জামিনের কয়েক ঘন্টা পর সালাউদ্দিনের জামিন বাতিল

শনিবার, ৩০ মে ২০১৫

জামিনের কয়েক ঘন্টা পর সালাউদ্দিনের জামিন বাতিল

 

শনিবার রিপোর্টঃ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের জামিন আবেদন শেষ পর্যন্ত নামঞ্জুর করেছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের আদালত। আদালত পুলিশের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) প্রথমে জামিন মঞ্জুর হয়েছে বলে জানালেও ঘণ্টাখানেক পর তিনি জানান, জামিন হয়নি।


শুক্রবার বিকেলে শিলংয়ের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সালাহ উদ্দিনের পক্ষে করা জামিন আবেদন শুনানি হয়। বিকেল ৪টার দিকে কোর্ট ইন্সপেক্টর কে ডি প্রসাদ সাংবাদিকদের জানান, সালাহ উদ্দিনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। ঘণ্টাখানেক পর তিনি জানান, তিনটি কারণ দেখিয়ে আদালত শেষ পর্যন্ত জামিন নামঞ্জুর করেছে।’

জানা গেছে, বাংলাদেশের মাদ্রকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (এনসিবি) দিল্লির এনসিবির কাছে অনুরোধ জানায়, সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মামলা রয়েছে, তাকে জামিন দিলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন। পরে দিল্লি থেকে তা মেঘালয় পুলিশকে জানানো হয়। মামলার শুনানি চলাকালেই বিষয়টি হয় বলে সুব্রত জানান।

এ ছাড়া আদালত লিখিত আদেশে বলেছে, সালাহ উদ্দিন ভারতে অনুপ্রবেশই করেছেন। এটিই আদালতের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশ এখনো আদালতে সালাহ উদ্দিনের ব্যাপারে প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এসব কারণে বিএনপি নেতার জামিন নামঞ্জুর করা হয় বলে কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রসাদ জানান।

২২ মে উন্নত চিকিৎসার জন্য সালাহ উদ্দিন আহমেদের জামিন চেয়ে স্থানীয় জেলা আদালতে আবেদন করেন তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। গত ২৭ মে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে ১৪ দিনের হেফাজতে নেন শিলংয়ের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আদালতের বিচারক কে এম এল নোংব্রি শুনানি শেষে তাঁকে রুটিন চেকআপ শেষে ১৪ দিনের বিচারিক হেফাজতে নেওয়ার আদেশ দেন।

এরপর সালাহ উদ্দিনকে নেগ্রিমস হাসপাতালে নেয়া হয়। বুকে ব্যথা থাকায় তাঁকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এর আগে ২৬ মে নেগ্রিমস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সালাহ উদ্দিন আহমেদকে ছাড়পত্র দেয়। পরে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

গত ১০ মার্চ উত্তরা থেকে নিখোঁজের ৬৩ দিন পর ১১ মে ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে খোঁজ মেলে সালাহ উদ্দিনের। ১২ মে সালাহ উদ্দিনকে শিলং সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগের দিন তাঁকে উদ্ধার করে একটি মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ওইদিনই বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশ করায় ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী সালাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার দেখায় মেঘালয় পুলিশ। এরপর সালাহ উদ্দিন আহমেদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলংয়ের নেগ্রিমস হাসপাতালে নেয়া হয়।

 এর আগে, বুধবার শিলং আদালত সালাহ উদ্দিনকে ১৪ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠান। আইনি হেফাজতে নেওয়ার পর অসুস্থ বোধ করায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় সালাহ উদ্দিন আহমদকে ভারতের শিলংয়ের নেগ্রিমস হাসপাতালে নেয়া হয়। শুক্রবার সালাউদ্দিনের অসুস্থ্যতার বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত সুচিকিৎসার জন্য জামিনের আবেদন জানানো হয়।

শিলংয়ের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম লিংদো নংব্রি গত বুধবার দুপুরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিনকে দুই সপ্তাহের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে, হাজিরের পর সালাহ উদ্দিন বুকে ব্যথা অনুভবের বিষয়টি উল্লেখ করায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তার চিকিৎসার নির্দেশ দেন আদালত। এরপর কারাগারে পাঠানোর ছয় ঘণ্টার মাথায় বুধবার রাতে তাকে আবার নেগ্রিমসে পাঠানো হয়।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ৩০ মে ২০১৫

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:২৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ৩০ মে ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com