থেমিসের বিকৃত মূর্তি কিভাবে ভাস্কর্য হয় ?

শনিবার, ০৩ জুন ২০১৭

থেমিসের বিকৃত মূর্তি কিভাবে ভাস্কর্য হয় ?

 

থেমিসের বিকৃত মূর্তি কিভাবে ভাস্কর্য হয় ?
আবুল কালাম আজাদ


 

লেখক আবুল কালাম আজাদ

লেখক আবুল কালাম আজাদ

 

প্রাচীন গ্রীসের পৌরণিক কাহিনীতে দেবী থেমিসের নাম উল্লেখ আছে, পৌরণিক কাহিনীটি নিম্নরূপ :  ইউরেনাস এবং গাইয়ের গর্ভে ৩জন দৈত্য জন্ম নেয় যাদের কারও একশতটি করে হাত ছিল, এর পরে তাদের গর্ভে আরও ১২জন দৈত্য দেবীর জন্ম হয় যাদের কে গ্রীক ভাষায় তিতান এবং ইংরেজীতে টাইটান বলা হয়, এদের কারও তিন হাজার টি পর্যন্ত সন্তান ছিল, এই টাইটানদের মধ্যে ১০ম জন হলো দৈত্য দেবী থেমিস I এই দেবী টাইটানদের মধ্যে সমুদ্র, আকাশ পাতাল সহ অনেক কিছুইরই ভাগ বাটোয়ারা  ছিল ।  দৈত্য দেবী থেমিসের উপর ন্যায়ের দায়িত্ব ছিল, যার জন্য গ্রীকরা এক হাতে তরবারি এবং ওপর হাতে দাঁড়িপাল্লা ধরিয়ে কাল্পনিক মূর্তী বানিয়ে আরাধনা করতো I পৃথিবীর অনেক দেশেই এই থেমিসের মূর্তী আছে I কিন্তু পৃথিবীর কোনও মুসলিম দেশে নাই I সুপ্রিম কোর্টের প্রাঙ্গনে এই দেবী মূর্তিটি স্থাপন ক’রে ভাস্কর্য হিসাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে যা একেবারেই ঠিক না, কেননা কোনও কিছুকে নকল এবং বিকৃত করাকে ভাস্কর্য বলা যায় না, থেমিসের গায়ে কোনও শাড়ি ছিল না, কিন্তু মৃনাল হক থেমিসের গায়ে শাড়ি পড়িয়ে দিয়ে বিকৃতি করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি বাঙালি মেয়ে বলে দাবি করলেন যা যুক্তিতে আসে না ।

থেমিসের ভাস্কর্যের চোখ বাধা এবং এক হাতে তরবারি ওপর হাতে দাঁড়িপাল্লা আছে প্রশ্ন হলো : মৃনাল হকের তৈরী মূর্তিটাকে কোন শিল্প সংস্কৃতির বিমূর্ত প্রতীক বলা যায় গ্রীক দেবী থেমিসের বিমূর্ত প্রতীক নাকি আবহমান বাঙালি নারীর বিমূর্ত প্রতীক ?  ন্যায় বিচারের সাথে গ্রীক দৈত্য দেবী থেমিসের মূর্তী স্থাপনের কি সম্পর্ক ? যে দেশে এই মূর্তী নেই সেই দেশে ন্যায় বিচার নেই ? অথবা যে দেশে এই মূর্তী আছে সেই দেশে কোনও অবিচার হয় না ?

জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসান, সুলতানের শিল্প কর্মকে তো কেউ সমালোচনা করে না, বরংচ প্রতিটা বাঙালির কাছেই সমাদৃত । এঁরা শিল্প কর্ম করতেন বাংলার আত্মিকতার দিকে তাকিয়ে ধার দেনা করে নয় I  আসলে কোনোটাই হয় নাই হয়েছে একটা জগাখিচুড়িমার্কা মূর্তী যা কোনোক্রমেই ভাস্কর্যের মধ্যে পড়েনা I বরংচ এই বিকৃত মূর্তীর স্বপক্ষের আন্দোলনকারীরাই এই জগাখিচুড়িমার্কা মূর্তিটাকে ভাস্কর্য বলে আন্দোলন করে  প্রকৃত শিল্পের ক্ষতি করে যাচ্ছেন I

যতদূর জানা যায় এই মূর্তী স্থাপনে সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত ছিল না, দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গনে সরকারি সিদ্বান্ত ছাড়া ভাস্কর্যের নামে বিকৃত মূর্তী কেন স্থাপন করা হলো তা অবস্যই ভাববার বিষয় I মনে হচ্ছে মৌলবাদীদের উস্কে দিয়ে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে ঘায়েল করাই ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্য ছিল ।

আমেরিকাতেই বসবাস করেন । ১৯৯৫ সালে আমেরিকাতে আসার  পর মৃণাল হক খোদ মার্কিন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন। নিউইয়র্কের সরকারি টিভি এবং  সিএনএন এ কয়েকবার প্রচার হয় বলে জানা যায় । এরপর তাকে ২০০২ সালে বাংলাদেশে পাঠানো হয় বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে।

ভাস্কর মৃণাল হক বিএনপি সমর্থিত  জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। পিতা-অধ্যাপক একরামুল হক, বি এন পি,র সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী সংস্থা স্ট্যান্ডিং কমিটির সাবেক সদস্য। ভগ্নীপতি রাজশাহীতে জঙ্গি উত্থানের অন্যতম মদদদাতা সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক।

মৃণাল হক নব্বুই দশকে নিউইয়র্কে বসবাস করতেন, নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘ঠিকানা’য় তখন এক সাক্ষাৎকারে ঔদ্ধত্য নিয়ে বলেছিলেন, ‘ইচ্ছে ছিল আমি নিজে গিয়ে শেখ মুজিবকে হত্যা করি।’

শনিবারের চিঠি /আটলান্টা / ০৩ জুন,২০১৭

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৩ জুন ২০১৭

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com