শিক্ষককে বাজে মন্তব্য করার

ছাত্রকে মেরে হাসপাতালে পাঠালেন স্কুল শিক্ষক

বুধবার, ০৩ আগস্ট ২০২২

আহত শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন সাহাবি [ ছবিঃ সংগৃহীত ]

যশোরের ঝিকরগাছা লাউজানি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটরের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ডাস্টার দিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। ডাস্টার দিয়ে মাথায় ও শরীরে এলোপাথাড়ি মারধরের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রের মা সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।


আহত শিক্ষার্থীর ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন সাহাবি উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মুচ্ছাদ্দি হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত ইমরান খান একই বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাব্বির হোসেন সাহাবি জানায়, গত সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি ক্লাসে নিয়মিত শিক্ষকের পরিবর্তে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর ইমরান খান আমাদের ক্লাস নিতে আসেন। ক্লাস চলাকালে ক্লাসের সময় শেষ হওয়ায় ঘণ্টা বেজে যায়। আমি স্যারকে বলি স্যার ক্লাস শেষ; ঘণ্টা বেজে গেছে। এমন সময় স্যার আমার দিকে তেড়ে এসে মাথায় ও শরীরে এলোপাথাড়ি ডাস্টার দিয়ে মারধর করতে থাকে। ক্লাসেই স্যার হাতে মারধরের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীর মা হালিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে বিদ্যালয়ের স্যার ও ছেলের কিছু বন্ধুরা মিলে সাব্বিরকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে আসে। তখন দেখি সাব্বির কান্নাকাটি করছে; কিছু বলছে না। পরে শুনি স্যারে তারে খুব মেরেছে। মাথায় এমনভাবে এলোপাথাড়ি আঘাত করেছে সাব্বির শুধু বমি, জ্বর ও মাথা যন্ত্রণায় ভুগছে।

তিনি ক্ষোভের স্বরে বলেন, ছাত্ররা ভুল করতেই পারে। শিক্ষকরা শাসনের জন্য মারবে এটাও ঠিক। কিন্তু নির্যাতনের মতো কাজকর্ম করবে সেটা শিক্ষকদের মানায় না। এটার সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযুক্ত ইমরান খান দাবি করেছেন, বদলি শিক্ষক হিসেবে ওই দিন ৮ম শ্রেণির ক্লাস নিতে গেছিলাম। ক্লাসে শেষের দিকে ঘণ্টা বেজে যায়। চলে যাওয়ার সময় সাব্বির আমার উদ্দেশ্য করে বাজে কথা বলে। উত্তেজিত হয়ে তার ঘাড় ধরে পিঠে হাত দিয়ে মেরে ছিলাম। এমন সময়ে সাব্বির সরে যেতে গিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে মাথায় আঘাত পায়। তাকে মাথায় কোনো আঘাত করা হয়নি।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সেলিম হোসেন জানান, ক্লাস রুমে সাব্বির হোসেন শ্রেণি শিক্ষকের উদ্দেশ্য ‘বাজে মন্তব্য’ করে। তখন স্যার উত্তেজিত হয়ে মারধর করেছে বলে শুনেছি। এখন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়াতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিযুক্ত কম্পিউটার ল্যাব অপারেটরের বাবা মিলে ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করানো হয়েছে। পরীক্ষায় কোনো খারাপ কিছু রেজাল্ট আসেনি বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় ও উপজেলা নির্বাহীর অফিসারের কাছে গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করছি। আশাকরি সমাধান হয়ে যাবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার আমার কাছে এসেছিল। তাদেরকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৩ আগস্ট ২০২২

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com