ঈদের পরে চাচুর বিয়ে

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০১৫

ঈদের পরে চাচুর বিয়ে

 

সিকদার মনজিলুর রহমান
আগামিকাল রমজান মাস শুরু। রমজানের রোজার পর ঈদ। রোজা ও ঈদ মিলিয়ে দীর্ঘ এক মাস আট দিন স্কুল ছুটি। ছুটির ঘন্টা পড়তেই “খোস আমদেদ মাহে রমজান, ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক” ধ্বনি তুলতে তুলতে ছেলে মেয়েরা হৈ হুল্লা করে বেরিয়ে পড়ল। যেন একটা দৌড়ের প্রতিযোগিতা পড়ে গেল। কে আগে বাড়ি পৌঁছতে পারে? ছাত্র ছাত্রীদের সাথে সাথে তাদের শিক্ষকেরাও বেরিয়ে পড়েছে খুশি Litearture 02মনে। ছাত্র ছাত্রীদের উৎফুল্ল আনন্দ আর দৌড়া দৌড়ি দেখে এক শিক্ষক ডেকে বললেন, “এই তোমরা আস্তে আস্তে যাও, দৌড়া দৌড়ি করো না পড়ে যাবে।” না স্যার আমরা পড়ব না। শিক্ষকের কথা শুনে বলে উঠল, তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সায়মা। সেও দৌড়াচ্ছিল সবার সাথে সাথে। এক মাস আট দিন লম্বা ছুটি। সে আনন্দে আত্মহারা শিশুর দল। দীর্ঘদিন স্কুল নেই, লেখাপড়ার চাপ নেই। সারা দিন শুধু খেলা আর খেলা।


সায়মা যখন বাড়ি পৌঁছিল তখনও সে হাপাচ্ছিল। বাড়ি এসে তার সামনে পড়ল কাজের মেয়ে রহিমা। মাকে সামনে না পেয়ে তার কাছে জিজ্ঞেস করল, “রহিমা খালা মা কোথায়?”

মা তখন দোতলার বেড রুমে ছোট ছেলেটাকে বুকের দুধ খাইয়ে ঘুম পাড়াচ্ছিল।

সায়মার কণ্ঠ শুনে সাড়া দিল, “আমি এই, এখানে, তোর ভাইয়াকে ঘুম পাড়াচ্ছি।”

মায়ের সাড়া পেয়ে তর তর করে সিঁড়ি বেয়ে দোতালায় উঠে গেল। মায়ের কাছে গিয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে বলল, “জান মা আমাদের স্কুল রোজা ও ঈদ উপলক্ষে এক মাস আট দিন ছুটি। কি মজা তাইনা, দীর্ঘ দিন স্কুল নেই, লেখাপড়ার চাপ নেই। সারাদিন শুধু খেলা আর খেলা। রোজার ছুটিতে আমরা কিন্তু মামা বাড়ি বেড়াতে যাব , ঠিক আছে? সায়মার উৎফুল্লতা দেখে ছোট ছেলেটাও দুধ খাওয়া ছেড়ে ডাগর ডাগর চোখে তার দিকে চেয়ে রইল। সায়মা তাকেও বলল, “রোজার ছুটিতে আমরা মামা বাড়ি যাব, তাই না ভাইয়া?” সায়মার ধারণা সে যেন সবকিছু বোঝে।

“ঠিক আছে যাবি। আগে হাত মুখ ধুয়ে আয় কিছু খাবি। একা একা পুকুর ঘাটে যাসনে পড়ে যাবি। টিউবওয়েলে যা।”

আমি টিউবওয়েল চাপতে পারি না, ভারী শক্ত।

রহিমাকে ডেকে দিচ্ছি সে চেপে দিবে।

রহিমাকে সাথে নিয়ে সায়মা হাত মুখ ধুয়ে আবার মায়ের কাছে ফিরে এসেছে। ছোট ভাইটিও ইতিমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে। সে এসেই মাকে বলল, খুব ক্ষুধা পেয়েছে, খেতে দাও। মা বললেন, খাবার ঘরে যা আমি আসছি। খাবার খেতে খেতে সায়মা তার মাকে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা মা রোজা কি?”

“রোজা আরবী শব্দ। এর প্রতিশব্দ হচ্ছে বিরত থাকা। আল্লাহকে খুশী করার জন্য সূর্য উদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আহার, পানাহার, ধূমপান, ইন্দ্রিয়ানুভূতি ও যাবতীয় কাজ থেকে বিরত থাকার নাম হলো রোজা।” আমরা মুসলমান আমাদের ধর্মীয় জীবন বিধান পরিচালিত হয় আরবী চান্দ্রমাস অনুসারে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তাফা (সাঃ) এর বয়স যখন চল্লিশ তখন এই রমজান মাসেই আমাদের ধর্ম গ্রন্থ কোরআনে করিম তাঁর উপর নাজিল হয়। রমজান মাস আমাদের কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ মাস।”

“তাহলে ঈদ কি?”

রমজানের রোজা শেষে শওয়াল মাসের প্রথম দিনে রোজার উৎসব পালন করা হয় এটাই ঈদ। ঈদ মানে খুশী। ঈদের এই খুশীর দিনে সব হিংসা বিদ্বেষ ভুলে সবাই একত্র হয়ে রঙ বেরঙ এর পোশাক পড়ে ঈদের নামাজ পড়ে। সিন্নী-ফিন্নী, কোর্মা-পোলাও, বিরিয়ানি রকমারি সুস্বাদু রান্না-বান্না হয় ঘরে ঘরে। আত্মীয় স্বজনের খোঁজ খবর নেয়। একে অপরের বাড়ি বেড়াতে যায়।

রমজানের রোজার শেষে যে ঈদটা পালন করা হয় তার নাম ঈদুল ফিতর। জিলহজ্জ মাসের দশ তারিখে আরেকটা ঈদ পালন করা হয় তার নাম ঈদুল আজহা বা কোরবাণীর ঈদ।

মা, “ঈদুল আজহা কি?”

“এখন খেয়ে ওঠ। ঈদুল আজহা সম্পর্কে  আরেক দিন বলব। আমার অনেক তাড়া আছে। তোর আব্বু আসবে স্কুল থেকে তার খাবার রেডি করতে হবে। ঈদের খুশীর চেয়ে তোর আরো খুশীর খবর আছে তাড়াতাড়ি খেয়ে দাদির কাছে গিয়ে শোন। তোর চাচু আজ সকালে টেলিফোন করেছিল।”

“কি বলেছে? কবে বাড়ি আসবে?”

“আমি জানি না, তাড়াতাড়ি খেয়ে তোর দাদির কাছে গিয়ে শোন।

চাচু ফোন করেছিল শুনে খাওয়া শেষ না করেই হাত ধুতে উদ্যত হলে মা বললেন, আগে খাওয়া শেষ কর।

“না , আমি আর খাব না।”

“নে খা, তোর দা্দি তো আর কোথাও যাচ্ছে না, পরে শুনবি। পাগলী মেয়ে!”

চাচু নামে পাগল মেয়ে। সে যখন ছোট্ট শিশু কেবল এক পা, দুই পা হাঁটতে শিখেছে তখন চাচু আমেরিকা চলে যায়। দেশে থাকতে চাচু তাকে সারাদিন কোলে কোলে রাখত, কাছে নিয়ে ঘুম পাড়াত, আদর করত। বিদেশে গিয়েও সে তার আদর অব্যাহত রেখেছেন। টেলিফোন করলে তার সাথেই বেশি কথা বলেন। আজ চাচু যখন কথা বলে সে তখন স্কুলে থাকায় তার সাথে কথা হয়নি।

খাওয়া শেষ করে সায়মা যখন ডাইনিং চেয়ার থেকে নেমেছে তার বিড়াল ছানাটা কাছে এসে মিউমিউ করছে। সায়মা তাকে কোলে নিয়ে দাদির ঘরে ছুটে গেল। সে যখন দাদির ঘরে গেল দা্দি তখন কেবল আসরের নামাজ আদায় করে জায়নামাজ গুটিয়ে আলমারীতে তুলে রাখছিল। সায়মা তার ঘরে ঢুকেই ডাক দিল ;

“দাদি কি কর?”

“এইতো নামাজ পড়ে উঠলাম।”

তুমি স্কুল থেকে এসেছ?

একটু সুর টেনে টেনে উত্তর দিল, “ক-খ-ন।” কাল থেকে আমাদের স্কুল এক মাস আট দিন রোজার ছুটি।

“তাই নাকি?”

“হ্যাঁ।”

সায়মার কোলে বিড়াল ছানার দিকে তাকিয়ে দাদি জিজ্ঞেস করল, “তোমার কোলে ওটা কি? দাদু। ”

“মিনি, আমার লক্ষ্মী মিনি।” সে উত্তর দিল।

“ওকে ছেড়ে দাও। পেটে লোম যাবে। পেটে লোম গেলে অসুখ হয়।”

“না, যাবে না।

কথা বলতে বলতে দাদি গিয়ে খাটের উপর বসল। সায়মাও গিয়ে দাদির গা ঘেসে বসল। সায়মা দা্দির কাছে বসলে ঘরের কোনে টেবিল দেখিয়ে বলল, “ওখান থেকে আমার পান সুপারীর থালাটা আনতে পার দাদু? মুখে একটু পান দিতাম। সায়মা উঠে গিয়ে পানসুপারীর থালা এনে আবার  দাদির  কাছ ঘেসে বসে জিজ্ঞেস করল,

“দাদি, ও দাদি আজ সকালে চাচু টেলিফোন করেছিল?”

“হ্যাঁ করেছিল।”

“কি বলেছে?”

“সেই কথা তোমায় বলার জন্যই তো তোমার স্কুল ফেরার পথ চেয়ে বসে আছি। চাচু এই রোজার মধ্যে দেশে আসবে এবং দেশেই ঈদ উদযাপন করবে।”

কনফার্ম হওয়ার জন্য সায়মা দাদিকে আবারও জিজ্ঞেস করল, “সত্যিই দাদি।”

“হ্যাঁ, সত্যি।”

 “তা হলে তো খুব মজা হবে, তাই না দাদি।”

“আমি ভাবছি তোমার চাচু দেশে এলে সুন্দরি একটা ফুট ফুটে বউ আনব ঘরে। যেহেতু সে বেশি দিন দেশে থাকবে না তাই ঈদের পর পরই এ কাজটা সম্পন্ন করতে চাই। তোমার আব্বু স্কুল থেকে ফিরলে তার কাছে কথাটা বলব ।

“তাই নাকি দাদি ?  কি মজা, কি মজা।” ঈদের পরে চাচুর বিয়ে, ঈদের পরে চাচুর বিয়ে, হুররে।” উল্লাস করতে করতে সায়মা ফাল দিয়ে উঠল।

সায়মা যখন আনন্দে ফাল দিয়ে উঠল তখন তার বাহু বন্ধনে থাকা বিড়াল ছানাটা ছুটে গিয়ে পালাল। এই মিনি, এই মিনি দাঁড়া চিৎকার দিতে দিতে সায়মাও তার পিছু নিল।

ঠিক এমন সময় তার বাবা শফিক স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেছে। দোতালার সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই দেখছে সায়মা বিড়াল ছানার পিছে ছুটছে। সে তাকে জিজ্ঞেস করল,

“কিরে সায়মা ছুটছ কেন?”

সায়মা সে প্রশ্নের জবাব না দিয়েই বলল, “জান আব্বু, ঈদের পরে চাচুর বিয়ে।”

“চাচুর বিয়ে! কে বলল তোকে চাচুর বিয়ে?”

“দাদি বলেছে।”

সায়মার বাবার সাড়া পেয়ে দাদি ডাক দিল, “কি শফিক এসেছিস ? কাপড়-চোপর ছেড়ে এদিকে আয়, তো বাবা ! তোর  সাথে কথা আছে।”

শফিক কাপড় ছেড়ে মায়ের ঘরে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, “ওমা সায়মা কি বলছে?”

“হ্যাঁ ঠিকই বলছে। আয় , এখানে বস।”

শফিক তার মায়ের পাশে গিয়ে বসল।

“আজ সকালে রফিক ফোন করেছিল। বলেছে ঈদের আগে সে বাড়ি আসছে এবং ঈদ দেশেই করবে। মাস তিনেক থাকবে বলেছে। বেশিদিন যখন থাকবে না তাই ভাবছি তোমরা রোজার মধ্যেই ওর জন্য একটা মেয়ে দেখ ঈদের পর পরই তার শুভ কাজটা সম্পন্ন  করতে চাই।”

“মেয়েতো একটা ঠিক করা আছে, মা।”

“কোথায়?”

“তোমার বড় বৌমা বলেছে তার বাবার বাড়ির পাশে শেলী নামক কোন একটা মেয়ে রফিকের পছন্দ। শেলী এবার ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষা দিবে। রফিক মাঝে মাঝে শেলীর সাথে টেলিফোনে কথাও বলে। রফিকই শেলীর কথা তার ভাবীর কাছে বলেছে।”

“বেশ তো, রফিকের নিজের যখন পছন্দ তা হলে মেয়ের গার্ডিয়ানের সাথে কথা বলো।”

“আমি তোমার বড় বৌমাকে সেখানে পাঠিয়ে শেলীর গার্ডিয়ানের সাথে কথা বলতে বলি।”

“আচ্ছা।” মা সম্মতি দিল।

শফিক ও রফিক দুই ভাই। রফিক পড়ে ক্লাশ এইটে আর শফিক তখন মাধ্যমিক পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে। হঠাৎ স্টোক করে তাদের বাবা মারা গেলেন। স্বামীর অবর্তমানে শক্ত হাতে সে সংসারের হাল ধরলেন তার বিধবা মা রাজিয়া বেগম। মায়ের আদরে শাসনে বড় হতে থাকে দুই ভাই। শফিক যে বছর স্নাতক ডিগ্রী লাভ করে একটা হাই স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নিল সে বছরই রফিক ডিভি পেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেল। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর প্রথম বারের মতো দেশে ফিরছে রফিক।

চামচ ঠুন ঠুন থালার বাদ্যে ঘুম ভেঙে গেল সায়মার। রাত্রির শেষ প্রহরে কোত্থেকে আসছে শব্দটি গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনতে চেষ্টা করল সে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবিস্কার করল নিচ তলার খাবার ঘর থেকে আসছে। পাশ ফিরে দেখে মা-ও নেই কাছে।

তখন সে বুঝতে পারল, “ও তা হলে রোজা রাখার উদ্দেশে সেহেরী খাচ্ছে সেখান থেকেই থালা বাটির ঠুনঠান শব্দ আসছে।।”

আজ ২১ রোজা। রাতে সেহেরী খেতে উঠেছে সবাই। খাবার ফাঁকে আলোচনা শুধু একটাই রফিক আসছে আগামি ২৫ রোজায়।

সে আসলে কোন রুমে থাকবে, কোথায় ঘুমাবে? তার প্রিয় খাবারগুলো কি কি? মোটা হয়েছে, নাকি আগের মতোই চিকনা আছে? তাকে রিসিপসন করতে কে কে এয়ারপোর্টে যাবে? ইত্যাদি, ইত্যাদি। সায়মা বিছানা ছেড়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলো খাবার ঘরে। চোখ মুছতে মুছতে ভেজান দরজা ঠেলে ঢুকে পড়ল সেখানে। তাকে দেখেই দাদি বলে উঠলেন,

দাদু তুমি উঠেছ নাকি?

সে উত্তর দিল, “হ্যাঁ। আমিও রোজা রাখব তোমাদের সাথে।”

সায়মার মা বললেন, “না তোমার রোজা রাখার দরকার নেই।”

মা না বলতেই সে কান্না জুড়ে দিয়ে বলল, “না আমি রাখব।”

“আচ্ছা ঠিক আছে আয়, নে ওঠ। তোর আব্বুর পাশের চেয়ারে বস।”

ভাত খেতে খেতে সায়মা তার বাবার কাছে জিজ্ঞেস করল, “আব্বু, চাচুকে রিসিপসন করতে ঢাকা এয়ারপোর্টে কে কে যাবে?

“কেন আমি? তোমার বড় মামাকে আসতে বলেছি সেও যাবে।”

“আমিও যাব তোমাদের সাথে।”

“পিচ্চি মেয়ে সব জায়গায় মাতুব্বরী। তোর যাওয়া লাগবে কেন? সে আসলে কি বাড়ি আসবে না, নাকি শ্বশুর বাড়ি যাবে?”

বলল তার মা।”

“আব্বু ” বলে আবার সেই আদুরে কান্না।

“না, না তুমিও যাবে আমাদের সাথে। সায়মার মাথায় হাত বুলিয়ে বাবা বলল, “লক্ষ্মী মেয়ে কাঁদে না, খেয়ে ঘুমিয়ে পড়। যখন সময় হবে সবাই মিলে যাওয়া যাবে, ঠিক আছে।”

সায়মা বেজায় খুশী। চাচুকে রিসিপসন করতে সবার সাথে সেও যাবে এয়ারপোর্টে। সে বাবাকে জিজ্ঞেস করল,

বাবা ঈদের পরে চাচুর বিয়ে , তাইনা বাবা।

হ্যাঁ ঈদের পরে তোর চাচুর বিয়ে । যা এখন। ঘুমিয়ে পড়।

সায়মা বেজায় খুশিতে বাবার ঘর থেকে বেরিয়ে গেল ।

 

আটলান্টা, জর্জিয়া

 

সংকলিত

প্রথম প্রকাশঃ
সাপ্তাহিক ঠিকানা, নিউ ইর্য়ক
প্রকাশকাল : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০০৯

লেখক, সাংবাদিক মনজিলুর রহমানের প্রকাশিত বই পেতে  নিন্মের লিঙ্কে খোঁজ করুণঃ

সিকদার মনজিলুর রহমানের বইসমুহঃ

 

 

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:০০ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com