দেরিতে প্রশ্ন, কাঁদতে কাঁদতে ৫ ছাত্রী অজ্ঞান

মঙ্গলবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

দেরিতে প্রশ্ন, কাঁদতে কাঁদতে ৫ ছাত্রী অজ্ঞান

আবুল কালাম আযাদ, লক্ষ্মীপুরঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের এলএম মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে গতকাল  সোমবার পাঁচ এসএসসি পরীক্ষার্থী অচেতন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনায় অন্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষকদের (পরিদর্শকদের) অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে চার পরিদর্শককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।


পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট পর প্রশ্নপত্র বিতরণ করলেও অতিরিক্ত সময় না দেওয়ায় ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় পাঁচ ছাত্রী অচেতন হয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।

এলএম মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী ও নজরুল ইসলাম লিটনসহ বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, আজ সকাল ১০টায় এসএসসির বাংলা প্রথমপত্রের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পর রচনামূলক প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হয়।

ওই পরীক্ষাকেন্দ্রের একটি কক্ষের দায়িত্বরত পরিদর্শকরা অতিরিক্ত সময় না দিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে উত্তরপত্র নিয়ে যান।

Student 01এতে রায়পুর মার্চেন্টস একাডেমির পরীক্ষার্থী ছিদ্রাতুন বিন মুনতাহা এলমি, সেবিকা পাল, একা মজুমদার, রিসালাত জাহান মিম, তানজিনা সুলতানা, মেহেরুন নেছা, আলিফ, শান্তা, সিহাবসহ অন্তত ৩৫ জন পরীক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাদের মধ্যে পাঁচজন অচেতন হয়ে পড়ে। পরে অভিভাবকরা এলমি ও সেবিকাকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অচেতন হওয়ায় খবর শুনে অভিভাবকরা উত্তেজিত হয়ে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা ও অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় ওই পরীক্ষাকেন্দ্রের চার পরিদর্শককে পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এঁরা হলেন এলএম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক চন্দন, মৈত্রী স্কুলের মাহাবুব, মীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইউনুস ও কাজীর দিঘিরপাড়া স্কুলের পারভেজ।

সেই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত কমিটি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রের সচিব ও হল সুপারকে নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা কর্মকর্তা।

পরীক্ষা কেন্দ্রসচিব আবুল কালাম ও হল সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, ওই কক্ষের চার পরিদর্শক বেলের (ঘণ্টা) শব্দ না শোনায় প্রশ্নপত্র দিতে কিছুটা দেরি হয়। অতিরিক্ত সময় দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল কিন্তু পরিদর্শক এটা না বুঝে পূর্ব নির্ধারিত সময়ে উত্তরপত্র নিয়ে যান। এতে ওই কক্ষের ছাত্রছাত্রীরা হট্টগোল শুরু করে। পরে অভিভাবকরাও এসে জড়ো হয়। এ ঘটনায় ওই চার শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়েই অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আলম ও শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হল সচিব ও সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com