চলে গেলেন কেমোথেরাপির অগ্রদূত জেমস এফ হল্যান্ড

শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১৮

চলে গেলেন কেমোথেরাপির অগ্রদূত জেমস এফ হল্যান্ড

নিউজ ডেস্কঃ চলে গেলেন ড. জেমস এফ হল্যান্ড। ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি পদ্ধতির অন্যতম এই উদ্ভাবক ২২ মার্চ নিউইয়র্কের নিজ বাসভবনে মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর মেয়ে ম্যারি হল্যান্ড ২৪ মার্চ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

১৯২৫ সালের ১৬ মার্চ জন্ম নেওয়া জেমস হল্যান্ড চিকিৎসাক্ষেত্রে, বিশেষত ক্যানসার চিকিৎসায় বড় অবদান রেখেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে ফেরার পর ১৯৫৩ সালে আমেরিকার ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটে (এনসিআই) গবেষক থাকাকালে তিনি অ্যাকিউট লিউকেমিয়া (এএল) চিকিৎসায় একটি নতুন দ্বার উন্মোচন করেন। সেই সময় এএল চিকিৎসায় মিথোট্রেক্সেট ও মারকাপটোপিউরিনের সমন্বয়ে একটি চিকিৎসাপদ্ধতি উদ্ভাবনে কাজ করেন তিনি। কিন্তু গবেষণা অসম্পূর্ণ রেখেই তাঁকে চলে যেতে হয় অন্য প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু এনসিআইয়ে তাঁর স্থলাভিষিক্ত গবেষক গর্ডন জাবর্ড হল্যান্ডের এই গবেষণা চলমান রাখেন। আর এই গবেষণার পথ ধরেই ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশা হাজির হয় মানুষের সামনে।


জেমস হল্যান্ড ক্যানসার চিকিৎসায় একজন অগ্রগণ্য গবেষক হিসেবে আমৃত্যু বিবেচিত ছিলেন। তিনি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যানসার রিসার্চের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৭০-৭১ সময়ে। ক্যানসার গবেষণায় অবদানের জন্য জেমস হল্যান্ড ১৯৭২ সালে আলবার্ট লাসকার পুরস্কার পান। এরপর দায়িত্ব নেন আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজির। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তিনি ১৯৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। ক্যানসার গবেষণার শুরু থেকেই তিনি আরেক ক্যানসার গবেষক এমিল টম ফ্রেইর সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। এই যৌথায়ন টিকে ছিল ১৯৫০-৮০ পর্যন্ত টানা ৩০ বছর। এই সময়েই তাঁরা যৌথভাবে লিখেন হল্যান্ড-ফ্রেই ক্যানসার মেডিসিন, যা এখন পর্যন্ত ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স বই হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করে তাঁরা নতুন আরেকটি চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এবারের গবেষণা ফলাফলটি ছিল যুগান্তকারী। অ্যাকিউট লিমফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়ায় (এএলএল) চিকিৎসায় তাঁরা ব্যবহার করেন মিথোট্রেক্সেট, ভিনক্রিস্টাইন ও প্রেডনিসোন। এই তিনের সমন্বয়ে শিশুদের লিউকেমিয়া চিকিৎসায় আসে বিরাট পরিবর্তন। একসময় যে রোগ ছিল দুরারোগ্য, সেই রোগের চিকিৎসাই চলে আসে মানুষের হাতের মুঠোয়।

তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজির বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্লিফোর্ড হুডিস। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, এএলএলকে একসময় দুরারোগ্য ব্যাধি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এই রোগের চিকিৎসায় আজ বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এখন এএলএল রোগীদের ৮০ শতাংশেরই চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব। আর এই কাজটি যিনি করেছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন জেমস এফ হল্যান্ড।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ৩১ মার্চ , ২০১৮

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১৮

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com