ঢাকা ও নওগাঁয় উপনির্বাচনে অনিয়মঃ বিএনপির ভোট বর্জন

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২০

ঢাকা ও নওগাঁয় উপনির্বাচনে অনিয়মঃ  বিএনপির ভোট বর্জন
ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এই দুই আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে।
এর মধ্যে বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম আত্রাই উপজেলা সদরের নাহার গার্ডেন মার্কেটে নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

আর ঢাকা-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ ভোট শেষে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর নির্বাচনী কার্যালয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। দুই প্রার্থীই নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও কারচুরির অভিযোগে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও পুনরায় ভোটের দাবি জানিয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আমি বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। নির্বাচনের শুরুতেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পর্কে আমার শঙ্কা ও অনাস্থার কথা লিখিত ও মৌখিকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেছিলাম।’

‘সবাই আমাকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আশ্বস্ত করলেও বাস্তবিক পক্ষে দেখা যায়, নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে আস্থা ফিরিয়ে এনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার বিষয়ে কেউ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কর্তৃক আচরণবিধি লঙ্ঘন ও আমার নির্বাচনী এজেন্টকে মারধর, পথসভায় হামলা, ধানের শীষ প্রতীকের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকিসহ নানাবিধ কার্যাবলী অব্যাহত রাখে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বার বার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।’

ধানের শীষের প্রার্থী আরো বলেন, ‘আমার আস্থা ও বিশ্বাস ছিল, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশন আগের ভূমিকার কথা ভুলে গিয়ে নতুনভাবে ভোটারদের আস্থা অর্জনে কাজ করবে। আমি ১৮৭টি ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের নিয়োগ দিয়ে সকাল ৮টার মধ্যে ভোটকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু নৌকা প্রতীকের নেতা-কর্মী ও সন্ত্রাসীরা আমার পোলিং এজেন্টদের নিয়োগপত্র ছিড়ে ফেলে মারধর করে ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে ১৬৪টি ভোটকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। কিছু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট ঢুকলেও পরবর্তী সময়ে তাদেরকে ভয়-ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি একং মারধর করে আহত অবস্থায় বের করে দেয়।’

নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

এরপর সালাহউদ্দিন আহম্মেদ পুনরায় ভোটের দাবি করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

‘এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়’

অপরদিকে নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দুই-তিন দিন ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করে ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। আজ ভোটের দিন সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেয় আওয়ামী প্রার্থীর লোকজন।’

বিএনপির প্রার্থী আরো বলেন, ‘১০৪টি ভোটকেন্দ্রের প্রত্যেকটি বুথে ধানের শীষের এজেন্ট দেওয়া হয়েছিল। সকাল ৯টায় ভোট শুরুর পর আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়। অনেক কেন্দ্রে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং কোনো দল করে না এমন অনেক সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের এজেন্টরাই সুইচ টিপে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেন।’

‘এটা প্রহসনের নির্বাচন। পুনরায় এই আসনে ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়ে আমি ভোট বর্জন করলাম’, যোগ করেন শেখ রেজাউল।

ঢাকা-৫ আসনের ভোটতথ্য

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা গত ৬ মে মারা যাওয়ায় শূন্য হয় ঢাকা-৫ আসন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় প্রার্থী। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের মো. কাজী মনিরুল ইসলাম, বিএনপির সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ, জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর, গণফ্রন্টের এইচ এম ইব্রাহিম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আনছার রহমান শিকদার ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আরিফুর রহমান।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৭১ হাজার ১২৯ জন; যার মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৪১ হাজার ৪৬৪ জন ও নারী দুই লাখ ২৯ হাজার ৬৬৫ জন। এই আসনে ১৮৭ কেন্দ্রের ৮৬৪টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়।

নওগাঁ-৬ আসনের ভোটতথ্য

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে গত ২৭ জুলাই নওগাঁ-৬ আসন শূন্য হয়। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট তিনজন। তাঁরা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. আনোয়ার হোসেন (হেলাল), বিএনপির শেখ মো. রেজাউল ইসলাম ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. খন্দকার ইন্তেখাব আলম।

এ আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ছয় হাজার ৭২৫ জন; যার মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৫৩ হাজার ৭৫৮ জন ও নারী এক লাখ ৫২ হাজার ৯৬৭ জন। এই আসনে ১০৪ কেন্দ্রের ৭২১টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / অক্টোবর ১৭, ২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com