তারেকের বক্তব্য প্রচারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০১৫

তারেকের বক্তব্য প্রচারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

 

শনিবার রিপোর্টঃ বাংলাদেশের হাইকোর্ট আইনের দৃষ্টিতে পলাতক থাকা অবস্থায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কোন বক্তব্য বিবৃতি প্রচার বা প্রকাশ নিষিদ্ধ করতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিবিসি


একটি রিট আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আজ এ আদেশ দিয়ে বলেছে রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

তবে তারেক রহমানের আইনজীবীরা বলেছেন এর বিরুদ্ধে তারা আইনি লড়াই চালাবেন।

অন্যদিকে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন হাইকোর্টের এ আদেশ সাম্প্রতিক সময়ের নজিরবিহীন।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবীরা বলছেন আদালতের আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইনের ক্ষেত্রেও এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে কেন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবেনা সে জন্য দু সপ্তাহের সময় দিয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

রিট আবেদনে কি বলা হয়েছে এবং শুনানি শেষে আদালত কি রুলিং দিয়েছে জানিয়ে আবেদনকারীর আইনজীবীদের একজন শ ম রেজাউল করিম বলেন, তারেক রহমান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের মীমাংসিত বিষয়কে বিতর্কিত করে দেশের ভিতর নৈরাজ্য অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন যা সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ বক্তব্য প্রচার করা হলে তা কোনভাবে কাঙ্ক্ষিত হবেনা, দেশের জন্য মঙ্গল হবেনা এবং আইনের পরিপন্থী হবে।”

“সে বিষয়টি আদালত গ্রহণ করে তারেক রহমানের এ জাতীয় বক্তব্য বিবৃতি যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি ফেরারি থাকেন আইনের দৃষ্টিতে এসময় প্রচার করা থেকে সব প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক সোশ্যাল অনলাইন মিডিয়াকে নির্দেশ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।”

এক প্রশ্নের জবাবে মি. করিম বলেন, রিট আবেদনে তারেক রহমানকেও বিবাদী করা হয়েছে। তাই পরবর্তীতে তিনি চাইলে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারবেন।

দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত কিছুদিন ধরেই আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্যের জন্য।

লন্ডনেই তিনি তার পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করেছিলেন।

কয়েকটি সভায় দেয়া বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশে অনেকগুলো মামলাও হয়েছে মি. রহমানের বিরুদ্ধে। গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে আদালত থেকে। এমনকি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেও।

সর্বশেষ গত সোমবার তারেক রহমানের একটি বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে যাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা বলেছিলেন।

এমন পটভূমিতে আওয়ামী লীগ সমর্থক বলে পরিচিতি একজন আইনজীবী এ রিট আবেদনটি করেছিলেন যাতে বলা হয়েছে পলাতক আসামীর বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় পুনরাবৃত্তিতে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।

তবে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এবং তারেক রহমানের আইনজীবীদের একজন খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মাঝে মধ্যে তিনি কথা বলে থাকেন। বিষয়টি আইনগতভাবেই তারা মোকাবেলা করবেন বলে জানান।

তিনি বলেন, “পলাতক আসামী হিসেবে ওনার বক্তব্য প্রকাশ করা যাবেনা আদালত এ নির্দেশনা দিয়েছে। এটি আমরা আইনগত ভাবে মোকাবেলা করবো। তার বাক-স্বাধীনতা কোনভাবেই স্তব্ধ করা যাবেনা”।

তবে আইন বিশেষজ্ঞ ড: শাহদীন মালিক বলছেন, বাংলাদেশে পুলিশ চাইলে যে কোন সময় যে কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। সে কারণেই অনেকেই পলাতক থাকা অবস্থায় গণমাধ্যমে কথা বলেন।

মিস্টার মালিকের কাছে জানতে চেয়েছিলাম গণমাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আর কোন উদাহরণ রয়েছে কি-না।

তিনি বলেন, “দূর অতীতে কি হয়েছে এ মূহুর্তে মনে পড়ছেনা কিন্তু নিকট অতীতে এ ধরনের কিছু মনে পড়ছেনা অর্থাৎ এ ধরনের আদেশ। আমরা হাইকোর্টের যাই মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কিন্তু এখন অনেকে যাচ্ছেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার জন্য”।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবীরা আরও জানিয়েছেন হাইকোর্ট তার আদেশে তারেক রহমানের বর্তমান অবস্থান এবং তার পাসপোর্ট নবায়ন করা হয়েছে কি-না তাও জানাতে নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র সচিবকে।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com