দিনাজপুরে ১১ শিশুর মৃত্যু, কারণ অজানা

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০১৫

দিনাজপুরে ১১ শিশুর মৃত্যু, কারণ অজানা

 

দিনাজপুর: জেলায় অজ্ঞাত কারণে অসুস্থ হওয়া ১২ শিশুর মধ্যে ১১টির মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. আব্দুল ওয়ারেস রোগটিকে অজ্ঞাত বলেছেন তবে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক প্রয়োগ করা লিচু খেয়ে এমনটি হতে পারে অনেকে সন্দেহ করছেন বিষয়টি নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছে কর্তৃপক্ষ


আইইডিসিআর গবেষক দলের দাবি,মৃত শিশুদের পরিবারগুলো দরিদ্র কারণে তারা পুষ্টিহীনতায় ভোগে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে লিচু বাগানের কীটনাশকের প্রভাব এবং পড়ে থাকা ফাটা লিচু শিশুরা কুড়িয়ে খেয়ে অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে

ঘটনার পর বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের পূর্ব সাদুল্ল্যাপাড়া গ্রামে কিটনাশকে মৃত শিশু মো. স্বপন আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাদের বাড়িটি লিচু বাগান বেষ্টিত বাড়ির চারপাশে প্রায় ২শ’ গাছের দুটি লিচু বাগান রয়েছে

মৃতের বাবা মো. রবি চাঁন বাংলামেইলকে জানান, ঘটনার দিন তার ছেলে খেলাধুলা করলেও অসুস্থ ছিল না রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করে প্রচণ্ড খিঁচুনি কাঁপুনি উঠলে সে চিৎকার করতে তাকে এরপর শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে অবস্থায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতেই সে মারা যায়

মুত স্বপন আলীর সহপাঠী গোলজার আলীর ছেলে মো. মাসুদ জানায়, তারা সারাদিন লিচু বাগানে খেলা করে এবং সেখানে পড়ে থাকা লিচু খেয়েছিল

একই এলাকার ধুলট দাসপাড়া গ্রামের গজেন চন্দ্র দাস জানান, তার একমাত্র সন্তান ফুল কুমারের প্রচণ্ড খিঁচুনি কাঁপুনি উঠলে সে চিৎকার করতে শুরু করে এরপর তার শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে অবস্থায় প্রথমে তাকে দিনাজপুর সদরের অরবিন্দু শিশু হাসাপাতালে ভর্তি করা হয় সেখানে একদিন থাকার পর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর সে মারা যায়

লিচু গাছে কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে

লিচু গাছে কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে

গজেন দাস আরও জানান, তিনি লিচু বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন কাজ শেষে বাড়িতে ফেরার পথে সন্তানের জন্য কিছু লিচু নিয়ে আসেন লিচু বাগানে কাজ করার সময় মালিক বিষ প্রয়োগ করেন ব্যবহারের পর বাগান মালিক বিষের প্যাকেট বোতলগুলি লুকিয়ে রাখেন

ব্যাপারে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা . আবুল কালাম আজাদ জানান, ধরনের অভিযোগ তারা পেয়েছেন সম্ভবত ভারত থেকে চোরাই পথে এসব বিষ এনে ব্যবহার করা হয় বিষয়টি জানার পর বাগান মালিক লিচু ব্যবসায়ীদের নিয়ে তারা মতবিনিময় করেছেন সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অচিরেই লিচু বাগান এলাকায় সভাসমাবেশ করা হবে

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সিদ্দিকুর রহমান এ প্রতিনিধিকে জানান, চলতি মাসে অজ্ঞাত রোগ নিয়ে ১২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এদের মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে ঘটনার পর সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) গবেষক দল দুই দফায় আক্রান্ত শিশুদের বাড়ি পরিদর্শন করেছে তবে পরীক্ষানিরীক্ষার বিষয়ে আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য তাদের দেয়া হয়নি

উল্লেখ্য, গত ২৯ মে থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত দিনাজপুরের বিরল, বীরগঞ্জ, খানসামা, কাহারোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত ১২ শিশু ভর্তি হয় এদের মধ্যে বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ধুলট দাসপাড়া গ্রামের গজেন চন্দ্র দাসের ছেলে ফুল কুমার (), একই এলাকার সেনগ্রামের মো. আব্দুল হকের মেয়ে মোছা. শামিমা (), সনকা গ্রামের মো. আবু তালেবের ছেলে মো. মামুন (), সাদুল্ল্যাপাড়া গ্রামের মো. রবি চাঁনের ছেলে মো. স্বপন আলী (), কাহারোল উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের মো. জিয়ারুল ইসলামের মেয়ে মোছা. ইয়াসমিন (), চিরিরবন্দর উপজেলার ডগনবাড়ী গ্রামের মো. আমানুল হকের ছেলে মো. আবু সায়েম (০৪), বিরল উপজেলার নুরপুর গ্রামের মো. আলমের মেয়ে মিনারা (), পার্বতীপুর উপজেলার জুরাই গ্রামের জোবাইদুর রহমানের মেয়ে জেরিন (), সদর উপজেলার মাধবমাটি গ্রামের মো. আজিবর রহমানের ছেলে মো. সামিউল () একই এলাকার রুবেল হাসানের ছেলে মো. সাকিব () মারা যায়

তবে অসুস্থ ১২ শিশুর মধ্যে ১১ জন মারা গেলেও কাহারোল উপজেলার পূর্ব সাদিপুর গ্রামের মো. খায়রুল ইসলামের মেয়ে মোছা. নিধি () জীবিত রয়েছে তবে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়

ঘটনার পর আইইডিসিআর গবেষক দল দুই দফায় আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবক প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এলাকার শিশুদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ, লিচু বাগান পরিদর্শন এবং লিচু সংগ্রহ করেছেন পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২ ৫ জুন ২০১৫

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com