চার দিনে গ্রামবাসী ৪৮ হাজার লিটার তেল তুলেছে সুন্দরবনের শেলা নদী থেকে

মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪

চার দিনে গ্রামবাসী ৪৮ হাজার  লিটার তেল তুলেছে  সুন্দরবনের শেলা নদী থেকে

 

bon 01মংলা, বাগেরহাটঃ সুন্দরবনের নদী খালে ভেসে থাকা তেল (র্ফানেস অয়েল) অপসারণের কাজ চতুর্থ দিনও করেছে গ্রামবাসী। গত চার দিনে গ্রামবাসী ৪৮ হাজার ৪০০ লিটার তেল সুন্দরবনের শেলা নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করে পদ্মা অয়েল কোম্পানি ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করেছে।


তেল অপসারণের পর নদীর পানির ঘনত্ব কমতে শুরু করেছে বলে বনবিভাগ দাবী করেছে। নদীতে তেল ভাসার কারণে নদীতে থাকা মাছ বা ডলফিন মরে ভেসে ওঠার কোন খবরও পাওয়া যায়নি।

তেল অপসারণের কাজে গতি বাড়াতে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের সম্পৃক্ত করতে ক্যাম্প ও স্টেশনের কর্মরত বনকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে তৃতীয় দিনের মতো বনবিভাগের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ করা জেলেরা ৫০টি ট্রলার ও নৌকা নিয়ে নদীতে ভেসে থাকা তেল মিশ্রিত কচুড়িপানা, গাছের ডালপালা ও ময়লা আবর্জনা উদ্ধার করেছে। তারা এসব উদ্ধার করা তেল মিশ্রিত ময়লা আবর্জনা মাটির গর্ত খুড়ে তা পুতে রাখছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) বেলায়েত হোসেন বলেন, গত চার দিনে শেলা নদীর ২১টি শাখা খাল থেকে স্থানীয় গ্রামবাসী ও জেলেরা মিলে ৪৮ হাজার ৪০০ লিটার তেল সংগ্রহ করে। এসব খালে এখন তেল কম দেখা যাচ্ছে। আজ সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তারা আট হাজার ২০০ লিটার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছে। যা গত দুই দিনের তুলনায় অর্ধেক।

তিনি আরও বলেন, শেলা নদীর জয়মনি এলাকায় নদীর দুকূলে যেসব গাছে তেল লেগে রয়েছে সেসব গাছে সোমবার সকাল থেকে পানির পাম্প মেশিন বসিয়ে ষ্প্রে করা হয়েছে। তবে তাতে তেমন কাজ হয়নি।

“কচুড়িপানায় তেল জড়ায় বেশি, তাই নদীতে ভেসে থাকা তেল অপসারণের জন্য আমরা সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কার্যালয়ের কাছ থেকে তিন ট্রলার কচুড়িপানা এনে নদীতে ভাসিয়ে রেখেছি। আর এই কচুড়িপানায় তেল লাগলে তা আমরা নদী থেকে উপরে তুলে ফেলছি। এসমস্ত প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ছাড়া আমাদের আর কি করার আছে”-একথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানির নিয়োগ করা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আব্দুল্লাহ ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, গত চারদিনে গ্রামবাসীর কাছ থেকে মোট ৪৮ হাজার ৪০০ লিটার তেল কেনা হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আমির হোসাইন চৌধুরী বলেন,তৃতীয় দিনের মতো আমাদের নিয়োগকৃত জেলেরা শেলা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভেসে থাকা তেল মিশ্রিত ময়লা পরিষ্কারের কাজ করেছে। দিন যাচ্ছে আর নদীর পানির ঘনত্ব কমছে। তেলের কারণে এখনো কোন মাছ বা ডলফিন মরে ভেসে ওঠার খবর পাইনি। আমাদের একাধিক দল সুন্দবনের বিভিন্ন নদী খালে অবস্থান করছে।

তিনি আরও বলেন, এই কাজে আরও গতি বাড়াতে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের সম্পৃক্ত করতে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ২০টি ফরেস্ট ক্যাম্প ও চারটি স্টেশনের কর্মরত বনকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com