চোখের জলে ৪০ হাজার জেলের ঈদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০১৫

চোখের জলে ৪০ হাজার জেলের ঈদ

 

Laksmipur_District_Map_Bangladesh-301লক্ষ্মীপুর: ইলিশের ভরা মৌসুমে জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় লক্ষ্মীপুর জেলার চরাঞ্চলে এবার জেলে পরিবারগুলোর ঈদ কেটেছে হতাশায় আর চোখের জলে।


নদীতে মাছ নেই। ধরা পড়ছে না ইলিশ। এজন্য মহাজনের দাদন, এনজিওর কিন্তি নিয়ে এসব জেলেরা দিশেহারা। তাই ঈদে পরিবারগুলো চরম অর্থ সংকটে দিন কাটালেও সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় সাহায্য করা যায়নি। এ অবস্থায়  ঈদে তাদের অনেকের ঘরে সেমাইও রান্না হয়নি। অর্থের অভাবে কিনে দিতে পারেনি ছেলে-মেয়েদের নতুন জামা-কাপড়ও।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি কাজী মোস্তফা বেপারী জানান, নদীতে মাছ না থাকায় জেলে পল্লিতে ঈদে এবার কোনো উৎসবের আমেজ ছিল না। ঘরে-ঘরে ছিল কষ্ট আর হতাশা। নতুন জামা-কাপড় তো দূরের কথা অধিকাংশ জেলে পরিবারেই রান্না হয়নি সেমাই।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা পারের বসবাসরত শতকরা ৮৫টি পরিবার মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। ইলিশ সংরক্ষণে গত নভেম্বর হতে জুন পর্যন্ত টানা ৮ মাস মেঘনা নদীতে জাটকা নিধন সরকারি সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়। এর মধ্যে মার্চ-এপ্রিল দু’মাস মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। তখন তালিকাভূক্ত ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে চার মাস খাদ্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সহায়তা বাবদ প্রতিটি জেলে পরিবারকে মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হতো। এতে তাদের কিছুটা হলেও উপকার হয়েছে।

সরেজমিন জেলার কমলনগর উপজেলার মতিরহাট, রামগতি বড়খেরীর জেলেপল্লি ঘুরে দেখা গেছে, আড়তগুলোতে ইলিশ মাছের কেনাবেচা নেই। জেলেরা এক বুক আশা নিয়ে নদীতে মাছ শিকারে যায়। এসব এলাকার ফিরোজ মাঝি, রহিম মাঝি, হোসেনসহ কয়েকজন জেলে জানান, মোরা দিইন রাইত কচা নদীতে জাল পাইত্যাও কোনো মাছ পাই না, মাঝে মধ্যে দুই তিনদিন পর দুই এট্টা মাছের দেহা পাইলে হ্যা দিয়া মোগো সোংসারই চলে না, ঈদ তো দূরের কতা।

জেলেরা জানায়, আড়তদার ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদনে টাকা নিয়ে মাছ শিকারে নেমেছেন। নদীতে মাছ না থাকায় জেলে পল্লিতে ঈদে এবার কোনো উৎসবের আমেজ ছিল না। ঘরে-ঘরে ছিল কষ্ট আর হতাশা। অধিকাংশ জেলে পরিবারেই রান্না হয়নি সেমাই।

তারা আরও জানান, তাদের ঘরে কোনো ঈদ আসেনি। অভাবের কারণে তাদের সন্তানরা ঈদের নতুন পোশাক থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ইলিশ ধরা না পড়লে ঋণের বোঝায় তাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে বলে অনেকে আশঙ্কা করছে।

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ জানান, রায়পুরে দশ হাজার জেলে রয়েছে। এদের ৯০ ভাগই উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঈদে পরিবারগুলো চরম অর্থ সংকটে দিন কাটালেও সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় সাহায্য করা যায়নি। তাই জেলেদের ঈদও করা হলো না।

রায়পুর উপেজলা চেয়ারম্যান মাস্টার আলতাফ হোসেন হাওলাদার জানান, নদীতে মাছ ধরা না পড়ায় অনেক জেলে তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছেলে মেয়ের কোনো নতুন জামা-কাপড় কিনে দেয়ার সমর্থ এবার তাদের নেই। এ কথা তারে মুখ থেকে শুনে তিনি নিজেও ওইসব পরিবারের সবাইকে নতুন জামা-কাপড় কিনে দেন।

যোগাযোগ করা হলে লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলেকুজ্জামান জানান, মেঘনা আগের মতো ইলিশ ধরা পড়ছে না সত্য। এ জন্য জেলেরা সঙ্কটে রয়েছে। সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় ঈদে সাহায্য করা যায়নি। নদীতে পানি স্রোত বেশি থাকায় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। আশা করি খুব শিগগিরই সঙ্কট কেটে যাবে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২৩ জুলাই ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১:৩৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com