‘জুনিয়র তাজ, তোমার অভিমান বঙ্গসন্তান বোঝে’

রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৬

‘জুনিয়র তাজ, তোমার অভিমান বঙ্গসন্তান বোঝে’

রাজনীতিপ্রান্ত পলাশ, ঢাকাঃ ‘ছবিগুলো মন ভরিয়ে দিলো’ এমন শিরোনামের পাশেই হাসির ইমো। তার নিচে লেখা ‘সোহেল তাজদের মতো মানুষ যত বেশি রাজনীতিতে আসবেন তত দ্রুত রাজনীতি এবং দেশ পরিচ্ছন্ন হবে। শুভ কামনা সোহেল তাজের জন্য।’ এই স্ট্যাটাসটি ফেসবুকে দিয়েছেন জয়ন্ত ভৌমিক।

সোহেল তাজের দেশে ফেরা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আবেগঘন সাক্ষাতের খবর এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকজুড়ে। জয়ন্ত ভৌমিকের মতো অনেকেই এই সাক্ষাতের ছবি যুক্ত করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। দেশে ফেরায় সোহেল তাজকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আবার রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ‘পরিচ্ছন্ন’ দেশের স্বপ্ন দেখছেন শুভানুধ্যায়ীরা।


দেশে ফেরার পর শনিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে গণভবনে যান সোহেল তাজ। দীর্ঘ দিন পর তাজকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই বোন সিমিন হোসেন রিমি ও মাহজাবিন আহমেদ মিমিও সোহেলের সঙ্গে ছিলেন।

পরে শেখ হাসিনার সঙ্গে সোহেল তাজের আবেগঘন সাক্ষাতের ছবি ফেসবুকে দেন মিমি। ‘ব্রাদার অ্যান্ড সিস্টার রিইউনিয়ন!!!’ শিরোনামে প্রথম দফায় গণভবনে সাক্ষাতের চারটি ছবি দেন তিনি, যাতে দীর্ঘ দিন পর সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী ও সোহেল তাজের আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। পরে গণভবনের আরও কয়েকটি ছবি ফেসবুকে দিয়েছেন মিমি।

প্রাণতোষ দাস ছোটন ফেসবুকে লিখেছেন ,‘সোহেল তাজ দেশে এসেছেন, এসে সোজা নেত্রীর সাথে দেখা করেছেন। জুনিয়র তাজ, তোমার সত্যনিষ্ঠার জন্য যুব সমাজ আজও তোমায় খোঁজে!! তাজ তুমি এসো, দেখো ৪০% টকবগে যুবক কী বলে!’

আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘তাজপুত্র তোমার জন্য বঙ্গ কান্না করে, তুমি আমাদের ছেড়ে যাবে না কোথাও। তোমার অভিমান বঙ্গসন্তান বোঝে!’

পাভেল রহমান নামের একজন ওই ছবিগুলো যুক্ত করে পোস্টে লিখেছেন ‘দিনের সেরা ছবি’। ফজলে এলাহী লিখেছেন, ‘অসাধারণ… সুন্দর দৃশ্য’। এই পোস্টে কামরুল হাসান বাদল মন্তব্য করেছেন, ‘এ কেবল শেখ হাসিনাই পারেন। মমতাময়ীর রূপ।’

ফেসবুকজুড়ে ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন সোহেল তাজ। তাদের দাবি, তিনি যেন আর দেশের বাইরে চলে না যান। দেশে থেকে আবার রাজনীতিতে যুক্ত হোন আর বাবার মতোই পরিণত হোন দেশের চালিকাশক্তিতে। বাংলাদেশ গঠনে যেমন বাবা তাজউদ্দিন অসামান্য অবদান রেখেছেন, তেমনি দেশের পুনর্গঠনেও যেন পুত্র সোহেল তাজ অবদান রাখেন, এমনটাই দাবি তাদের।

প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজ চারদলীয় জোট সরকার আমলে রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় থেকে অনেকের নজর কাড়েন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে সোহেল তাজ বিপুলভাবে বিজয় অর্জন করেন। সেসময় গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় সোহেল তাজকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এর পাঁচ মাসের মাথায় ২০০৯ সালেই তিনি পদত্যাগ করেন। ওই বছর ৩১ মে তিনি পদত্যাগ করে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু তখন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিন বছর পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারিরও আবেদন জানান। সেই সময় থেকে তার ব্যক্তিগত হিসাবে পাঠানো বেতন-ভাতার যাবতীয় অর্থ ফেরত নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে। এরপর ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন সোহেল তাজ। তার সংসদীয় এলাকা গাজীপুরের কাপাসিয়ার সংসদ সদস্য এখন তার বোন সিমিন হোসেন রিমি।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ২৪ জানুয়ারি ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com