করোনাভাইরাসঃ

স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীও হাঁটলেন সেই পথেঃ গোটা পরিবার আক্রান্ত

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

স্বামীর মৃত্যুর পর  স্ত্রীও হাঁটলেন সেই পথেঃ গোটা পরিবার আক্রান্ত
নিউটন কাউন্টির মুসলিম গোরস্থানে আবুল হাশেমের মরদেহ দাফন করা হয়

আটলান্টা প্রবাসী শের মোহাম্মদ মানিকের শ্বশুড়  আবুল হাশেম সরদার গত পরশু বুধবার বিকেলে স্থানীয় গুনেইট মেডিকেল সেন্টারে মারা যান । ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই একই হাসপাতালে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তার শাশুড়ি  রাজিয়া বেগমও মারা গেলেন ( ইন্নালিল্লাহে …। রাজেউন ) । এই দম্পতি করোনায় আক্রান্তের পূর্বে হার্ট দূর্বল, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানান রোগে ভুগতেছিলেন ।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার তত্ত্বাবধানে মরহুম আবুল হাশেম সরদারের নামাযে জানাযা সিডিসি নির্দেশিত সামাজিক দূরত্ব বাজায় রেখে  গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে জর্জিয়ার নিউটন কাউন্টির মুসলিম গোরস্থানে অনুষ্ঠিত হয় ।  জানাযা শেষে সেখানেই তার মৃতদেহ দাফন  করা হয়।


তার স্ত্রীর রাজিয়া বেগমের নামাযে জানাযা ও দাফন একই স্থানে আজ বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার তরফ  থেকে শনিবারের চিঠিকে জানান হয়েছে ।

বাগেরহাটের মোংলার অধিবাসী এই দম্পতি ২০১০ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অভিবাসী হন এবং জামাতা শের মোহাম্মদ মানিকের সাথেই বসবাস করতেন ।

জানাযা ও দাফনে অংশ গ্রহণে ইচ্ছুক মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পড়ে যেতে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া । শিশু, ষাট উর্ধ বয়স্ক মুসল্লি, হার্ট দূর্বল  বা কঠিন রোগে যারা ভুগছেন তাদেরকে শেষ যাত্রার এই  কার্যে অংশ গ্রহনেও বারণ করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া।

—————————————————————
আরো পড়ুন :  করোনায় আক্রান্ত  হয়ে জর্জিয়ায় এক বাংলাদেশির মৃত্যূ

—————————————————————

সদ্য প্রয়াত আবুল হাশেম ফাইল ছবি

শের মোহাম্মদ মানিকের  সাবেক স্ত্রী রৌশন আরা রোজ, বড় ছেলে সবুজ, সবুজের স্ত্রী ফারজানা জয়া সবাই করোনা পজেটিভ । সকলেই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।  মানিকের শরীরে করোনার প্রাথমিক লক্ষনগুলো দেখা দেয়ায় স্থানীয় গুনেইট কাউন্টি করোনা টেস্ট ল্যাবে পাঠানো হয়েছে । ফলাফল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা জানতে পারে নি।

সবুজ জানায়, তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রাথমিক কোন লক্ষণ দেখা না গেলেও ল্যাব টেষ্টে পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে ।

পরিবারের এক মাত্র ছোট ছেলে সিয়াম (১৪) মধ্যে এখনও করোনার লক্ষন পাওয়া যায়নি ।

গত মার্চে জর্জিয়ায় করোনাভাইরাস মহামারি রুপে দেখা দিলেও এত দিন পর্যন্ত প্রবাসী কোন বাংলাদেশি মারা যায় নি । আক্রান্ত হয়েছে অনেকে এবং সুস্থ্য হয়েছেন। জর্জিয়ায় করোনায় আকান্ত হয়ে মারা যাওয়া তারাই প্রথম প্রবাসী ।  হঠাৎ করে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী মারা যাওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক, পাশাপাশি শোকের ছায়াও নেমে এসেছে।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com