ঢাবির ছাত্র কাদেরকে নির্যাতনকারী ওসি হেলালের কারাদণ্ড

সোমবার, ১৮ মে ২০১৫

ঢাবির ছাত্র কাদেরকে নির্যাতনকারী  ওসি হেলালের কারাদণ্ড

 

ওসি হেলাল

ওসি হেলাল

শনিবার রিপোর্টঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাণরসায়ন ও অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ছাত্র আবদুল কাদেরকে থানায় নির্যাতন চালিয়ে গুরুতর জখম করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা খিলগাঁও থানার সেই ওসি হেলাল উদ্দিনের তিন বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. আলমগীর কবির রাজ জনাকীর্ণ আদালত কক্ষে এই রায় দেন।


রায়ে আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এই টাকা পরিশোধ না করলে তাঁকে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ের সময় জামিনে থাকা হেলাল আদালতে হাজির ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে ঘোষিত রায়ে বলা হয়, আসামি গ্রেপ্তার হলে বা আত্মসমর্পণ করলে রায় কার্যকর হবে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন আদালত।

রায়ে বলা হয়, ‘নিরীহ একজন নাগরিককে থানায় ধরে এনে ঠাণ্ডা মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা নিন্দনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আসামি হেলাল উদ্দিন খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কারোরই কাম্য নয়।’

রায়ে ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী কনস্টেবল মো. আবদুল করিমের সাক্ষ্য এবং তৎকালীন খিলগাঁও থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) এসআই আসলাম মিয়ার জবানবন্দি উল্লেখ করে বলা হয়, ওসি হেলালের নির্যাতনেই মামলার বাদী আবদুল কাদের মারাত্মক জখম হন- এটা প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় আদালতের কাছে মনে হয়েছে ওসি হেলাল বাদীর ওপর শারীরিক নির্যাতন করেছেন। তিনি এর দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৫ জুলাই বিকেল ৫টায় আবদুল কাদের তাঁর ছোট বোন ফারজানা আক্তারকে নিয়ে গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে যান। অনুষ্ঠান শেষে হলি ফ্যামিলি স্টাফ কোয়ার্টারে খালার বাসায় বোনকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ফেরার সময় সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে এলে টহল পুলিশ তাঁকে রাত ১টায় আটক করে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও ‘ছিনতাইকারী’ বলে পুলিশ কাদেরকে খিলগাঁও থানায় নিয়ে যায়। ওসি তাঁকে অন্যায়ভাবে আটক দেখান। থানায় নির্যাতন চালিয়ে একটি মামলায় জোর করে তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার চেষ্টা করেন ওসি। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কাদেরের পা গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাঁকে মোহাম্মদপুর থানার দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরের দিন খবরটি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। ২০১১ সালের ২৮ জুলাই হাইকোর্ট খিলগাঁও থানার তৎকালীন ওসি হেলাল উদ্দিন, উপপরিদর্শক আলম বাদশা ও সহকারী উপপরিদর্শক শহিদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেন। এরপর তাঁদের সাময়িক বরখাস্তও করা হয়। এদিকে কোনো ধরনের অপরাধের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পরে মামলাগুলো থেকে কাদেরকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করে পুলিশ। ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি শুনানি শেষে কাদেরকে মামলাগুলোর দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ও হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি ওসি হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে খিলগাঁও থানায় মামলা করেন কাদের। একই বছরের ২৬ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. আবু সাঈদ আকন্দ ওসি হেলালের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

রায়ের পর মামলার বাদী আবদুল কাদের সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে তিনি আসামিকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি জানান সরকারের প্রতি।

আবদুল কাদেরের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মুনজুর আলম, গাফফার হোসেন, শুভ্র সিনহা রায় প্রমুখ। আসামিপক্ষে ছিলেন মীর হাসান মো. শহীদ। অ্যাডভোকেট মুনজুর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, এই রায় সমাজের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। পুলিশ কর্তৃক নিরীহ ব্যক্তিদের নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। এটা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে বলে তিনি মনে করেন।

প্রসঙ্গত, আবদুল কাদের ঢাবির ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মর। সুত্রঃ কালের কন্ঠ  

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ১৮ মে ২০১৫

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:০৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৮ মে ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com