জর্জিয়া আ’ লীগ সম্পাদকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জর্জিয়া যুবলীগ

রবিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

জর্জিয়া আ’ লীগ সম্পাদকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জর্জিয়া যুবলীগ

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জর্জিয়া যুবলীগের সাধারণ সভা” নিয়ে জর্জিয়া আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক মাহমুদ রহমানের বক্ত্যবের প্রতিবাদ জানিয়েছে জর্জিয়া যুবলীগ সভাপতি নুরুল তালুকদার নাহিদ, সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম বাদল, সহ-সভাপতি উত্তম দে, সাধারন সম্পাদক ইলিয়াছ হাসান রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক সুহেল হাসান, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক আবুল হাছান ও অন্যান্য যুবলীগ নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দের দেওয়া বিবৃতিটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলোঃ
সম্মানিত জর্জিয়া তথা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আসসালামুলাইকুম। গত ২ ফেব্রুয়ারি তারিখে জর্জিয়া যুবলীগ সাধারন সম্পাদকের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবাদ লিপিতে জনাব মাহমুদ রহমানের চরম মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে জর্জিয়া যুবলীগ। বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত মাহমুদ রহমানের এই মিথ্যাচার জর্জিয়া তথা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী পরিবারের কাছে তুলে ধরাই আমাদের আজকের এই বিবৃতির উদ্দেশ্য।


সম্মানিত জর্জিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আপনারা জেনে থাকবেন যে, কিছুদিন আগে জর্জিয়া আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক মাহমুদ রহমান টেলিফোনের মাধ্যমে আমাদের জর্জিয়া যুবলীগ সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম বাদলকে হুমকি দেন এবং অরুচিকর ভাষায় কথা বলেন। জনাব বাদলের একমাত্র অপরাধ ছিল, তিনি জর্জিয়া যুবলীগের সাধারন সভার একটি পোস্টার তাঁর ফেইসবুকে পোস্ট করেছিলেন। আপনারা লক্ষ করে থাকবেন যে, আমরা জর্জিয়া যুবলীগ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জনাব মাহমুদ রহমানের নাম উল্লেখ না করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা আশা করেছিলাম, জনাব মাহমুদ এসব দেখে তার ভুল বুঝতে পারবেন এবং আলোচনার মাধ্যমে এর একটি সমাধান করবেন। কিন্তু তিনি তা করেন নি বিধায় আমরা বাধ্য হয়েই তাঁর নাম প্রকাশ করি। তাতেও তাঁর টনক নড়ে নি, বরং অত্যন্ত দাম্ভিকতার সহিত আমাদের সাধারন সভা নিয়ে মিথ্যাচার করে পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েছেন।

জর্জিয়া আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক তাঁর প্রতিবাদ লিপিতে বলেছেন, জর্জিয়া যুবলীগের সাধারন সভায় তাঁর বিরুদ্ধে জর্জিয়া যুবলীগ সহ-সভাপতি জনাব মিনহাজুল ইসলাম বাদলকে হুমকির প্রতিবাদ জানানো হয়েছে তা শুধুমাত্র তাকে হেয় করার জন্যই করা হয়েছে। বস্তুত পক্ষে তিনি জনাব মিনহাজুল ইসলাম বাদলের সাথে যুবলীগ সংক্রান্ত কোন কিছু প্রকাশ না করার জন্য আলোচনা করেছেন। জনাব মাহমুদ জর্জিয়া যুবলীগ সহ-সভাপতিকে ফোন করে যা বলেছেন তা হল, “ আপনি বেশি বেড়ে গেছেন” “আপনাকে আমি দেখে নেবো” “দেখে নেবো কিভাবে আটলান্টায় আপনি রাজনীতি করেন”। এ জাতীয় কথা বার্তা জনাব মাহমুদ রহমানের কাছে শ্বশুর বাড়ির জামাই আদরের আলোচনা মনে হলেও যেকোনো ভদ্র সমাজে তা বড়ই বেমানান এবং হুমকি হিসেবেই বিবেচিত।

জনাব মাহমুদ বলেছেন, জর্জিয়া যুবলীগের সাধারন সভায় তাকে নিয়ে ন্যাক্কারজনক বক্তব্য দেয়া হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে, জর্জিয়া যুবলীগের সাধারন সভায় শুধুমাত্র জনাব মিনহাজুল ইসলাম বাদলকে হুমকি প্রদানের নিন্দা জানানো হয় এবং জর্জিয়া যুবলীগের আগামি দিনের কার্যক্রম নিয়ে বিশদ ভাবে আলোচনা করা হয়। সন্দেহ জাগে, জনাব মাহমুদ কি আদৌ “ন্যাক্কারজনক” শব্দের অর্থ সম্পর্কে অবগত ? এ সম্পর্কে উল্লেখ্য, জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি মাত্র কয়েকদিন আগে তারই দলের প্রচার সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান সাংবাদিক সিকদার মনজিলুর রহমানকে টেলিফোনের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন। হুমকি-ধামকিই যাদের আলোচনার একমাত্র মাধ্যম তাদের কাছে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি কতোটুকু নিরাপদ তাঁর বিচারের ভার আপনাদের উপরই থাকলো।

প্রিয় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের সদস্যবৃন্দ, জর্জিয়া আওয়ামী লীগের এই সাধারন সম্পাদক মাহমুদ রহমান জর্জিয়া যুবলীগ কে আনুমদিত আখ্যা দিয়ে বলেন, জর্জিয়া যুবলীগ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টারিং এর মাধ্যমে আওয়ামী পরিবারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। জনাব মাহমুদের এই বক্তব্য কতটুকু হাস্যকর ও তাঁর ভণ্ডামির পরিচয় দেয় সেটা বুঝাতে আমরা অতীতের কিছু ঘটনা তুলে ধরবো।

আপনারা নিশ্চয় জানেন, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সভাপতি জনাব মিসবাহ আহমেদ ও সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক জনাব ফরিদ আলমের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ আজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব কটি অঙ্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত ও সমান তালে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায়, জর্জিয়া যুবলীগ কমিটি গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন সভা সমাবেশ করে জর্জিয়ার আওয়ামী পরিবারকে এক্যবদ্ধ রাখতে সক্রিয় ভাবে কাজ করে চলেছে। এসব সভা সমাবেশে জর্জিয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে একাধিক বার আমন্ত্রন জানানো হলেও তারা তাতে উপস্থিত হন নি। কেন উপস্থিত হন নি, তাঁর কারন ও অজানা নয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আমাদের আরেকটু পেছনে যেতে হবে।

আওয়ামী পরিবারের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, আপনাদের জানিয়ে রাখি, জর্জিয়া যুবলীগের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া যখন শুরু হয়, জর্জিয়া থেকে পৃথক দুইটা কমিটি পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতৃবৃন্দের কাছে। জর্জিয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি জনাব আলী হোসেন ও সাধারন সম্পাদক মাহমুদ রহমান জর্জিয়া আওয়ামী পরিবারের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করেই তাঁর মনগড়া একটি কমিটি পাঠিয়ে দেন কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে। কেন্দ্রীয় কমিটি দুটি কমিটি থেকে যাচাই বাছাই করে জর্জিয়ার সৎ, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগি কর্মীদের মুল্যায়ন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। সেই পূর্ণাঙ্গ কমিটিই আজকের জর্জিয়া যুবলীগ। শুধুমাত্র তাদের মনগড়া ও পারিবারিক কমিটি অনুমোদন হয়নি বলে, আজ যে মাহমুদ রহমান যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অস্বীকার করার চেস্টা করছেন, সেই তিনিই মাত্র কদিন আগেও তার মনগড়া কমিটির অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তদবীর করে বেরিয়েছেন, এবং তাঁর প্রমান এখনো আমাদের কাছে আছে। অবশেষে ঘোলা পানিতে শিকার করতে ব্যর্থ হয়ে দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে জর্জিয়া যুবলীগের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।

সম্মানিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের নেতৃবৃন্দ, জর্জিয়া আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক মাহমুদ রহমান বলেছেন, জর্জিয়া যুবলীগ আহবায়ক কমিটি তাদের অনুরোধ রেখে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। এটা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয় রীতিমত হাস্যকর। আহবায়ক কমিটি নামে যে নামমাত্র একটা কমিটি জর্জিয়াতে ছিল, তাঁর অস্তিত্ব কমিটি গঠনের সাথে সাথেই বিলীন হয়ে গেছে। তবুও জর্জিয়া আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক গত বছরে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে সেই আহবায়ক কমিটিতে হাইলাইট করার চেষ্টা করে গেছেন। অবশেষে তারা যখন বুঝতে পেরেছেন, ‘কোরবানীর হাটে ছাগল যতই চড়া দামে বিক্রি হোক না কেন , তা দিয়ে কখনও হাল চাষ করা যায় না ’।

কার্যক্রম স্থগিতের নামে জর্জিয়ার আওয়ামী পরিবারের সাথে প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছেন। বস্তুত, তারা যুবলীগের সেই নাম সর্বস্ব আহবায়ক কমিটির পক্ষে কাজ করতে গিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে জর্জিয়া আওয়ামীলীগ কে একটি অকার্যকর সংগঠনে পরিনত করেছেন।

সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র জনাব মিসবাহ আহমেদের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ এক যোগে কাধে কাঁধ মিলিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ মিসবাহ-ফরিদের নেতৃত্বে যুবলীগকে মেনে নিয়ে এক সাথে কাজ করে যাচ্ছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শাখা সংগঠন হিসেবে জর্জিয়া আওয়ামীলীগ কিভাবে জর্জিয়া যুবলীগকে অস্বীকার করে ? কাদের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য করে ? তা বিবেচনার ভার আপনাদের উপরই থাকলো।

প্রিয় সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবার, সবশেষে আপনাদের এটুকুই বলবো, জর্জিয়ার আওয়ামী পরিবার শুধুমাত্র মাহমুদ রহমানের মতো লোকদের সমন্বয়ে গঠিত নয়, জর্জিয়াতে অনেক সৎ, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগি নেতাকর্মী আছেন যারা বর্তমান জর্জিয়া আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের দলকে কুক্ষিগত করে রাখার কারনে দলের কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতে পারছেন না। আমরা জর্জিয়া যুবলীগ তাদেরকে আপনাদের সামনে নিয়ে আসার জন্য কাজ শুরু করেছি। আপনাদের দোয়া ও ভালবাসা নিয়ে জর্জিয়া যুবলীগ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে এই জর্জিয়া থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে সবাইকে সাথে নিয়ে এক যোগে কাজ করে যাবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি ( মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নহে)

কৈফিয়তঃ
গত ২৮ জানুয়ারির জর্জিয়া যুব লীগের সাধারণ সভার প্রতিবাদ জানিয়ে জর্জিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া বিবৃতি আটলান্টা থেকে প্রকাশিত দু’টো ওয়েবে প্রকাশিত হলেও শনিবারের চিঠিতে প্রকাশিত হয় নি। এতসংক্রান্ত কোন প্রতিবাদ লিপি শনিবারের চিঠির দপ্তরে না আসায় প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

সংশ্লিষ্ট সংবাদঃ
জর্জিয়া যুব লীগের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

আরো দেখুন
নিউইয়র্ক স্টেট যুবলীগের কার্যকরি কমিটির সভা ৭ফেব্রুয়ারি

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:২১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com