ডাঃ মানিকের ব্যাখ্যার প্রতিবাদ দিল জর্জিয়া আওয়ামী লীগ

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০১৫

ডাঃ মানিকের ব্যাখ্যার প্রতিবাদ দিল জর্জিয়া আওয়ামী লীগ

 

শনিবার রিপোর্টঃ গত ১৩ জুলাই আমাদের অনলাইন পত্রিকায় ‘‘ জর্জিয়ায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত ’’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ঐ সংবাদের সারগর্ভ ছিল জর্জিয়ায় বর্তমান আওয়ামী সরকারের একজন সম্মানীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত হলো অথচ সেই পার্টিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডাঃ মুহম্মদ আলী মানিক জর্জিয়ায় অবস্থান করা সত্ত্বেও  পার্টিতে অংশ গ্রহণ করলেন না।


GA A Leagueগতকাল ডাঃ মুহাম্মদ আলী মানিক জর্জিয়া থেকে প্রকাশিত অন্য আরেকটি অনলাইন পত্রিকায় পার্টিতে অনুপস্থিত থাকার কারণ দর্শায়ে একটি ব্যাখ্যা  দিয়েছেন । সেই ব্যাখার  প্রতিবাদে  জর্জিয়া আওয়ামী লীগের  সভাপতি সম্পাদক যথাক্রমে মোহাম্মদ আলী হোসেন ও মাহমুদূর রহমানের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ লিপি আমাদের দপ্তরে এসে পৌঁছে । শনিবারের চিঠির পাঠকদের সৌজন্যে সে প্রতিবাদ লিপিটি নিন্মে তুলে ধরা হলোঃ

 ডাঃ মুহাম্মদ আলী মানিকের মিথ্যা বিবৃতির প্রতিবাদঃ
জর্জিয়া আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে ডাঃ মুহাম্মদ আলী মানিক কেন উপস্থিত হন নি তার একটি ব্যাখা আমাদের দৃষ্টি গোচর হয়েছে । তাই আমরা আজ জর্জিয়ায়  তার দলীয় কার্যক্রমের কিছু নমুনা সকলের সামনে তুলে ধরতে বাধ্য হচ্ছি।

জর্জিয়া আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধ কমিটি গঠনের পর থেকেই ডাঃ মুহাম্মদ আলী মানিক তা মনে প্রাণে মেনে নিতে পারেননি । জর্জিয়া আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিকে কোনো সহায়তা করতেও তিনি এগিয়ে আসেন নি । কমিটি গঠনে তার সাক্ষর থাকা সত্ত্বেও দলে ঘাপটি মেরে থাকা কয়েক জনের মন জয় করতে আর নিজেকে নিজের ইচ্ছামত জাহির করতে না পারায় জর্জিয়া আওয়ামী লীগকে শুরু থেকেই পাশ কাটিয়ে চলেছেন । যার প্রমান কিমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন গুলির মাঝেও  বিরাজমান ।

যে কোনো দল ভাঙ্গা গড়ার নায়ক হিসেবে তার তুলনা অতুলনীয় বলেও জর্জিয়া বাংলাদেশি কমিউনিটিতে প্রচার রয়েছে । আর এ কাজে তিনি পারদর্শী হিসেবেও বিশেষ ভাবে আজ পরিচিত । এর পরেও আমাদের দলের লোক হিসেবে আমরা তাকে যথাযথ সম্মান দিয়েই আমাদের পর পর দুটি কর্মসূচিতে তাকে মূল্যায়ন করেছি  । গত মার্চ মাসের কর্মসূচিতে নিজের পদ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনে মঞ্চে উপস্থিত হলেও আমাদের কোনো সহায়তা করেন নি । এমন কি তার নিজস্ব বাহিনীর একজন কমান্ডার ছাড়া সেই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কাউকে নিয়েও আসেন নি । এর পরে নিজে আর একটি প্লাটফর্ম গঠনের লক্ষ্যে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ,সাধারণ সম্পাদকসহ কাউকে না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে একটি কমিটি অনুমোদন  নিয়ে আসেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ যুক্তরাষ্টের যুবলীগের একটি কমিটির কাছ থেকে । যা জর্জিয়ার আওয়ামী পরিবারের লোকজন মেনে নিতে পারেন নি । আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন গুলির কমিটি গঠনের লক্ষ্যে জর্জিয়া আওয়ামী লীগ উদ্যোগ নিয়ে প্রথমে নিয়ম মোতাবেক যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় । যা ডাঃ মানিক মেনে নিতে পারেননি । পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিলের ঘোষণা দেয়ার পরে জানা যায় । বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী জনাব আরিফ খান জয় ব্যক্তিগত সফরে আটলান্টায় অবস্থান করেছেন । তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জর্জিয়া আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টিতে অংশ গ্রহনের সম্মতি জানান ।আমরা এর মধ্যে আরো জানতে পারি একটি মহল মন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে, ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে অবৈধ যুবলীগের কমিটির ইফতার পার্টিতে অতিথি করে প্রচার প্রচারণা শুরু করছে ।

মন্ত্রী তখন দুই গ্রুপের সাথে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টির কমিটি গঠনের নাম ও প্রস্তাব করেন যেখানে প্রধান অতিথি ছিল ডাঃ মুহাম্মদ আলী মানিক ও বিশেষ বক্তা ছিল জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বৃন্দ। মানিক গ্রুপ তা প্রত্যাখান করলে  সে উদ্যোগও ভেস্তে যায় । এর পরেও জর্জিয়া আওয়ামী লীগের ইফতারের প্রচারণার পোস্টারে ডাঃ মানিককে সন্মানিত অতিথি করা হয় । সরকারের এক জন সম্মানিত মন্ত্রী জর্জিয়া আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টির কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করলো অথচ তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হয়ে তাকে তোয়াক্কা না করে ,সম্মান না দেখিয়ে তিনিসহ তার অনুগতরা জর্জিয়া আওয়ামী লীগের ইফতারে যোগদান করেনি । জর্জিয়া আওয়ামী লীগের ইফতার পার্টির পরের দিন ১৩ জুলাই অবৈধ যুবলীগ নামের একটি ইফতার পার্টিতে তিনি তার অনুগতদের নিয়ে ইফতার করেন ।

তিনি জর্জিয়া আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রী মহোদয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন যা করেছেন তা সত্যিই লজ্জাস্কর ।  আমাদের প্রশ্ন, তিনি কি যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সহ-সভাপতি না যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ? আমরা এই বিচারের ভার যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপর ছেড়ে দিলাম ।

তিনি ভালো করে জানেন দলীয় দাওয়াত বিয়ের দাওয়াতের মত হয়না উনি যে দাওয়াত ও সম্মানের কথা জানিয়েছেন তা উদ্দেশ্য প্রনোদিত,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন । আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই । তিনি মন্ত্রীকে কে অসম্মান করে এখন অজুহাত দেখিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন ।

আমরা জর্জিয়া আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আরো জানাতে চাই,জর্জিয়া আওয়ামী-যুবলীগের কোন কমিটি বৈধ মন্ত্রী মহোদয় আরিফ খান জয় বাংলাদেশ যুবলীগের চেয়ারম্যান জনাব ওমর ফারুকের সাথে টেলিফোনে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন । কারণ যুবলীগের চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী যুবলীগের তারিকুল হায়দার চৌধুরীকে  আহ্বায়ক করে যুবলীগ পরিচালনা করার দায়িত্ব দিয়েছেন । দল কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যা খুশি তাই  করা যাবে । আমরা আশা প্রকাশ করব আমাদের কর্মীরা সতর্ক থাকবেন যেন ডাঃ মুহাম্মদ আলী মানিক সহ কয়েকজন বয়স্ক নেতার ব্যক্তিগত খায়েশ মেটানোর জন্য পাতা ফাঁদে পা  না দেন ।
(মতামতের জন্য সম্পাদক  দায়ী  নন )

মূল সংবাদটি আরেকবার দেখতে নিন্মের লিঙ্কে চাপ দিনঃ
জর্জিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত

শনিবারের চিঠি। আটলান্টা / ১৬ জুলাই ২০১৫

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com