ছিটমহলবাসীর জন্য ‘গুচ্ছ প্রকল্প’

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০১৫

ছিটমহলবাসীর জন্য ‘গুচ্ছ প্রকল্প’

 

ঢাকা:  ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ছিটমহল বিনিময়। ঠিকানাহীন মানুষগুলোকে পুনর্বাসনে সরকার হাতে নিচ্ছে গুচ্ছ  প্রকল্প। চার দশক ধরে মৌলিক নাগরিক অধিকারবঞ্চিত ছিটমহলবাসী উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা নিয়ে ওয়েব পত্রিকা বাংলামেইলের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশের মানুষ যে সুবিধা পাবে সে সুবিধাগুলো ছিটমহলবাসীরাও পাবে। তাদের প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না। তাদের এই স্বার্থ রক্ষার জন্যই ছিটমহলবাসীদের জন্য ক্লাস্টার প্রোজেক্ট (গুচ্ছ প্রকল্প) হাতে নিচ্ছে সরকার।


সোমবার দুপুরে আগারগাঁও শেরে বাংলা নগর এর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার নিজ কার্যালয়ে একান্ত আলাপে এ কথা বলেন। শনিবারের চিঠির পাঠকদের জন্যে সেই আলাপচারিতা নিন্মে তুলে ধরা হলো:

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ সফরকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদেশে সংক্ষিপ্ত সফরে এসে, এদেশের মানুষকে ভালোবাসায় সিক্ত করে চলেন গেলেন। তারা এদেশের প্রত্যেক মানুষের মনকে স্পর্শ করে গেছেন। দেশের মানুষ আজকে উজ্জীবিত। মোদি ও মমতার সংক্ষিপ্ত সফর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক উঁচু ধারায় নিয়ে যাবে।

নরেন্দ্র মোদির এ সফরেই ছিটমহলবাসীরা নতুন প্রাণ পেল। তারা এখন আবেগাপ্লুত। তাদেরকে নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভাবনা কী?

দীর্ঘদিন পর ছিটমহলবাসী আনন্দিত। আনন্দে উচ্ছ্বাসে তারা শোভাযাত্রা করছে। তাদের দীর্ঘকালের দাবি আজ সফলতার মুখ দেখেছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। বিশ্বাস করি, তিনি অতিশীঘ্রই আমাদের নির্দেশ দিবেন। তার নির্দেশ পেলে আমরা সময় নষ্ট না করে, কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বো। ১১১টি ছিটমহলের ৩৭ হাজার জনগণের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, শত ভাগ শিক্ষা, শত ভাগ স্বাস্থ্য সেবা, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট নির্মাণ, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থাসহ জীবনমান উন্নয়নের জন্য আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মোট কথা, বাংলাদেশের মানুষ যে যে সুবিধা পায়, তার সব সুবিধা তাদের দেয়া হবে।

ছিটমহলবাসীদের জন্য আলাদা কোনো প্রকল্প নেয়ার ভাবনা আছে কি না?

ছিটমহলবাসীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ সার্বিক কর্মদক্ষতা বাড়াতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি ক্লাস্টার প্রোজেক্ট বা ‘গুচ্ছ প্রকল্প’ হাতে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়দের পরামর্শ দেয়া হবে।

এ ধরনের গুচ্ছ প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কীভাবে বাস্তবায়ন করবে?

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা খুব শীঘ্রই একটা টিম গঠন করে ছিটমহলে পাঠাচ্ছি। এ দলের প্রধান থাকবেন পরিকল্পনা কমিশনের একজন সদস্য। তারা ছিটমহলবাসীদের প্রয়োজন নির্ধারণ করে কী কী ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়া যায় সে সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আমাকে দেবে। আমি এ প্রতিবেদন দেখে প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো একত্রিত করে একটি গুচ্ছ প্রকল্প আকারে তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনার জন্য পাঠাবো। তিনি আমাদেরকে যেভাবে দিক-নির্দেশনা দেবেন আমরা সেভাবেই কাজ করবো। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়কেই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে।

কতদিনের মধ্যে ছিটমহলবাসীদের জন্য এ পরিবর্তন আনতে পারবেন?

1431022092এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে এখন বলা যাচ্ছে না। প্রকল্পের আগে একটি টিম যাবে সেখানে। তাদের চাহিদাগুলো জানার জন্য। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়কেই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে। প্রকল্পে একজন পিডি (প্রকল্প পরিচালক) থাকবে। এবং তার অধীনে কয়েকজন পরামর্শক থাকবে। এতে করে আমরা দ্রুত প্রোজেক্টের কাজ শেষ করতে পারবো।

ছিটমহলবাসীদের জন্য কী পরিমান অর্থ বরাদ্দ করা হবে- এ বিষয়ে আপনি কিছু বলুন

ছিটমহল বাসীর চাহিদা মোতাবেক টাকা ব্যয় করা হবে। এখানে অর্থায়নে কোনো সমস্যা হবে না। ইতিমধ্যে তাদের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যদি আরও লাগে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় তাদের জন্য বরাদ্দ বাড়াতে পারেন।

তাহলে আপনি বলছেন- ছিটমহলবাসীদের মৌলিক অধিকার থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত হবে না

একদমই না। বাংলাদেশের মানুষ যেসব সুবিধা পাচ্ছে , তারাও একই সুবিধা পাবে। তাদের কোনভাবেই ভিন্ন চোখে দেখা হবে না। তাদের বাচ্চারাও স্কুলে যাবে, বছরের প্রথম দিন বই পাবে। তাদের উন্নয়নে সুপেয় পানি, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সেবা , সড়ক অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

সবশেষে স্থলসীমানা চুক্তি নিয়ে কিছু বলবেন কী?

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে এ ঐতিহাসিক চুক্তি সই করেছিলেন। কিন্তু এ চুক্তি বাস্তবায়নের সুযোগ ঘাতকের দল তাকে দেয়নি। এটি ছিল জাতির জন্য অভিশাপ। এখন তারই উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী হাত ধরে এ চুক্তিটি নতুন আঙ্গিকে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ চুক্তির সাথে ছিটমহলবাসীদের অস্তিত্ব, আবেগ ও ঐতিহ্য জড়িত। আমি বিশ্বাস করি, এ চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীদের সবকিছুই নতুন করে শুরু হবে। সেই সঙ্গে জাতি অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ০৯ জুন ২০১৫

 

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com