জর্জিয়ায় ঈদুল আজহা উদযাপিত

শনিবার, ০৯ জুলাই ২০২২

জর্জিয়ায় ঈদুল আজহা উদযাপিত
নরক্রসে মসজিদ ওমর বিন আব্দুল আজিজে ঈদুল আজহার নামাজের একটি দৃশ্য [ ছবিঃ শনিবারের চিঠি ]

সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে যথাযথ ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্যান্য অঙ্গ রাজ্যের  সাথে  জর্জিয়ায়ও   আজ [ ৯ জুলাই শনিবার] পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জর্জিয়ায় বিভিন্ন মসজিদ ও সামাজিক সংঠন পবিত্র ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজের জামাতের আয়োজন করে।


ঈদুল আজহার প্রধান জামাত ডাউন টাউন আটলান্টায় আল ফারুক মসজিদ অব আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয় । সেখানে  যথাক্রমে ৪ টি জামাত   অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৭টায় ,সকাল  ৮ টা সকাল সাড়ে ৮ টায় ও  সকাল ৯টায়  ।

ছবিঃ শনিবারের চিঠি

অন্যান্য বছরের মতো এবারও জর্জিয়ার নরক্রস এলাকার  মসজিদ ওমর বিন আব্দুল আজিজে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে পর্যায়ক্রমে ঈদের নামাজের ৩ টি জামাত হয়। জামাত সমূহ যথাক্রমে  সকাল   সাড়ে ৭ টা, সাড়ে ৮  ও সোয়া ৯টায়।

জর্জিয়া ইসলামিক সেন্টার মসজিদ, লরেন্সভিলে  সকাল সাড়ে ৭ টায়  ও সকাল সাড়ে ৮ টায় দু’টি জামাত, সকাল সোয়া আটটা ও সোয়া ন’টায় আত্তাকোয়া মসজিদ, ডোরাভিলে  দু’টি জামাত, মসজিদ আবু বকর, বিউফোর্ড হাইওয়ে, আটলান্টায়  সকাল সাড়ে ৮ টায়  ও সকাল সোয়া ন’ টায় দু’টি জামাত মসজিদ মরিয়াম, ডুলুত , গুনেইটে সকাল সোয়া ৭ টায়  ও সকাল সোয়া ৮ টায় দু’টি জামাত, মদীনা ইন্সটিটিউট মসজিদ ডুলুত সকাল আট ও সকাল নয়টায় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয় ।

পুরুষের সাথে মহিলারাও জামাতে অংশ গ্রহণ করেন [ ছবিঃ শনিবারের চিঠি ]

এ ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদ ও কম্যুনিটি সেন্টারসহ অন্তত পঞ্চাশটি স্থানে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত  অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে ।

পুরুষের সাথে মহিলারাও জামাতে অংশ গ্রহণ করেন । অবশ্য মহিলাদের জন্য আলাদা পর্দার ব্যবস্থা ছিল । অন্যান্য মুসলিম অধিবাসীদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি মহিলারও ঈদের জামাতে অংশ গ্রহণ করেন ।

জর্জিয়ায় মুসললিম পর্ব উপলক্ষে  সরকারি ছুটি না থাকলেও  শনিবার  সাপ্তাহিক ছুটির থাকায় প্রতিটি জামাতস্থল মুসল্লিদের উপচে পড়া উপস্থতি লক্ষ্য করা যায় ।  মুসলমানদের উৎসব থাকায় স্থানীয়  প্রশাসন থেকে প্রতিটি জামাতস্থলে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করা হয় ।

প্রতিটি  ঈদ জামাতে দুনিয়ার সুখ,শান্তি স্বস্থি আর আখেরাতের মুক্তি কামনা করে মহান আল্লার দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে  বাসা বাড়িতে বা পথে ঘাটে পশু-পাখি জবেহ করার রীতি না থাকায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা ঈদের নামাজের পর পরই ছুটে বিভিন্ন সোলাট হাউস বা কসাই খানায় সেখানেই তারা আল্লার সন্তষ্টি লাভে গরু, ছাগল , মেষ ,ভেড়া বিভিন্ন পশু কোরবানী দেয়।

প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে নিজের প্রাণপ্রিয় সন্তান হযরত ইসমাইলকে কোরবানী করতে উদ্যত হয়েছিলেন, যা সর্বকালের মানব ইতিহাসে ত্যাগের সর্বোচ্চ নিদর্শন। কিন্ত আল্লাহর অশেষ কুদরত ও রহমতে ইসমাইলের পরিবর্তে কোরবানী হলো একটি দুম্বা। এর মাধ্যমে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ত্যাগের চরম পরীক্ষায় আল্লাহর দরবারে উত্তীর্ণ হয়ে যান। তারপর থেকে বিশ্বের মুসলমানদের জন্য জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখে পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে হালাল পশু কোরবানী করার রেওয়াজ চালু হয়। ইসলামী শরিয়তে সামর্থ্যবানদের জন্য পশু কোরবানী করা ওয়াজিব। পশু কোরবানীর কারণে ঈদুল আজহা বাঙালি সমাজে “কোরবানীর ঈদ” নামে পরিচিত।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১:৩৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৯ জুলাই ২০২২

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com