তনুর বাবাকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা!

মঙ্গলবার, ২১ জুন ২০১৬

তনুর বাবাকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা!

কুমিল্লাঃ সোহাগী জাহান তনুর বাবাকে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম। তাদের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন তিনি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকারীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সোমবার কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এসব কথা জানান আনোয়ারা বেগম। সোমবার দুপুর ১২টায় কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় চত্বরে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। তনু হত্যা তিন মাস পূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লার গণজাগরণ মঞ্চ এ সমাবেশের আয়োজন করে।

আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মেয়ে হত্যার বিচার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার কারণে আমার স্বামী ইয়ার হোসেনকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘তনুর বাবাকে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা তো সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলছি না। আমরা তনু হত্যার বিচার চাইছি।’

তনুর মা অভিযোগ করে বলেন, ‘তনুর খুনিদের না ধরে আমাদের পাহারা দিয়ে রাখা হচ্ছে। বাসার ডিশ লাইন কেটে দেয়া হয়েছে যেন তনুর সংবাদ দেখতে না পারি।’

তনুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ভুল উল্লেখ করে চিকিৎসকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তনুর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ‘ভুল’ উল্লেখ করে চিকিৎসকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তনুর মা।

তিনি বলেন, আমাদের বাসায় এসে কর্নেল মাসুদ বললেন- রাস্তার পাশে যখন তনুর স্যান্ডেল পেয়েছেন- তা নিয়ে চলে এলেন না কেন? কোনো বাবা-মা কি পারে সন্তানের স্যান্ডেল নিয়ে তার খোঁজ না করে ঘরে ফিরে আসতে? তনুর লাশ শিয়াল-কুকুরে খেলে তখন বলতো শিয়ালে মেরেছে। তনুর যদি স্ট্রোক হতো তাহলে তার লাশ রাস্তার পাশে পড়ে থাকতো। জঙ্গলে পড়ে থাকতো না। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকতো না।

এর আগে আনোয়ারা বলেছিলেন, দুই সেনা সদস্য তনুকে খুন করেছে।

তনুর বাবাকে হত্যার চেষ্টা করা প্রসঙ্গ তুলে ধরে আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গত ২৬ মে সিআইডির কর্মকর্তারা যখন একটি সংস্থার কার্যালয়ে তনুর লাশ পাওয়ার সময় আলামত সংগ্রহকারী তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, সে দিন রাত ৮টার দিকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে ডিউটি শেষ করে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাসায় ফিরছিলেন। তিনি তনুর লাশ পাওয়ার স্থান দিয়ে আসার সময় একটি বাস প্রচণ্ড গতিতে এসে তাকে ধাক্কা দেয়ার চেষ্টা করে।’

তিনি বলেন, ‘তনুর বাবা দ্রুত রাস্তার পাশে গিয়ে রক্ষা পান। এর কিছুক্ষণ পর দুইজন আরোহীর একটি মোটরসাইকেল তনুর বাবাকে ধাক্কা দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে রক্ষা পান।’

সমাবেশে তনুর ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেলও উপস্থিত ছিলেন।

২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে নিজেদের বাসা থেকে অন্য কোয়ার্টারে ছাত্র পড়াতে গিয়ে খুন হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তনু । সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় একটি ঝোঁপে তার লাশ পাওয়া যায়।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / জুন ২১,২০১৬

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ জুন ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com