্ট দিয়ে কিছু বলি না। তারা আঘাত পেতে পারে এমন কাজ থেকে আমি বিরত থাকি। তারপরও কখনও এমনটা ঘটলে আমি লজ্জিত হই, দুঃখ প্রকাশ করি। আমার স্ত্রীর সাথে যদি আমি কখনও রূঢ় হই তারপর আমার অনেক মন খারাপ থাকে। রাগের সময় হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। তবে আমি রাগ বেশিক্ষন ধরে রাখতে পারি না। পরমুহূর্তেই গলে যাই। তখন আশপাশ দিয়ে ঘুরঘুর করি। আমার মেয়ে অরিত্রির সাথে আমি রাগ করে খুব কমই কথা বলেছি। কখনও যদি বলেও থাকি, সাথে সাথে সরি বলে টেক্সট করেছি। অরিত্রিও রিপ্লাই দিয়েছে, ইটস ওকে বাবা। অরিত্রি যাই বলে আমি আনন্দের সাথে করি। এখনও আমি অপেক্ষায় থাকি কখন আমাকে কিছু বলবে, কিছু চাইবে। আমার নারী বন্ধু, নারী আত্মীয়দের সাথে আমি সবসময় নাইস থাকি। এমনকি আমি কোনো নারীকে কখনও তুই করেও সম্বোধন করি না। আমার দ্বিধা হয়। আমার ছোট ছোট নারী আত্মীয়দের আমি তুমি করে বলি।


আমি আসলে ছিলাম আমার মায়ের সন্তান। বেড়েও উঠেছি মায়ের স্নেহ ছায়ায়। আমার বাবা মারা যান আমার দুই বছর বয়সে। সেই থেকে মা ছিল আমার সব। আমার মেন্টর, আমার ফিলোসফার। মা লেখাপড়া জানতেন না ঠিকই কিন্তু অসাধারণ প্রজ্ঞা ছিল মায়ের। আমি দেখেছি স্বামীহীন আমার মা কি অনন্ত সংগ্রাম করেছেন আমাদের জন্য। বনে জঙ্গলে কচু ঘেঁটু জোগাড় করতে যেয়ে অনেকদিন হাত পা কেটে রক্ত ঝড়িয়েছেন। জিজ্ঞেস করলে বলতেন শামুকে পা কাটছে। কতদিন দেখেছি নিজের পাতের খাবার রেখে দিয়েছেন। কখনও আমাদের সাথে খেতে বসতেন না। আমাদের খাওয়া হলে একটা বাটিতে খাবার নিয়ে একলা চুপিসারে খেতেন। এর কারণ হচ্ছে মায়ের পাতে পর্যাপ্ত খাবার থাকত না। পেটও ভরত না হয়ত। একমাত্র মায়েরাই সন্তানের জন্য এমন উপোস দিতে পারেন। এই আধুনিক যুগেও, কানাডার মতো ধনাঢ্য দেশে থেকেও যেখানে আমার স্ত্রী ইনকাম করেন তাও দেখি খেতে বসলে ভাল ভালটা আমার পাতে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ঔদার্য্য, এই প্রেম একমাত্র নারীরাই দেখাতে পারেন, এমন স্বার্থ ত্যাগ করতে পারেন।

সেই নারীদের অপমান আমার সহ্য হয় না। নারীর লাঞ্চনা কখনও একটা জাতিকে বড় করবে না। কানাডা এতো মহান দেশ এই কারণে যে, এখানে নারীর মর্যাদা সবার উপরে। বাংলাদেশের একজন অসহায় নারীকে নিয়ে যা ঘটছে তা অবিশ্বাস্য। তার নাম পরী মনি। এর আগেও ১৩ আগষ্ট আমি পরী মনিকে নিয়ে লিখেছি। নারীর লাঞ্চনা বন্ধ করার জন্য বলেছি। সেই লেখা পড়ে কতিপয় বিকৃত মানসিকতার পুরুষ আমাকে যাচ্ছেতাইভাবে আক্রমন করেছে। নারীর লাঞ্চনা অনেক পুরুষকে আনন্দিত করে। অনেকে পুলক অনুভব করে। নারীকে রেপ করা, হত্যা করা, নির্যাতন করা, সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা এঁদের পক্ষেই সম্ভব। তবে আনন্দের কথা প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ নারীর লাঞ্চনার বিরুদ্ধে।

পরী মনিকে বার বার রিমান্ডে নিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে, জেল হাজতে পুরে রাখা হয়েছে কেনো? পরী মনি কয়টা খুন করেছে আমার জানতে ইচ্ছে করে! কত হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে! তাকে কেনো জামিন দেওয়া হয় না! পরী মনি তো কারো কন্যা, কারো বোন কারো প্রেয়সী। যারা এই খেলা খেলছে তাদের ঘরেও নারী আছে। পরী মনি একজন শিল্পী। শিল্পীর এই অপমান বেদনার! অনেক বেদনার। পরী মনি আমার কেউ না। সে বাংলাদেশের একজন নারী। তার প্রতি সুবিচার করুন। নারীকে অপমান করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে জেনে রাখুন।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:৫৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২১ আগস্ট ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com