চূড়ান্ত রায়েও যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ফাঁসি

বুধবার, ০৬ জানুয়ারি ২০১৬

চূড়ান্ত রায়েও যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ফাঁসি

রাজনীতিঢাকা : মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিলে ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। চূড়ান্ত রায়ে যে ৪টি অভিযোগে তার ফাঁসি দেয়া হয়েছিল তার মধ্যে তিনটি অভিযোগে ফাঁসি বহাল রাখেন আদালত। এ ছাড়া ১, ৩ ও ৪ নং অভিযোগে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে নিজামীর আপিল মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।


রায় ঘোষণার পর আদালতের এজলাস থেকে বেরিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের কয়েকজন কর্মী উল্লাস প্রকাশ করে ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা ফাঁসি বহাল রাখায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

আওয়ামীপন্থী দু’একজন সিনিয়র আইনজীবী সন্তুষ্টির কথা মিডিয়ার সামনে ব্যক্ত করেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক স ম রেজাউল করিমের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘রায়ে আমি সন্তুষ্ট।’

এর আগে এ রায়কে কেন্দ্র ভোর থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয় সুপ্রিমকোর্ট এলাকায়।সুপ্রিম কোর্ট মূল গেট, মাজার গেট, বার কাউন্সিল গেট, আইনজীবী সমিতি ভবন, আপিল বিভাগের সামনে-পেছনেসহ বেশ কয়েকটি জায়গা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে বিচারপ্রার্থীসহ সাধারণ মানুষ ঢোকার ক্ষেত্রে তাদের দেহ তল্লাশি করা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী গণহত্যার দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর বিরুদ্ধে নিজামী আপিল করলে ৮ ডিসেম্বর দু’পক্ষের শুনানি শেষ হয়। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর আপিলে বিভাগে আসা ষষ্ঠ মামলা এটি। আজ এর চূড়ান্ত রায় হতে যাচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে আপিল বিভাগে আসা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর মধ্যে এর আগে ৫ জনের মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসির দণ্ড দেন। ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তাকে ওই দণ্ড দেয়া হয় চারটি অভিযোগে। ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করার অপরাধে নেতৃত্ব দেয়ায় অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়া হয়েছিল।

৭২ বছর বয়সী নিজামী বিগত চার দলীয় জোট সরকারের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। তার আগে ২০০১-০৩ সময়ে ছিলেন কৃষিমন্ত্রী। এর আগে চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলাতেও তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ ০৬ জানুয়ারি ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৬ জানুয়ারি ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com