জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা

Probash

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজের কাছে রাবাব ফাতিমা তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করেন। এর আগে গত ২৯ নভেম্বর স্থায়ী মিশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। রাবাব ফাতিমা হচ্ছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের পঞ্চদশ স্থায়ী প্রতিনিধি। বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানের আগে তিনি জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরিচয়পত্র পেশ করার সময় স্থায়ী প্রতিনিধি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। এ সময় আন্তোনিও গুতেরেজ বাংলাদেশকে জাতিসংঘের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব আর্থসামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘ ও মহাসচিবের পদক্ষেপ এবং প্রচেষ্টার প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি ও সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্পেনের মাদ্রিদে সদ্য সমাপ্ত জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কপ-২৫ সামিটে অংশগ্রহণকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি উল্লেখ করেন মহাসচিব গুতেরেজ। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন রোধে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অবদান এবং বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারি ও অব্যাহত সুনামের কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন মহাসচিব।
রোহিঙ্গা বিষয়ে মহাসচিব ও স্থায়ী প্রতিনিধির মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন মর্মে পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করেন জাতিসংঘের মহাসচিব।
স্থায়ী প্রতিনিধি ঢাকায় ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য মহাসচিবকে আমন্ত্রণ জানান এবং বলেন জন্মশতবর্ষের এই অনুষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় বৈশ্বিকভাবে উদ্‌যাপন করা হবে।
ইউনেসকো কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সঙ্গে জন্মশতবর্ষের কর্মসূচি উদ্‌যাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। স্থায়ী প্রতিনিধি এ ক্ষেত্রে মহাসচিবের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র সার্ভিসে যোগ দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এবং কলকাতা ও বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন।
মানবাধিকার বিষয়াবলিতে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার রয়েছে ব্যাপক অভিজ্ঞতা। লন্ডনের কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটে মানবাধিকার বিভাগের প্রধান এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাও রয়েছে এই কূটনীতিকের।
পরিচয়পত্র প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিশনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি তারিক মো. আরিফুল ইসলাম, মিনিস্টার মনোয়ার হোসেন, জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি-বিনির্মাণ বিষয়ের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মিজ রোজম্যারি এ. ডিকারলো এবং মহাসচিবের শেফ দ্য ক্যাবিনেট মিজ মারিয়া লুইজা রিবিরিয়ো ভিয়োট্টি।


শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ ডিসেম্বরর ১৩, ২০১৯

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:১২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com