দিল্লি থেকে চুরি যাওয়া সোনু এখন যশোরে

শুক্রবার, ২৭ মে ২০১৬

দিল্লি থেকে চুরি যাওয়া সোনু এখন যশোরে

যশোর: ভারতের নয়াদিল্লির একটি বস্তির বাসিন্দা মেহবুব ও মুমতাজের দম্পতির ছেলে সোনু (১১) এখন আছে যশোরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। ছয় বছর আগে এক নারী তাকে চুরি করে নিয়ে আসে। এতোদিন পর তার বাবা-মায়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। ভারতীয় হাইকমিশন তাকে বাবা-মার কাছে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

ভারতীয় হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে যশোর পুলেরহাটে অবস্থিত কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোনুকে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে।


কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। পুলিশ আমাদের কাছে শিশুটিকে নিয়ে আসার পর আমরা তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি। পরে তার পরিবারকে খবর দেয়া হয়। তারা ইন্ডিয়ান অ্যাম্বাসিতে যোগাযোগ করেছে। আমরা এখন তাকে তার মা বাবার কাছে পাঠিয়ে দেব।’

এদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, শিশু সোনুকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশে আমাদের জয়েন্ট সেক্রেটারি সুপ্রিয়া রঙ্গনাথান এরই মধ্যে সোনুর বাবা মেহবুব ও মা মুমতাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা দাবি করছেন, সোনু বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। ঢাকায় আমাদের হাইকমিশনের কর্মকর্তারা যশোর সফর করবেন। সেখানে যশোরস্থ পুলেরহাট এলাকায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অবস্থান করছে সোনু। মেহবুব ও মুমতাজ দম্পতি সোনুকে তাদের সন্তান বলে দাবি করছেন। তাদের সঙ্গে সোনুর ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে মিলিয়ে দেখা হবে। যদি ডিএনএ পরীক্ষায় পজেটিভ রিপোর্ট আসে তাহলে বিলম্ব না করে সোনুকে ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

বৃহস্পতিবার যশোর পুলেরহাট কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে গিয়ে শিশু সোনু ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১০ সালে ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লি থেকে নিখোঁজ হয় সোনু। এক মহিলা তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এরপর সে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বরগুনা জেলায় এক বাড়িতে থাকতো। সেখানে তাকে দিয়ে বড় বড় কাজ করানো হত। এরপর সোনু সেখান থেকে পালিয়ে চলে আসে। পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সোনু। পুলিশ তাকে আদালতে পাঠায়। আদালত সেখান থেকে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠায়। এখানে সে ৫/৬ মাস রয়েছে। তাকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়েছে। ক্লাসে সবার মন জয় করে শ্রেণি অধিনায়কও নির্বাচিত হয়েছে সোনু। শিক্ষকদের প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়েছে সোনু।

যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন জানান, সোনুকে বরগুনার আদালত থেকে যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। নিরাপদ হেফাজত হিসেবে তাকে এখানে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জানা যায় তার বাড়ি ইন্ডিয়াতে। সে পাচারের শিকার হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। আমরা অনেক চেষ্টা করে তার অভিভাবকদের সন্ধান পেয়েছি। অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ভারতের দূতাবাস কর্মকর্তারা এসে তার তথ্য নিয়ে গেছে। তার প্রকৃত অভিভাবকদের কাছে হস্তান্ততর প্রক্রিয়া চলছে।

সোনু জানায়, তার বাড়ি ইন্ডিয়াতে। সেদিন (হারিয়ে যাওয়ার দিন) আমি বাড়িতে খেলাধুলা করছিলাম। এক মহিলা আমাকে চুরি করে নিয়ে আসে বাংলাদেশে। বরগুনায় ছিলাম। ওই মহিলা আমাকে দিয়ে মেলা কাজ করাতো। কষ্ট দিতো। এখন আমি ইন্ডিয়াতে আমার মা-বাবার কাছে যেতে চাই।

সোনু জানায়, তার বাবা গ্যারেজে কাজ করতো। আর মা সে সময় বাসা-বাড়িতে কাজ করতো। মা এখন কি করে সে জানে না।  তার সহপাঠিরাও জানায়, ওর বাড়ি ইন্ডিয়ায়। ওকে পুলিশ এখানে দিয়ে গেছে। ও আমাদের সঙ্গে ভালো আছে। খেলাধুলা করার পাশাপশি লেখাপড়াও করে। সোনুকে তার অভিভাবকদের কাছে ফিরিয়ে দেবার জন্য আমাদের স্যাররা চেষ্টা করছে।

কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র পরিচালিত পাঠশালার প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন জানান, ৫/৬ মাস আগে উন্নয়ন কেন্দ্রে আসে সোনু। আমরা জানতে পারি তার বাড়ি ভারতে। বাবা-মায়ের কাছ থেকে সে হারিয়ে গেছে। ছোট মানুষ হিসেবে তাকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়। পড়াশুনা করে। ক্লাসের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / মে ২৭,২০১৬

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৭ মে ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com