লাইফ ষ্টাইল

‘তারা কুকুর নয়, আমার সন্তান’

শনিবার, ২২ মে ২০২১

‘তারা কুকুর নয়, আমার সন্তান’
কুকুরদের আদর করছেন দিলসাত আলী [ ছবি: সংগৃহীত ]

প্রাণিদের মধ্যে মনিবের প্রতি কুকুরের ভাব-ভক্তি জগৎখ্যাত। আবার কুকুরের প্রতিও মানুষের একটি আজন্ম অকৃত্রিম ভালোবাসা রয়েছে। কুকুরের প্রতি ভালোবাসার অনন্য নিদর্শন দেখিয়েছেন রাজধানীর ফার্মগেট এক রিক্সামিস্ত্রী।

সকাল-সন্ধ্যা কিংবা দুপুর, বিকেল কাজ শেষ অবসর সময়টুকু কুকুর সঙ্গে কাটে তার। সুযোগ পেলেই এ প্রাণিদের সঙ্গে খুনসুটি আর খেলাধুলায় মেতে উঠেন।


রাজধানীর সংসদ ভবনের সড়কের দক্ষিণ পাশের টিএনটি মাঠ সংলগ্নে এলাকায় কুকুরদের সঙ্গে এমন খুনসুটিতে মেতে উঠতে দেখা গেছে রিক্সামিস্ত্রী দিলসাত আলীর। ভ্যান গাড়ির উপরে বসে পা ঝুলাচ্ছে তিনি আর কুকুরগুলো উনার গা ঘেঁষে আপন মনে খেলা করছে। কখনো লাফ দিয়ে উপরে উঠছে আবার দুই পা ছড়িয়ে একটু আদর স্পর্শ পেতে মাথা এগিয়ে দিচ্ছে দিলাসাতের প্রতি। তিনিও পরম আদরে মাথায় গালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আদর পেয়ে একটি কুকুর চলে গেলে আরেকটি এগিয়ে আসে। শুধু একদিন না এইটি নিত্যদিনের চিত্র।

        কুকুরদেরকে ভালোবাসলে তারাও দিগুণ ভালোবাসা ফিরিয়ে দেয়

সময় করে কুকুরগুলোকে খাবার দেওয়া, একটু আড়াল হলে সন্তানের মতো পাশে ডেকে আনা। একটু ঘেউ ঘেউ শব্দ হলে বিপদে পড়ছে বুঝে মনে করে কুকুরগুলোর কাছে ছুটে যাওয়া। কাজের ফাঁকে এলাকার কুকুরগুলোকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তিনি।

দিলসাত আলীকে দেখে তারই গ্যারেজে কাজ করেন, ভ্যানগাড়ি চালায় ছিকান্দার আলী, মো. শুক্কুর আলী মতো আরও এমন অনেকেই কুকুরের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ কুকুরের বিরল ভালোবাসা

দিলসাত আলীর কুকুর প্রতি এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা কীভাবে সৃষ্টি হলো জানতে চাইলে তিনি  বলেন, কুকুরগুলোর সঙ্গে থেকে শান্তি পায়, আমার ভালো সময় কাটে। যেটা অন্য কোথাও পায় না। প্রাণিগুলোও আমাকে দেখে ছুটে চলে আসে। ওরা দীর্ঘক্ষণ আমার চোখের আড়াল হলে বা না দেখে এদেরকে থাকতে পারি না। তারা কুকুর নয় আমার সন্তান, আমার সন্তানদের মতো কুকুরগুলোও আমার বুকে লাফ মেরে বসে থাকে। আমার কথা শুনে। ডাক দিলে বুঝে।

তিনি আরও বলেন, করোনা লকডাউনে মানুষের চলাচল কম হওয়ায় ওদের খাবার-দাবারও সংকট হয়েছিল কিন্ত আমি এদেরকে সময় করে খাবার দিয়েছি এবং আবার দিচ্ছি। আশেপাশে এলাকার অনেক সাহেবদের বাসা থেকে খাবার এনে আমি ওদের খাওয়াই, কখনো খিচুড়ি, রুটি, বিস্কুট যখন যেটা সামনে পড়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করি। রাত ১০টা দিকে একবার খাবার দেয়, সকালে দেয়, দুপুরেও সুযোগ হলে দিয়ে যায়। আবার অনেক সময় এদিক সেদিক ছুটে চলে যায়। সময়তো ওরা নিজেরেই আমার কাছে চলে আসে।

এখন শুধু আমি না আমার সঙ্গে যারা কাজ করে তারা অনেকই আমাকে দেখে তারাও কুকুরকে খাবার দেয় আদর করে। আমরা সারাদিন কাজ করে মোড়ে একটু বিশ্রাম নিতে, বসে গল্প করতে ভ্যানগাড়িতে এসে বসি। তখন কুকুররাও আমাদের সঙ্গে এসে খেলা করে। আমাদের ভালো সময় কাটে। কুকুরদেরকে ভালোবাসলে তারাও দিগুণ ভালোবাসা ফিরিয়ে দেয়। তাই এদের প্রতি সবারই সহানুভূতি দেখানো উচিত।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২২ মে ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com