জর্জিয়ায় রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ানের উপর ক্ষেপেছেন ট্রাম্প

বুধবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২১

জর্জিয়ায় রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ানের উপর ক্ষেপেছেন  ট্রাম্প
জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছবিঃ সংগ্রহ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিহিংসাপরায়ণ মানসিক অবস্থার কোনো বদল হচ্ছে না। নির্বাচনে পরাজয় মানতে না পারা এই প্রেসিডেন্ট আগেই নিজ দলের নেতাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। তবে তা এত দিন তেমন স্পষ্ট ছিল না। এবার কোনো রাখঢাক ছাড়াই তিনি বলেছেন, ২০২২ সালে জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্পের বিরুদ্ধে প্রচারে নামবেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষোভের কারণটি স্পষ্ট। গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জর্জিয়ায় জয় পেয়েছেন জো বাইডেন। অল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভোটের ফল উল্টে দিতে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রেই চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু কেউই তাঁর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। উল্টো ব্রায়ান কেম্প প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ ধরনের কার্যক্রমের সমালোচনা করেন। ফলে ১৬টি ইলেকটোরাল ভোট হারানো ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রোধ তাঁর ওপর থাকাটাই স্বাভাবিক। সেটা আছেও।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ার দুই সিনেট আসনে নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে অঙ্গরাজ্যের ডালটন শহরে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। এতে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ব্রায়ান কেম্প যাতে গভর্নর অফিসে থাকতে না পারেন, সে জন্য ২০২২ সালে মাঠে নামবেন তিনি। তিনি বলেন, ‘দেড় বছরের মধ্যে আমি এখানে ফিরে আসবে। আমি নিশ্চিত করে বলছি, আমি এখানকার গভর্নর ও উন্মাদ সেক্রেটারি অব স্টেটের বিরুদ্ধে প্রচার চালাব।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি ফোনালাপ ফাঁস করেছে। ওই ফোনকলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেটকে ভোটের ফল বদলে দিতে অনৈতিক চাপ দেন। যদিও একাধিকবার ভোট গণনার পরও এই নির্বাচনে বাইডেনই জয় পান বলে নিশ্চিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী ওই ফোনালাপে ট্রাম্প সুস্পষ্টভাবেই নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এ নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে যুক্তরাষ্ট্রে।

সিনেট নির্বাচনে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দুই সিনেটর ডেভিড পারডু ও কেলি লোফলারের হয়ে শেষ মুহূর্তের প্রচার চালাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ায় আসেন। এই নির্বাচন এমনিতেই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, এই দুই আসনের নির্বাচনের ফলের ওপরই নির্ভর করছে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবটি। শেষ মুহূর্তের প্রচারে গিয়ে ট্রাম্প বারবার ৩ নভেম্বরের ভোট নিয়ে তাঁর বহুল উচ্চারিত অভিযোগটি আবার তুলে ধরেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘জর্জিয়ায় হারার কোনো কারণ নেই। এটি ছিল কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন। আমি দুটি নির্বাচনে লড়েছি; দুটিতেই বিজয়ী হয়েছি। দ্বিতীয়টি বরং প্রথমটির চেয়ে বেশি সফল ছিল।’ সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, পারডু ও লোফলার যেন তাঁর মতো ভুক্তভোগী না হন। তিনি বলেন, ‘আমরা এটা আর হতে দিতে পারি না। আগামীকাল রাতেও যেন এমন না হয় যে, এগিয়ে থাকা অবস্থা থেকে হঠাৎ করে জাদুর মতো সব হিসাব বদলে পরাজয়ের ঘোষণা শুনতে হয়।’

ব্রায়ান কেম্পের ওপর ট্রাম্প ভীষণভাবে ক্ষিপ্ত। গত মাসে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘কেম্পকে ২০১৮ সালে প্রার্থী মনোনীত করায় আমি লজ্জিত। ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে তিনি আমার হয়ে কোনো কিছুই করেননি।’

শনিবারের চিঠি/আটলান্টা / জানুয়ারি ০৬,২০২১

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com