ছয় কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জাল করে বিএনপির পক্ষে বিবৃতি!

শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৫

ছয় কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জাল করে বিএনপির পক্ষে বিবৃতি!

ঢাকাঃ বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে গত ৬ ও ৭ জানুয়ারি ‘রাজনৈতিক সহিংসতার খবরে যুক্তরাষ্ট্র ‍উদ্বিগ্ন’ উল্লেখ করে যে খবর প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটি। কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়েস এবং র‌্যাংকিং মেম্বার এলিয়ট এঞ্জেল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, কয়েকজন কংগ্রেস সদস্যকে জড়িয়ে যে বিবৃতির কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। স্থানীয় সময় ৮ জানুয়ারি বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের কিছু সংখ্যক সংবাদমাধ্যম ৭ জানুয়ারি দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছে যাতে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি এবং কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়েস (রিপাবলিকান-ক্যালিফোর্নিয়া), র‌্যাংকিং মেম্বার এলিয়ট এঞ্জেল, ওহাইওর রিপাবলিকান স্টিভ চ্যাবট, নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট জোশেফ ক্রাউলি, ডেমোক্র্যাট গ্রেস মেং, রিপাবলিকান জর্জ হোল্ডিং।

বিবৃতিতে বলা হয়, যদিও পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটি এবং কংগ্রেসের সদস্যরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন কিন্তু কমিটির পক্ষ থেকে বা এর কোনো সদস্যের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোনও ধরনের বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। কোনও দল যদি তাদের রাজনৈতিক ফায়দা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নামে ভূয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রক‍াশ করে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।’


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের খবর জানিয়ে বিএনপির পক্ষে বিবৃতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জাল করে বিএনপির পক্ষে বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মার্কিন হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ইউএস হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্স’ কমিটির চেয়ারম্যান এডোয়ার্ড রয়েসের অফিসিয়াল প্যাডের অনুরূপ কাগজে বানোয়াট বিবৃতিটিতে কংগ্রেসম্যান এডোয়ার্ড রয়েস, এলিয়ট এঙ্গেল, স্টিভ শ্যাবট, যোসেফ ক্রাউলি, জর্জ হোল্ডিং ও গ্রেস মেং-এর স্বাক্ষরও দেওয়া হয়েছিল। কোনো পক্ষের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নামে ভুয়া বিবৃতি ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের খবর জানিয়ে বিএনপির পক্ষে বিবৃতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জাল করে বিএনপির পক্ষে বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মার্কিন হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ইউএস হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্স’ কমিটির চেয়ারম্যান এডোয়ার্ড রয়েসের অফিসিয়াল প্যাডের অনুরূপ কাগজে বানোয়াট বিবৃতিটিতে কংগ্রেসম্যান এডোয়ার্ড রয়েস, এলিয়ট এঙ্গেল, স্টিভ শ্যাবট, যোসেফ ক্রাউলি, জর্জ হোল্ডিং ও গ্রেস মেং-এর স্বাক্ষরও দেওয়া হয়েছিল। কোনো পক্ষের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নামে ভুয়া বিবৃতি ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার মুদ্রণ সংস্করণে এবং বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক দুটি অনলাইন সংবাদ পোর্টালে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের নামে বিবৃতিভিত্তিক সংবাদ প্রচার হয়। কংগ্রেসম্যানরা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা এবং তার ছেলে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নিন্দা জানিয়েছেন বলে বানোয়াট বিবৃতিতে দাবি করা হয়। কিন্তু এ ধরনের কোনো বিবৃতি হাউস কমিটির ওয়েবসাইটে পাওয়া না যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলাদেশি সাংবাদিকরা কংগ্রেসম্যানদের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সাংবাদিকদের কথা শুনে কংগ্রেসম্যানরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। পরে জানতে পারেন মিথ্যা ও বানোয়াট বিবৃতির কথা। শুক্রবার হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে প্রচারিত বিবৃতির মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান কমিটির চেয়ারম্যান রয়েস ও কংগ্রেসম্যান অ্যাঙ্গেল। কমিটির ওয়েবসাইটে বলা হয়, ‘ছয় কংগ্রেস সদস্যের নামে ৭ জানুয়ারির যে বিবৃতির বরাত দিয়ে বাংলাদেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তা বানোয়াট। পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটি ও কংগ্রেসম্যানদের অনেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ করে এলেও কমিটি বা কোনো সদস্য এ ধরনের কোনো বিবৃতি দেননি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নামে বানোয়াট বিবৃতি ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বৈদেশিক দূত পরিচয় দেওয়া প্রবাসী বিএনপি নেতা জাহিদ এফ সরদার সাদী এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তিনিই বিবৃতিটি বিভিন্ন নামের ই-মেইল ব্যবহার করে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠিয়েছেন। জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় গত ৯ বছরে ২৭ বার গ্রেফতার হওয়া সাদী সেদিন যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশনে নজিরবিহীনভাবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফরি হাউসে ইস্যুটি উত্থাপন করেন। কিন্তু হাকিম জেফরিও পরে এ তথ্য অসত্য বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিবৃতিকে ভিত্তি করে প্রচারিত প্রতিবেদনে প্রবাসী বিএনপি নেতা ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার এবং জাহিদ এফ সরদার সাদীর তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। তারা দুজনই বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দুই বৈদেশিক দূত।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com