ঢাবি উপাচার্যের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০১৬

ঢাবি উপাচার্যের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের গাড়িতে হামলা চালিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাঁরা লাঠি দিয়ে উপাচার্যের গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন এবং উপাচার্যকে আঘাত করার চেষ্টা করেন।

এ সময় উপাচার্যের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) রক্ষার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁকেও আঘাত করেন। উপাচার্য গাড়ির মধ্যে বসে থাকায় তিনি আহত হননি।


আজ শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজ একটি স্মরণিকা প্রকাশ করে। এই স্মরণিকার প্রকাশক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৯৫ বছর উদ্‌যাপন কমিটির সদস্যসচিব রেজাউর রহমান ‘স্মৃতি অম্লান’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লেখেন। এতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে লিখেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনাপ্রধান ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।’

ওই নিবন্ধের প্রতিবাদে আজ জুমার নামাজের পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তাঁরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন এবং তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক গাড়িতে করে তাঁর বাসভবনের সামনে এলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে তাঁরা উপাচার্যের গাড়িতে কিল-ঘুষি দেন এবং জুতা দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় উপাচার্যের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) রক্ষার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁকে মারধর করে আহত করেন। উপাচার্য গাড়ির মধ্যে বসে থাকায় তিনি আহত হননি। ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী উপাচার্যের দিকে জুতা ছুড়ে মারেন। তবে তা গায়ে লাগেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা উপাচার্যকে ঘেরাও করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের হাত থেকে রক্ষা করে তাঁকে বাসভবনের ভেতরে ঢুকতে সহযোগিতা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘প্রসপেক্টাসে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করায় দলের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা উপাচার্যের ওপর হামলার চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে তাঁর বাসভবনে প্রবেশে সহযোগিতা করি।’

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এর ১৩ নম্বর পৃষ্ঠায় জগন্নাথ হলের বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যালঘু তথা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং উপজাতি ছাত্রদের জন্য এই হল প্রতিষ্ঠিত হয়।

এর আগে দুপুরে টিএসসিতে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলোচনা সভা চলাকালে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রেজাউর রহমানের লেখাটি ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার দৃষ্টিতে আসে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ নেতা ও শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানান। উপাচার্য তাৎক্ষণিক ওই স্মরণিকা বাজেয়াপ্ত ও স্মরণিকা কমিটি বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান।

সভা শেষে দুপুর ১২টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রেজাউর রহমানকে তাঁর কার্যালয়ে তালাবন্দি করে রাখেন। প্রতিবাদে তাঁরা স্মরণিকায় আগুন ধরিয়ে দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে রেজাউর রহমানকে তালামুক্ত করে বের করে নিয়ে যান।

শনিবারের চিঠি/আটলান্টা/ জুলাই ০১, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:২৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com