ধর্ষিতা

শনিবার, ২৭ জুন ২০১৫

ধর্ষিতা

মুহঃ শরীফ উল ইসলাম
মাতৃত্বের কাছে সতীত্বের পরাজয় হলো। সেলিনা বেগম সুঠাম দেহের ৩০ বছরের সুন্দরি মহিলা। তার বাড়ি ঘন গাছ গাছালিতে পরিপূর্ণ। অতি সন্নিকটে কোন প্রতিবেশী নাই। দুইটা ৩ ও ৫বছরের দুই ছেলেদের নিয়ে গাড় ঘুমে আছন্ন। গভীর রাতে দরজা ভাঙ্গার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। দেখতে পেল ঘরের ভিতর ৩ টা পুরুষ মানুষ। চোর বলে চিৎকার দেবার পূর্বেই তারা ধারাল অস্ত্র নিয়ে বাচ্চা দুইটার গলায় Litearture 01চেপে ধরল। কোনরূপ চিৎকার করবে না। চিৎকার করলেই তোর দুই ছেলের গলা কেটে ফেলব। ছেলেদের যদি বাঁচাতে চাও কোনরূপ চতুরতা না করে আমাদের কথামত কাজ কর। ঘরের টাকা  পয়সা গয়না গাঁটি  যা আছে জলদী আন। সন্তানদের জীবন সংশয়ে সেলিনা টাকা কড়ি গয়না গাঁটি যা ছিল সব চোরদের দিয়ে দিল। সব নিয়েও চোররা খুশি হল না।

হুঁকার দিয়ে বলল গায়ের কাপড় খুলে বিছানায় শুয়ে পড়। দেরী করলে বাচ্চাদের ছিন্ন মুণ্ডু দেখবি। বাচ্চাদের বাঁচাতে সেলিনা বেগম চোরদের দাবিমত নগ্ন হয়ে চোখ মুখ বুঝে বিছানায় শুয়ে পড়ল। প্রায় নিঃসাড় দেহ উত্তেজনার তিল মাত্র নাই, ধমনীর শিরা উপ শিরায় রক্ত প্রবাহ অর্ধেকে নেমে গেছে। চোর তিনটি পালাক্রমে তার দেহের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।


 সেলিনা বেগম মনে করল রাতের ঘটনা, কাক পক্ষীতেও কিছু জানে না। ঘটনা চাঁপা থাক। কাউকে কিছু বলিব না। কিন্তু ঘটনা চাপা থাকল না। পরের দিন স্থানীয় পত্রিকায় ছাপা হল। চুরি করতে এসে চোর  কর্তৃক গৃহ বধূ ধর্ষিত । কোথায়ও কোথায় ভিডিও ফুটেজ । সেলিনা বেগম ভেবেই পেল না, সাংবাদিকরা রাতের খবর জানল কিভাবে ?  ভিডিও ও বা করল কিভাবে। তবে কি তারা চোরের দোসর ? যারা জাতীর বিবেক তারা সংবাদটি গোপন না রেখে প্রকাশ করে সবাইকে জানিয়ে দিল একটি অসহায় অবলা নারী কিভাবে ধর্ষিত হল । অত্যন্ত সংগোপনে রাতের আঁধারে তিন চোর তাকে ধর্ষণ করে আর সাংবাদিকরা ১৬ কোটি মানুষের সামনে প্রকাশ্য আলোতে তাকে ধর্ষণ করল। হায়রে একাবিংশ শতাব্দীর সভ্যতা, হায় , হায় মিডিয়া !!

অগত্যা সেলিনা থানার দারস্থ হলো । থানার দারোগা সেলিনার রুপে মোহিত হয়ে গেল। তাকে তার রুমে একান্তে ডেকে বলল , এ কেসে তুমি নিজেই ফেঁসে যাবে। পুলিশ স্বামীর সম্পদ আত্মসাতের জন্য চোরের সাথে তোমার যোগ সাজগ আছে বলে তোমাকেই আটক করা হবে। আমাকে খুশি কর , এ যাত্রায় আমি তোমাকে বাঁচায়ে দিব। দারোগাকে খুশি করা মানেইত দারোগা কর্তৃক ধর্ষিত হওয়া । দারোগার হুমকি অজানা বিপদের  আশংকায় অসহায় নিরুপায় সেলিনা বেগম দারোগার কাছে নিজেকে সপে দিল । দারোগা কর্তৃক সে দ্বিতীয়বার ধর্ষিত হল।

সেলিনার স্বামী অনেকদিন হয় মধ্য প্রাচ্যের কোন এক দেশে চাকরি করে। তার কোন আত্মীয় স্বজন সচরাচর তার সাথে যোগাযোগ রাখে না কিন্তু এই ঘটনার পর তার নিকট ও দূরের আত্মীয় স্বজনেরা পত্রিকার কাটিং দিয়ে চিঠি লিখতে লাগল। কয়েকমাস পরে সে দেশে আসল। প্রথম প্রথম অযথা বউকে মারধর করত। পরে একদিন তিন তালাক উচ্চারণ করিয়ে যাহা পরনে ছিল তাহা দিয়াই বাড়ি থেকে বের করে দিল। এমন কি বিদায়ের  সময়ে বাচ্চা দুইটিকে দেখতে দেওয়া হল না। সেলিনা বেগম চিন্তা করতে লাগল সে এখন কোথায় যাবে ?  বাল্যের কথা মনে পড়তে লাগল । ৫ টা ছেলেরপর একমাত্র মেয়ে হওয়াতে সে ছিল বাবামায়ের অতি আদরের। অত্যাধিক আহ্ললাদের কারনে তার পড়াশুনা হয় নাই। সে ছিল রূপসী। সাজন গোজনের  কোন সরাঞ্জমের তার অভাব ছিল না। ছেলেরা তার পিছনে সব সময় ঘুরঘুর করত। এক সময় সেও আক্কাসের প্রেমে পড়ে গেল। বাপ মা ভাইবোনদের অমতেই সে তাকে  বিয়ে করে ফেলল। আক্কাসের ও কোন লেখাপড়া হয় নাই। বাবা মার আদরের মেয়ে হওয়াতে বাবামা তাদের বিয়ে মেনে নিল।

লেখাপড়া না জানা আক্কাসকে বাবা নিজ টাকা খরচ করে বিদেশে পাঠায়। বাবার কিনে দেওয়া জমিতে আক্কাস বাড়ি করেছে। আজ সে সেই বাড়ি থেকে বিতাড়িত।

বাবা মা আজ বেঁচে নাই। ভাইয়েরা বিয়ে শাদী করে যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তার ঘটনা সারা দেশে তোরপাড় করলেও একটা ভাইও তাকে দেখতে আসে নাই। যে আক্কাসকে সে বাবা মা ভাইদের অবাধ্য হয়ে বিয়ে করেছিল সেই ই তাকে ত্যাগ করতে পারল। ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে কোন মায়া মমতা অধিকার  তৈরি হয় নাই। তার তিলে তিলে গড়া সংসারে তার কোন অধিকার নাই। সে আজ নিঃস্ব।  ১৫ বছর ধরে তাহলে আক্কাস তাকে ভোগ করে আসছে। যে বিয়ে স্বামীর সম্পদে অধিকার দেয় না একবার তালাক উচ্চারণ করলেই সব কিছু থেকে বঞ্চিত করে সে বিয়ে সামাজিক বৈধতা নিয়ে ধর্ষণের আরেক নাম। সে এখন কোথায় যাবে ?  যে কলঙ্ক তার হয়েছে তা নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না। এ বেঁচে থাকা মানে বাকি জীবন সামাজিক ভাবে মানসিক ধর্ষণের শিকার হতে হবে।সে রেল লাইনের আসে পাশে ঘোরাফেরা করতে থাকল। ট্রেন আসতে দেখে সে ট্রেন লাইনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। দ্রুতগামী ট্রেনটি ধর্ষিতা ধর্ষিতা শব্দে তার উপর দিয়ে চলে গেল। লাল টক টকে রক্ত গড়িয়ে গেল রেল লাইন ধরে।

আটলান্টা, জর্জিয়া
২০ জুন ২০১৫

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২৭ জুন ২০১৫

বিদ্রঃ আমাদের সাইডে প্রকাশিত কোন আর্টিকেল পূর্বানুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৪:২৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৭ জুন ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com