দেশের বিভিন্ন জেলায় ফলে বিষ মিশায় ব্যবসায়িরা

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০১৫

দেশের বিভিন্ন জেলায় ফলে বিষ মিশায় ব্যবসায়িরা

 

ঢাকা: সাত জেলার ৭৬জন অসাধু ব্যবসায়ী ফলে ফরমালিনসহ বিষাক্ত রাসায়নিক মেশান। তাদের মধ্যে আড়তদার থেকে শুরু করে ছোট বড় ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে। সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।


ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ জেলার সাপাহার, পোরশা, বদলগাছী উপজেলায় এবং নাটোরের কিছু এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদনের পাশাপাশি সীমিত পরিসরে লিচুর চাষ করা হয়। সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া উদ্যানে ফসল হিসেবে আম, কাঁঠাল, লিচু ও কলা উৎপাদন করা হয়। পাবনার ঈশ্বরদীতে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ করা হয়। এসব অঞ্চলের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আম বাগান কিনে অধিক মুনাফার লোভে ফল পরিপক্ক হওয়ার আগেই গাছ থেকে নামিয়ে পাকানোর চেষ্টা করে। এ জন্য তারা হার্বেস্ট ও ইডেন নামে ওষুধ ব্যবহার করে।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বাংলামেইলকে বলেন,‘ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অসাধু ব্যবসায়ীদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে তাদের অপকর্ম বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাতটি জেলার পুলিশ সুপার এবং গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এটি যাচাই করবে। এরপর আইনগত পদক্ষেপ নেবে। ইতোমধ্যে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

সূত্র জানায়, ফলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশায় এমন কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে আট পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরা জেলার ৭৬টি প্রতিষ্ঠান ও ফল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তারা ফলে ফরমালিন ও কার্বাইড মিশিয়ে থাকেন।

বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোতে জড়িত রয়েছেন- রাজশাহী শহরের সাহেব বাজার এলাকার বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ, একই এলাকার কলাপট্টির অমর কলা ভান্ডার, সাহেব বাজারের মেসার্স জসি এন্টারপ্রাইজ, একই বাজারের আলিমুদ্দিন ফল ভান্ডার, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম বাজারের মানিক চান্দের আমের আড়ৎ, পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারের বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডার, একই বাজারের বাবর আলী ফল ভান্ডার, মা ফল ভান্ডার, শাহ মোহাম্মদের ফলের দোকান, বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডার, ভোলা ফল ভান্ডার, আজিজুল বারী মুক্তার ফলের আড়ৎ, রাজপাড়া থানার ব্যবসায়ী ওয়াজী হাজীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ফলে বিষাক্ত ক্যমিকেল মেশানোর আভিযোগ রয়েছে।

7_72729নাওগাঁর পোরশা থানার ফল ব্যবসায়ী আবদুস সামাদ, নিপাই ঋষি, আবদুল মতিন, মো. আরিফ, পালানো ঋষি, বাবুল ঋষি, ওমর আলী, আবদুস সামাদ, সিদ্দিকশাহ, আবদুল কাদের, জাহাঙ্গীর, ফরিদশাহ, মো. আনিস, সাপাহার উপজেলার কার্তিকসাহা, বিপুল সাহা, জাহাঙ্গীর আলম, এমদাদুল হক বাবু, জুয়েল রানা, শ্যামল সাহা, দীপক সাহা, শফিকুল, বাদলগাছী থানার হাশেমের ফলের আড়তে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো হয়।

বগুড়া স্টেশন রোডের মেরাজ এন্টারপ্রাইজ, বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডার, মুন এন্টারপ্রাইজ, তৌফিক ফল ভান্ডার, জ্যোতি ফল ভান্ডার, ব্যবসায়ী বেলাল, হান্নান, আশামনি ফল ভান্ডার, মৌ ট্রেডার্স, বাবলু, শিবগঞ্জের ফল ব্যবসায়ী আবদুস সালামের নাম রয়েছে তালিকায়।

পাবনা শহরের ফল ব্যবসায়ী আবদুল গফুর, মোতালেব, গোপাল চন্দ্র, আবদুল হান্নান, রমজান আলী, আবদুল মতিন ও মো. ইসলাম। সিরাজগঞ্জ সদরের ফল ব্যবসায়ী মো. জামাল হোসেন, শহীদুল ইসলাম, মজিবর শেখ, সোহরাব হোসেন, হেলাল শেখ, সাহেব আলীর নাম রয়েছে তালিকায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বাজারের মেসার্স সাথী ফল ভান্ডার, মেসার্স ইমরান ট্রেডার্স, মেসার্স লিপি এন্টারপ্রাইজ, মেজার্স সজিব ফল ভান্ডার, মতিন ফলের আড়ৎ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল স্টেশন বাজারের ফল ব্যবসায়ী মো. কাজেম আলী, মো. রফিক, ও জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ। সাতক্ষীরার সুলতানপুর বাজারের মেসার্স নাজিম ফল ভান্ডার, মল্লিক ভান্ডার, মোড়ল ভান্ডার, জয়েন্ট ফল ভান্ডার, আশা ভান্ডার, রওশন আলী ফল ভান্ডার, মেসার্স শারমিন ট্রেডার্স ও মানিক ফল ভান্ডারের নাম রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাছে থাকা আমের ছত্রাক নাশকের জন্য টিস্ট, স্কোর, ফলিকর ওষুধ ব্যবহার করা হয়। আবার আমের পচন রোধে এবং দীর্ঘদিন গাছে আম ধরে রাখার জন্য গাছে ডায়াফিন, অ্যাক্রোভিট ওষুধ ব্যবহার করেন কিছু চাষী। বাজারে আমের দর পতন হলে অথবা আম দেশের দূরে কোথাও পাঠাতে হলে এই বিষাক্ত ওষুধগুলো ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া আমের পচন রোধে ব্যবসায়ীরা ফরমালিন ব্যবহার করে থাকেন। আমসহ কিছু মৌসুমী ফল দ্রুত পাকানোর জন্য হার্বেস্ট ও ইডেন নামে ওষুধ ব্যবহার করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা কলা পাকানোর জন্য কার্বাইড, ধোয়া ও জাগ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। অন্যান্য ফলমূলে ক্ষতিকর ফরমালিন, কার্বাইডসহ অন্যনান্য রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়।

ওই প্রতিবেদনে আটটি সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাসায়নিকদ্রব্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রনণমূলক আইন করে রাসায়নিক দ্রব্য বিক্রিতে কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। রাসায়নিক পদার্থ শনাক্ত করার জন্য টেস্ট কিট সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কোন বাগান মালিক যাতে রাসায়নিক মেশাতে না পারে সে জন্য ঘন ঘন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যেতে পারে। লাইসেন্সবিহীন কোনো বিক্রেতা যাতে ফরমালিন বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের মাঝে মৌসুমী ফলে রাসায়নিক দ্রব্য মিশানোর কুফল সম্পর্কে আলোচনা সভা করা যেতে পারে। কোল্ড স্টোরেজের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো যেতে পারে এবং খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল রোধে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে। সুত্রঃ বাংলা মেইল

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২৪ জুলাই ২০১৫

 

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com