নজরুলের কবিতা থেকেই বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা স্লোগান নিয়েছিলেন — প্রধান মন্ত্রী

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০১৫

নজরুলের কবিতা থেকেই বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা স্লোগান নিয়েছিলেন — প্রধান মন্ত্রী

ঢাকাঃ শোষণ বঞ্চনা মুক্ত একটি সুখী সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্বপ্ন পূরণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জাতির জনকের ভরাট কণ্ঠ এবং নজরুলের গান জাতিকে স্বাধীনতা লাভের জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা থেকে বঙ্গবন্ধু ‘জয়বাংলা’ স্লোগানটি বেছে নিয়েছিলেন। গতকাল সোমবার কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, নজরুল ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ইমেরিটাস প্রফেসর রফিকুল ইসলাম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম বাহাউদ্দিন বাহার। স্মারক বক্তৃতা করেন অধ্যাপক শান্তনু কায়সার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় প্রতিভার নাম কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে তার অবদান অসামান্য। নজরুলের জন্ম হয়েছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু তিনি তার কবি প্রতিভার বিকাশের জন্য প্রচুর রসদ পেয়েছেন এ দেশের মাটি ও মানুষের কাছ থেকে। বাংলাদেশের মাটি আর মানুষের সঙ্গে ছিল তার নিবিড় এবং আত্মিক সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরুলের জীবনে কুমিল্লা বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছিল। তিনি তার জীবনের বিশেষ একটা সময় অতিবাহিত করেন কুমিল্লায়। ১৯২১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি প্রথম কুমিল্লায় আসেন। এরপর ১৯২৪ সাল পর্যন্ত ৫ বার এসেছেন এবং মোট প্রায় ১ বছর কাটিয়েছেন কুমিল্লায়। সবচেয়ে বড় কথা তিনি কুমিল্লার মেয়ে আশালতা সেনগুপ্তা প্রমিলাকে বিয়ে করেন। এই কুমিল্লাতেই ছিল কবির মানসপ্রিয়া নার্গিস। তিনি বলেন, দোলনচাপা, অগ্নিবীনা, ছায়ানট, ঝিঙ্গেফুল, পূবের হাওয়া প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের অনেক কবিতা তিনি এখানে বসে লেখেন। কুমিল্লা তাকে আগুনের পরশমনি দিয়েছিল। আর সে জন্য তিনি বাজাতে পেরেছিলেন অগ্নিবীনা। ‘আনন্দময়ীর আগমন’ কবিতার জন্য কবিকে কুমিল্লা থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।


তিনি বলেন, পরাধীন ভারতের এক অস্থির সময়ে কবি নজরুলের জন্ম। পরাধীনতার শৃঙ্খল তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। একইসঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার, নারীর প্রতি বৈষম্য এবং শোষণের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্ছার। তার লেখনীতে আমরা তাই যেমন নারী-পুরুষের সম-অধিকারের কথা পাই, তেমনি পাই কুলি-মজুর, কৃষকসহ বাংলার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ব্যথা-বেদনার কথা।

শেখ হাসিনা বলেন, অতি সাধারণ পরিবারে নজরুলের জন্ম। কঠিন বাস্তবতা আর দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে তিনি বেড়ে উঠেছিলেন। জীবিকার জন্য কিশোর বয়সেই তাকে উপার্জনে নেমে পড়তে হয়েছিল। ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুরে অবস্থানকালে রুটির দোকানে কাজ করেছেন। অন্যের বাড়িতে লজিং থেকে পড়াশোনা করেছেন। অসম্ভব প্রতিভাধর কবি এখানে প্রথম হয়ে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু কোথাও তিনি একটানা বেশিদিন থাকতে পারেননি। তবে কঠিন জীবনসংগ্রাম তাকে দমাতে পারেনি। বরং তিনি খাঁটি মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন; অন্যকেও উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের অধিকারের কথা বলায় বৃটিশ শাসকগোষ্ঠী তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে। অপরদিকে ধর্মব্যবসায়ী ফতোয়াবাজদের মুখোশ খুলে দেয়ার কারণে ‘কাফের’ নামেও অভিহিত হয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্য বাঙালি জাতিকে আত্মশক্তিতে উদ্বুদ্ধ হওয়ার প্রেরণা যুগিয়েছে। পরাধীন ভারতের মুক্তি সংগ্রামের অগ্রসেনানী ছিলেন তিনি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার কবিতা ও গান সমগ্র বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমাদের শক্তি যুগিয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লড়াই ছিল একটি শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। নজরুলও একই আদর্শের পূজারী ছিলেন। তিনি আরো বলেন, নজরুলের একটি কবিতা থেকে বঙ্গবন্ধু ‘জয়বাংলা’ স্লোগানটি বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, জাতির জনকের ভরাট কণ্ঠ এবং নজরুলের গান জাতিকে স্বাধীনতা লাভের জন্য অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। এ সময় সকল ভেদাভেদ ভুলে নজরুলের চেতনায় সোনার বাংলা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় কবির স্বপ্ন অনুযায়ী সব ধরনের শোষণ বঞ্চনা মুক্ত একটি আলোকিত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২৬ মে ২০১৫ কাগজ প্রতিবেদক : শোষণ বঞ্চনা মুক্ত একটি সুখী সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্বপ্ন পূরণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জাতির জনকের ভরাট কণ্ঠ এবং নজরুলের গান জাতিকে স্বাধীনতা লাভের জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা থেকে বঙ্গবন্ধু ‘জয়বাংলা’ স্লোগানটি বেছে নিয়েছিলেন। গতকাল সোমবার কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, নজরুল ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ইমেরিটাস প্রফেসর রফিকুল ইসলাম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম বাহাউদ্দিন বাহার। স্মারক বক্তৃতা করেন অধ্যাপক শান্তনু কায়সার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় প্রতিভার নাম কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে তার অবদান অসামান্য। নজরুলের জন্ম হয়েছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু তিনি তার কবি প্রতিভার বিকাশের জন্য প্রচুর রসদ পেয়েছেন এ দেশের মাটি ও মানুষের কাছ থেকে। বাংলাদেশের মাটি আর মানুষের সঙ্গে ছিল তার নিবিড় এবং আত্মিক সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরুলের জীবনে কুমিল্লা বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছিল। তিনি তার জীবনের বিশেষ একটা সময় অতিবাহিত করেন কুমিল্লায়। ১৯২১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি প্রথম কুমিল্লায় আসেন। এরপর ১৯২৪ সাল পর্যন্ত ৫ বার এসেছেন এবং মোট প্রায় ১ বছর কাটিয়েছেন কুমিল্লায়। সবচেয়ে বড় কথা তিনি কুমিল্লার মেয়ে আশালতা সেনগুপ্তা প্রমিলাকে বিয়ে করেন। এই কুমিল্লাতেই ছিল কবির মানসপ্রিয়া নার্গিস। তিনি বলেন, দোলনচাপা, অগ্নিবীনা, ছায়ানট, ঝিঙ্গেফুল, পূবের হাওয়া প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের অনেক কবিতা তিনি এখানে বসে লেখেন। কুমিল্লা তাকে আগুনের পরশমনি দিয়েছিল। আর সে জন্য তিনি বাজাতে পেরেছিলেন অগ্নিবীনা। ‘আনন্দময়ীর আগমন’ কবিতার জন্য কবিকে কুমিল্লা থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, পরাধীন ভারতের এক অস্থির সময়ে কবি নজরুলের জন্ম। পরাধীনতার শৃঙ্খল তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। একইসঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার, নারীর প্রতি বৈষম্য এবং শোষণের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্ছার। তার লেখনীতে আমরা তাই যেমন নারী-পুরুষের সম-অধিকারের কথা পাই, তেমনি পাই কুলি-মজুর, কৃষকসহ বাংলার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ব্যথা-বেদনার কথা।

শেখ হাসিনা বলেন, অতি সাধারণ পরিবারে নজরুলের জন্ম। কঠিন বাস্তবতা আর দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে তিনি বেড়ে উঠেছিলেন। জীবিকার জন্য কিশোর বয়সেই তাকে উপার্জনে নেমে পড়তে হয়েছিল। ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুরে অবস্থানকালে রুটির দোকানে কাজ করেছেন। অন্যের বাড়িতে লজিং থেকে পড়াশোনা করেছেন। অসম্ভব প্রতিভাধর কবি এখানে প্রথম হয়ে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু কোথাও তিনি একটানা বেশিদিন থাকতে পারেননি। তবে কঠিন জীবনসংগ্রাম তাকে দমাতে পারেনি। বরং তিনি খাঁটি মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন; অন্যকেও উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের অধিকারের কথা বলায় বৃটিশ শাসকগোষ্ঠী তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে। অপরদিকে ধর্মব্যবসায়ী ফতোয়াবাজদের মুখোশ খুলে দেয়ার কারণে ‘কাফের’ নামেও অভিহিত হয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে নজরুলের সাহিত্য বাঙালি জাতিকে আত্মশক্তিতে উদ্বুদ্ধ হওয়ার প্রেরণা যুগিয়েছে। পরাধীন ভারতের মুক্তি সংগ্রামের অগ্রসেনানী ছিলেন তিনি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার কবিতা ও গান সমগ্র বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমাদের শক্তি যুগিয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লড়াই ছিল একটি শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। নজরুলও একই আদর্শের পূজারী ছিলেন। তিনি আরো বলেন, নজরুলের একটি কবিতা থেকে বঙ্গবন্ধু ‘জয়বাংলা’ স্লোগানটি বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, জাতির জনকের ভরাট কণ্ঠ এবং নজরুলের গান জাতিকে স্বাধীনতা লাভের জন্য অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। এ সময় সকল ভেদাভেদ ভুলে নজরুলের চেতনায় সোনার বাংলা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় কবির স্বপ্ন অনুযায়ী সব ধরনের শোষণ বঞ্চনা মুক্ত একটি আলোকিত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবারের চিঠি /আটলান্টা / ২৬ মে ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com