ঘুলঘুলি

শনিবার, ১০ জুন ২০১৭

ঘুলঘুলি

ঘুলঘুলি
মঈনুল আহসান সাবের

 


Litearture 01লতিফা টের পেল তার রাগ পড়ে আসছে। সে আগেও দেখেছে, এ সময় তার অসহায় মনে হয় নিজেকে। নিজের ওপর সে বিরক্ত হয়, কেন সে রাগটা ধরে রাখতে পারছে না! কিন্তু এটা তাকে দিয়ে হবে না, তার বোঝা হয়ে গেছে রাগ সে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারবে না। আচ্ছা, তা না হয় হলোই, রাগ সে পুষে রাখতে পারল না বেশিক্ষণ, কিন্তু রাগ-রাগ একটা ভাব সে চোখে-মুখে রেখে দিতে পারে। অথচ এই এটুকুও সে পারে না। এরপর যা হবে, সেটা আরো ভয়ঙ্কর। তার রাগ কমে যেতে যেতে নাই হয়ে যাবে, সে দেখবে রাগ নেই তার, তার আছে মায়া।
বিছানার ওপর মাথা নিচু করে বসা সুমনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে লতিফা ঠিকই টের পেল, মানুষটার জন্য মায়া জন্মাচ্ছে তার। প্রচণ্ড হতাশ বোধ করল সে। নিজের ওপর রাগ হলো খুব। এর কি কোনো মানে হয়! এই একটু আগে সুমনকে সে বলেছে, আজ বাড়িওয়ালা কীভাবে তাকে অপদস্থ করেছে। তারপর আর নানা কথা, সেই নিয়ে তার রাগ। তার হয়তো উচিত হয়নি সুমন অফিস থেকে ফেরামাত্র প্রসঙ্গটা তোলা। কিন্তু কিছু না কিছু লেগেই আছে রোজ। অনেক কিছু মেনে নেয়া যায়, কিছু কিছু বিষয় মেনে নেয়া যায় না। যেমন আজ বাড়িওয়ালার ব্যবহার, লোকটা খারাপ, এত খারাপ লতিফা জানত না। এমন সব কথা এমনভাবে বলল, লোকটা চলে যাওয়ার পর লতিফা অনেকক্ষণ কাঁদল।
তারপর যখন সন্ধ্যার দিকে ফিরল সুমন, সুমনকে সময় দিল না লতিফা, বলল- তুমি আমাকে সত্যি করে বলো, তুমি কি এই বাড়ি বদলাবে?
বলেছি না- বদলাব।
কবে?
এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দিল না সুমন। সে পোশাক পাল্টাল, হাত-মুখ ধুয়ে এলো, ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙল- লতিফা, এক কাপ চা দিবা?
তুমি আমার কথা শুনছ না।
শুনলাম না? আমি তো বাড়ি খুঁজি। অফিস ছুটির পর…।
আজ বাড়িওয়ালা এসেছিল।
সুমন তাকাল লতিফার দিকে।
ভাড়া টাইমমতো দিই না, এ মাসের ভাড়া এখনো দেয়া হয়নি…সুমন, বাড়িওয়ালা আজ আমার সঙ্গে খুবই খারাপ ব্যবহার করেছে।
সুমন কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল লতিফার দিকে, বলল- লতিফা, আজ আমার মন খারাপ।
এইটা তোমার পুরনো কথা। কোনো দিন শুনলাম না তোমার মন ভালো।
না, আজ অফিসে সত্যিই বড় ঝামেলা হয়েছে।
তুমি হচ্ছ ঝামেলাওয়ালা মানুষ। তোমাকে বিয়ে করে আমি ঝামেলার অংশীদার হয়েছি।
সুমন হাসল।
হাসবে না। বাড়িওয়ালা আমাকে অপমান করেছে এটা হাসির কিছু না, অফিসে তোমার ঝামেলা হয়েছে এটাও হাসির কিছু না। তোমার-আমার যে বিয়ে হয়েছে, এটাও হাসাহাসি করার মতো কিছু না।
যাও না, চা আনো।
লতিফা চা বানাতে গেল। অফিস করে ফিরেছে সুমন, এ সময় শুধু চা তাকে দেয়া যায় না। সাধারণত যা হয়, সুমন ফেরার আগে কিছু না কিছু বানিয়ে রাখে লতিফা। আজ তার মন খারাপ, আজ আর সেটা হয়নি, সে পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে মুড়ি মাখিয়ে দিল, সঙ্গে কিছু বাদাম দিতে পারলে ভালো হতো, বাদাম নেই। সে মুড়িমাখা নিয়ে আসে। চা সে, মুড়ি খাওয়া হলে তারপর বানাবে। তা সে দেখল সুমন বিছানার ওপর আয়েশ করে বসেছে, তার সামনে কয়েনগুলো ছড়ানো, সুমন সেসব দেখছে।
লতিফা প্রথম দিন বলেছিল- পয়সা।
সে বলেছিল- পয়সা! তুমি পয়সা জমাও!
‘পয়সা’ শুনে সুমনের সে কী হাসি- এগুলো পয়সা না, এগুলো কয়েন।
পয়সা আর কয়েনের তফাত কী?
আছে। পয়সা শুনলে মনে হয় রোজকার তেল-নুনের একটা ব্যাপার। মানুষ বাঁশের ফোকরে, মাটির ব্যাংকে পয়সা জমায়, সঞ্চয় আর কী, শখ না। কয়েন বললে বোঝা যায় এটা শখ।
ও!
প্রথম দিন সে যখন ‘ও’ বলেছিল, তার সঙ্গে মিশে ছিল খোঁচা মারার ইচ্ছা। সুমনের কয়েন জমানো নিয়ে লতিফার খোঁচা মারার ইচ্ছাটা এখনো আছে, খোঁচা মারার ইচ্ছার চেয়ে বেশি আছে বিরক্তি। আচ্ছা, শখ মানুষের থাকতেই পারে। ছোটবেলায় কিছুদিন রংবেরঙের কাপড়ের টুকরো জমাত, পাশের বাড়ির লাবণি জমাত প্রজাপতির পাখা। তা, সেসব সেই কবেই চুকেবুকে গেছে। অথচ কী প্রবল আগ্রহ নিয়ে সুমন তার ছোটবেলার শখ ধরে রেখেছে। সে অবশ্য ‘শখ’ বলতে চায় না, বলে ‘নেশা’। আচ্ছা, বেশ, নেশাই, কিন্তু তারও একটা মাত্রা থাকতে হবে। সুমনের এ ক্ষেত্রে মাত্রা নেই। লতিফা অনেকবারই জিজ্ঞেস করেছে- কী পাও বলো তো?
পাই।
আমি সেটাই জানতে চাচ্ছি- কী পাও!
বুঝিয়ে বলা তো কঠিন…ভালো লাগে।
ভালো লাগার মাত্রাটা অস্বাভাবিক। যদি সংসার থাকে এক দিকে, আর তোমার ওই পয়সাগুলো আরেক দিকে, তুমি ওই ওদিকেই যাবে।
উঁহু, আমি তোমার দিকে যাব।
আমি বুঝি তুমি কোন দিকে যাবে। দেখো তুমি।
দেখার ইচ্ছা নেই। যে ইচ্ছাটা আমার করে আমি বরং সেটার কথা বলি।
হুঁ।
মাঝে, মধ্যে কী ইচ্ছা করে, জানো? তোমার এই পয়সাগুলো শিলপাটার নিচে ফেলে ভাঙতে।
কী!
ভাঙতে ইচ্ছা করে। ভেঙে টুকরো টুকরো করতে। শুনেছ তো, আবার জিজ্ঞেস করো কেন।
তা, যা হলো আর কী, লতিফা দেখল সুমন বিছানায় কয়েনগুলো সাজিয়ে নিয়ে বসেছে। প্রথমে তার অবাক লাগল। মুড়ি মাখাতে কতক্ষণই বা লেগেছে তার, এর মধ্যে সুমন পোশাক পাল্টে, হাত মুখ ধুয়ে বসে পড়েছে। লতিফা অবশ্য খুব অল্পক্ষণ অবাক হয়ে থাকল। সে নিজেকে বলল, আমার অবাক হওয়ার কিছু নেই, আমি জানি সুমন এ রকম। যখন তার মনে হলো সুমন এ রকম, লতিফা দেখল রাগে তার চেঁচিয়ে উঠতে ইচ্ছা করছে। এটা অবশ্য সে সামলাতে পারল, সে গিয়ে বিছানার পাশে দাঁড়াল, স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করল সে। মুড়ির বাটি সুমনের সামনে নামিয়ে রাখতে রাখতে জিজ্ঞেস করল, কী করছ তুমি? লতিফার দিকে তাকাল না সুমন, বলল- মোতানাব্বি কী বলেছে জানো? ও নাকি দুটো পুরনো কয়েন পেয়েছে। আমাকে দেবে।
চেঁচিয়ে ওঠার ইচ্ছাটা আবার হলো, আবার সে নিজেকে সামলাল- সুমন।
উঁ।
মোতানাব্বি ভাই কখন বলেছেন এ কথা?
এই তো আজ দুপুরে।
তুমি না বললে আজ অফিসে তোমার বড় ঝামেলা হয়েছে!
একটুক্ষণ চুপ করে থাকল সুমন- হুঁ।…মনটা খারাপ হয়ে আছে।
মোতানাব্বি ভাই কখন বলেছেন, অফিসে ঝামেলা হওয়ার আগে না পরে?
আগে। সকালের দিকে। তারপর দুপুরের পর পর…।
ঝামেলাটা পরে হয়েছে। তুমি বললে তোমার মন খারাপ। অথচ তুমি ওই ঝামেলা সম্পর্কে কিছু না বলে বসলে পয়সা নিয়ে!
সুমন ধীরে ধীরে তাকাল লতিফার দিকে- তুমি কি রাগ করেছ আমার ওপর? মনে হচ্ছে তুমি আমার ওপর রাগ করেছ।
তোমার কী মনে হয়- তোমার ওপর আমার রাগ করা উচিত কি উচিত না?
সুমন উত্তর না দিয়ে মুখ নিচু করে রাখল।
রাগ না সুমন, রাগ না। বিরক্তি।
দুটা একই ব্যাপার। এতই যদি বোঝো তবে এটা কেন বোঝো না- রাগ করা বা বিরক্ত হওয়াই আমার উচিত।
আমি বিরক্ত করি তোমাকে।
করো না! নিজেকেই একবার জিজ্ঞেস করো- করো কি না। তোমার অফিসে কী ঝামেলা হয়েছে আমি জানি না। তুমি আমাকে সেটা বলার প্রয়োজনও বোধ করলে না…।
বলব তো।
বলার দরকার নেই। শুনতে ইচ্ছা করছে না। কী আশ্চর্য সুমন, আমি যে বললাম বাড়িওয়ালা আমাকে অপমান করেছে, কই, একবারও জিজ্ঞেস করলে কী হয়েছে! তোমার বউকে একজন অপমান করেছে, এটা জানার পরও তুমি কিছু শুনতে চাইলে না…।
আমি শুনব। তুমি জানো।
চুপ। একদম চুপ। একটা কথাও তুমি বলবে না।
সুমন আর কোনো কথা বলল না, কথা বলল লতিফা। সে কঠিন-কঠিন সব কথা বলল, যতটা পারল সে, ভেতরের রাগটুকু যতটা পারল সে ঢেলে দিল। শেষে ওই যে, আমি বলি না মাঝে-মধ্যে ভেঙে ফেলতে ইচ্ছা করে, ওটাই আমার করা উচিত।…পারি না।…কিন্তু কোনো দিন ঠিকই পারব।
তখন আড়চোখে তাকাল সুমন, মৃদু গলায় বলল- পারবে না।
দেখো তুমি।
আমি জানি তুমি পারবে না। আমি জানি।
আহা রে! শোনো, ওসব আবেগের কথাবার্তা রাখো।
এরপর একটানা কথা বলল লতিফা, সুমন কিছুই বলল না। বলতে বলতে লতিফা এক সময় দেখল সে আর কথা খুঁজে পাচ্ছে না। তখন সে সরে  এলো, সরে এসে সে ওই ঘরেই আর দাঁড়াল না। তবে সে অন্য ঘরেও বেশিক্ষণ থাকল না। কিছুক্ষণ পর সে ফিরে এলো, দেখল- সুমন মুখ নিচু করে বসে আছে। তার সামনে কয়েনগুলো তখনো ছড়ানো, সে কয়েনগুলোর দিকেই তাকিয়ে আছে, আবার সেদিকে সে তাকিয়েও নেই। মুখ নিচু করে বসে থাকা সুমনকে অসহায় দেখাচ্ছে। লতিফা টের পেল, রাগ মরে যাচ্ছে, সুমনের জন্য তার মায়া জন্মাচ্ছে। সে বড় করে শ্বাস ফেলল- কেন যে সে রাগটা ধরে রাখতে পারে না! নিজেকেও তার অসহায় মনে হলো। মরণ- সে মনে মনে বলল।
সুমন তাকাল তার দিকে- তোমার রাগ কমেছে?
মুড়ি সিটিয়ে গেল। খাচ্ছ না কেন!
তুমি আসো।
লতিফা সুমনের পাশে বসল- কী সমস্যা হলো আজ অফিসে?
হয়েছে।
কী হয়েছে, সেটা জানতে চাচ্ছি।
বাড়িওয়ালা কী বলল?
বলেছে।
বলো না।
ইচ্ছা করছে না। আজেবাজে কথা।
লোকটা ভালো না। কী আজেবাজে কথা বলতে পারে, আন্দাজ করতে পারছি।
হ্যাঁ, আন্দাজ করেই তো পয়সার কৌটা খুলে বসলে।
সুমন সামান্য হাসল- বাদ দাও না।
শোনো, বাড়ি কি তুমি সত্যি খুঁজছ?
হুঁ।…লতিফা, কম ভাড়ায় কোথাও বাড়ি নেই।… তবে খুঁজছি আমি।
খোঁজো।…আমার এখানে থাকতে আর ভালো লাগে না। এত খ্যাচখ্যাচ।
হুঁ।
এত ‘হুঁ হুঁ’ করছ কেন! এখন যদি বলি- পরশু যে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, সেটা কি তোমার মনে আছে- জানি তুমি দিব্যি বলবে- হুঁ, কিন্তু আমি জানি সেটা তোমার মনে নেই। তাই না?
একটুক্ষণ চুপ করে থেকে সুমন বলল- হুঁ।

দুই
ডাক্তার বললেন- আমি জানতাম এই রিপোর্ট আসবে। রিপোর্ট ঠিক আছে। আপনাদের কারো কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু…।
ডাক্তার কথা শেষ না করে রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
এই কথাগুলো আগেও শুনেছে লতিফা ও সুমন- তাদের কারো কোনো সমস্যা নেই। গত তিন-চার বছরে ডাক্তার কম দেখানো হয়নি। তারা প্রায় সবাই এই একই কথা বলেছে।
ডাক্তার রিপোর্ট থেকে চোখ তুললেন- কিন্তু- ডাক্তার লতিফার দিকে তাকালেন- আপনি কেন কনসিভ করতে পারছেন না, বুঝতে পারছি না।
এই কথাগুলোও লতিফা ও সুমন অনেকবার শুনেছে, এই ডাক্তার যখন একটু আগে বললেন- ‘আপনাদের কারো কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু…’ তখনো তারা আন্দাজ করতে পারছিল, ‘কিন্তু’র পর ডাক্তার কী বলবেন। ডাক্তার সে কথাই বললেন, তারা শুনল, পুরনো কথাটাই তারা শুনল, তবু বিপুল আগ্রহ নিয়ে ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে থাকল।
ডাক্তার বললেন- মেডিক্যাল সায়েন্স সব কিছুর ব্যাখ্যা দিতে পারে না। এই রিপোর্টগুলো, আপনাদের পুরনো রিপোর্টগুলো দেখলে যে কোনো ডাক্তার বলবেন- আপনাদের কোনো সমস্যা নেই, আপনারা পারফেক্টলি অলরাইট। কিন্তু তারপর কেউ এই ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না- কেন আপনাদের বেবি হচ্ছে না। মেডিক্যাল সায়েন্সে এর কোনো ব্যাখ্যা নেই।
এখন পর্যন্ত বেশ কজন ডাক্তারের কাছে গেছে লতিফা ও সুমন। আর সবার তুলনায় এই ডাক্তারের আন্তরিকতা অনেক বেশি। পেশেন্টকে অনেক সময় দেন, একই প্রশ্নের উত্তর তিনবার দিতেও বিরক্ত হন না এবং তিনি নিজেই অনেক কথা বলেন। সম্ভবত তিনি মানুষটাই এ রকম কিংবা তিনি নিঃসন্তান দম্পতির কষ্টটা বোঝেন।
ডাক্তার বললেন- আমি মানুষটা আশাবাদী।
এই কথা অবশ্য লতিফা ও সুমনের ভেতর তেমন কোনো উৎসাহ তৈরি করল না। তারা তাকিয়েই থাকল ডাক্তারের দিকে।
দেখুন, আমি বলছি বটে মেডিক্যাল সায়েন্সে এর কোনো ব্যাখ্যা নেই। আমার এই কথা আপনারা যদি নেগেটিভলি নেন, সমস্যা। এটা আসলে পজিটিভ কথা। ব্যাখ্যা নেই মানে কিন্তু সম্ভাবনা শেষ না, বরং সম্ভাবনা থেকেই যায়।
জি। সুমন মৃদু গলায় বলল। বুঝতে পারছি। আমি আর ও মাঝেমাঝেই এই কথা বলি যে হবে না- এমন কথা কোনো চিকিৎসক আমাদের বলেননি। কিন্তু হচ্ছে না কিছু।
আপনাদের বিয়ে হয়েছে…।
সাত বছর।
আপনাদের বিয়ে হয়েছে সাত বছর, বিয়ের ১৬-১৭ বছর পর বেবি হয়েছে, এ রকম ঘটনা অনেক আছে।
আছে স্যার। আমরা জানি। আবার নেইও।
এটা হচ্ছে নেগেটিভ থিঙ্কিং। কনসিভ করার ক্ষেত্রে পজিটিভ অ্যাটিচ্যুড খুব ইমপরট্যান্ট একটা ব্যাপার, মনে রাখতে হবে।
স্যার। লতিফা বলল। আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি।
এটা কোনো কথা না। মাত্র তিন-চার বছর হয়েছে আপনাদের।
এটাই কথা স্যার।… কোনো ট্রিটমেন্ট কি নেই?
থাকবে না কেন! চিকিৎসা তো করেছেন…করছেন।
কাজ হচ্ছে না। আর কিছু?
ডাক্তার অন্যান্য ট্রিটমেন্টের কথা বললেন, এক পর্যায়ে আইভিএফের কথাও বললেন। বললেন- ব্যবস্থা হিসেবে আইভিএফ বেশ ভালো। সাকসেস রেট ভালো। তবে এখনই লতিফা ও সুমনের সে ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন নেই। এটা আরও পরে দেখা যাবে। ফিরতে ফিরতে, যদিও তারা এ রকম একটা বিষয় ঠিক করে রাখে যে এ নিয়ে, এই যে তাদের ছেলেমেয়ে হচ্ছে না, এ বিষয়ে তারা কথা বলবে না, তবে সব সময় সে কথা রাখা যায় না, ফিরতে ফিরতে লতিফা বড় করে শ্বাস ফেলে বলল- এই যে এ রকম একটা ব্যাপার, যাদের হয় না তারা বোঝে ছেলেমেয়ে না হওয়াটা কত কষ্টের, এই চিকিৎসায় এত খরচ কেন বলো তো? ছেলেমেয়ে না হওয়ার সমস্যা কি শুধু বড়লোকদের, গরিবের এই সমস্যা থাকতে পারে না?
লতিফার দিকে একবার আড়চোখে তাকাল সুমন। স্ট্রিট লাইটের আলোয় তাকে অন্যরকম দেখাচ্ছে। অচেনা নয়, আবার খুব যে একটা চেনা, তাও না। সুমন একটু বুঝদারের ভাব আনতে চাইলে গলায়- ডাক্তার বললেন এখন আইভিএফের কথা না ভাবলেও চলবে।
পরে ভাবলে চলবে?
হ্যাঁ, এখন না।
পরে ভাবলেই কি পারবে? মিনিমাম তিন লাখ টাকার ব্যাপার।
সুমন কিছু বলতে গিয়ে বলল না। সে একবার তাকাল লতিফার দিকে। চুপ করে থাকল।
চুপ করে আছ কেন? ধরো, দুবছর পরও আমাদের বাবু হলো না, আমরা ঠিক করলাম এবার আইভিএফ করে দেখা যেতে পারে। তখন তুমি তিন লাখ টাকার ব্যবস্থা করতে পারবে?
সুমন বলল- লতিফা…। ‘লতিফা’ বলে সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল, বলল এইভাবে বললে আমার কিছু বলার নেই। তুমি জানো আমার অবস্থা।
তোমার অবস্থা না, আমাদের অবস্থা। জানি, আমরা খুব গরিব। জানব না কেন!
তিন লাখ টাকা অনেক টাকা।
না, তিন লাখ টাকা অনেক টাকা না। এক সময় ছিল, এখন না।
লতিফা, আমাদের জন্য। আমি আমাদের কথা বলছি।
এখন যখন তিন লাখ টাকা কোনো টাকাই না, তখন আমাদের জন্য সেটা অনেক টাকা হবে কেন?
সুমন আবার তাকাল লতিফার দিকে। আবার সে চুপ করে থাকল।
বলো। নেই কেন?
সুমন নিচু গলায় বলল- আমি জানি না।
তুমি তো কিছুই জানো না!
হুঁ।
এটা কি জানো, টাকা থাকলে আমি এখনই আইভিএফ করাতাম?
লতিফা জিজ্ঞেস করল, তবে তার মধ্যে উত্তর পাওয়ার কোনো ইচ্ছা লক্ষ করা গেল না। সে ফাঁকা চোখে দূরে তাকিয়ে থাকল। সুমন তাকাল না কোনো দিকে। সে মুখ সামান্য নিচু করে রাখল। বাকি রাস্তা তাদের আর কোনো কথা হলো না। রিকশা বাড়ির সামনে এসে থামলে, অ্যাপার্টমেন্টের দরজার চাবি লতিফার কাছে, সে এগোতে নিয়ে একটুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়াল- তুমি পারলে খাবার কিছু কিনে আনো। আমার রান্না করতে ইচ্ছা করছে না।…শুধু তোমার জন্য কিনবে। আমি খাব না।
রিকশার ভাড়া মেটাতে মেটাতে তাকাল সুমন। তার মুখ থমথমে দেখাল। তবে লতিফার প্রায় পেছনে পেছনেই সে ঘরে ফিরল।
কী হলো! লতিফা তাকাল সুমনের দিকে। খাবার কিনতে গেলে না?
খাব না। সুমন বলল। ইচ্ছা করছে না।
লতিফা বলল- অ!
তারপর সারা রাত তাদের কারো কোনো কথা নেই, একটা ঝগড়া হলো শেষরাতের দিকে। ঘুম আসছিল না লতিফার, আবার মাঝে-মধ্যে পুরো জেগেও ছিল না। কিছুটা ঘুমের মতো হচ্ছিল হঠাৎ হঠাৎ, সেটা কেটেও যাচ্ছিল। সে টের পাচ্ছিল পাশে সুমনও জেগে আছে, কখনো বা কিছুটা ঘুমে। তবে সে তাকাল না একবারও। না তাকিয়ে সে এক সময় টের পেল সুমন তার পাশে নেই। একটু একটু ঘুম এসেছিল তার, ঘুমিয়েই পড়েছিল সে, ঘুম ভাঙলে সে অবশ্য বুঝতে পারল না কতক্ষণ ঘুমাল সে। শুধু টের পেল সুমন পাশে নেই। পাশে তাকাল সে, না, নেই। ব্যাপারটা নিয়ে ভাবল না। তার শুধু এটুকু মনে হলো সুমন টয়লেটে যেতে পারে। এই ধারণাটা সত্য নয়, বোঝা গেল, তখন ভাবনাটা এলো- কোথায়! কোথায়- যদিও সে টের পেল, এটা জানা খুব জরুরি নয়, খুব কেন, একটুও জরুরি নয়, তবে কৌতূহলও হলো তার- কোথায়!
সুমনকে লতিফা পেল বাইরের ঘরে। ঘর তাদের আড়াইটা। একটা ড্রয়িং একটা বেড, কিচেনের পাশে একচিলতে জায়গা, ডাইনিং স্পেস। এই হলো আড়াই। বিছানা ছেড়ে নামতে নামতে লতিফা টের পেল বাইরের ঘরে আলো জ্বলছে। সে, সুমন কোথায়- এটা সে জানতে চায় না, সে ব্যাপারে সে ভাবছে না- এ রকম একটা ভাব ফুটিয়ে তুলতে চাইল চোখে-মুখে। কতটা ফুটল, সেটা বুঝে ওঠার আগেই সে পৌঁছে গেল বসবার ঘরে এবং সুমনকে সে দেখতে পেল বেতের টেবিলটার সামনে বেতের চেয়ারে বসে আছে। তার মুখ নিচু।
সুমন লতিফাকে আসতে দেখেনি, বরং লতিফা নিঃশব্দে এসেছে, তার পায়ের শব্দও সুমনের শোনার কথা নয়, তবু সুমন মুখ তুলে তাকাল। তার চোখে বিস্ময় নেই, যেন সে জানতই লতিফা আসবে। সুমন সেভাবে তাকাল এবং হাসল- এই এতক্ষণ ধরে একটা কথা ভাবছি। মনে হচ্ছে একটা বোকামি করেছি।
লতিফার ভেতর কিছু আগ্রহ তৈরি হলো। সে যদিও কিছু বলল না, জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল।
এই যে কয়েনগুলো, এসব অনেক কয়েনের সঙ্গে ইতিহাস আছে। আমার উচিত ছিল সেই ইতিহাস লিখে রাখা।…এখন আর হবে না।…ওভাবে তাকিয়ে আছ কেন? আমি ঠিক বলিনি?
কী করছ তুমি?
আসো।…এই যে দেখো এই কয়েনটা…এই কয়েনটা…।
সুমন, তুমি কী? সুমন, তুমি কী বলো তো?
আমি?
হ্যাঁ, তুমি তুমি। তুমি নিজেকে জিজ্ঞেস করো তুমি কী।
আচ্ছা, আমি কী করেছি বলো…।
বুঝতে পারছ না?
সুমন চুপ করে থাকল।
আমি কেন পারি না, বলতে পারবে আমি কেন পারি না?
সুমন তাকাল লতিফার দিকে- কী?
তোমার এই পয়সাগুলো ভাঙতে।
সব সময়ই শুধু এই এক কথা বলো। কেন ভাঙবে!
কেন ভাঙব না!…ভাঙব। দুই টুকরো করব ভেঙে…।
কী আশ্চর্য!
চার টুকরো করব।
লতিফা…।
আট টুকরো করব ভেঙে। শিলপাটায়। তারপর শিলপাটায় পিষব।
যখন-তখন পেয়েছ এক কথা।
সুমন, সত্যি বলছি, আমি ভেঙে টুকরো টুকরো করব।
খবরদার।
তুমি খবরদার।
নাও, ভাঙো।
ভাঙবই।
এসব বলতে বলতে তাদের ঝগড়াটা শুরু হলো, যদিও দীর্ঘমেয়াদি হলো না, চারপাশ আরও বিষিয়ে থাকল, চারপাশ তিতা-তিতা লাগতে আরম্ভ করল। তবে ঝগড়াটা দীর্ঘস্থায়ী হলো না। যথারীতি। এক সময় লতিফা দেখল সুমনের থমথমে মুখের দিকে তাকালে মায়া হচ্ছে তার। মানুষটার বড় অভিমান হয়েছে, তার মনে হলো।
সুমনের সত্যিই খুব অভিমান হয়েছিল। লতিফা কেন অমন করবে তার সঙ্গে! অমন করলে তার খুব কষ্ট হয়, লতিফা বুঝবে না! অবশ্য এই অভিমানটুকু সেও ধরে রাখতে পারল না। অফিসে রওনা হওয়ার আগে আগে সে বলল- আইভিএফের কথা সামনের বছর ভাবতে পারি…।
লতিফা বলল- ওসব নিয়ে তোমাকে এত ভাবতে হবে না। সে দেখা যাবে।

তিন
এভাবে লতিফা ও সুমনের জীবন পার হয়ে যেতে পারে। তাদের মতো জীবন আর কতজনের! সেখানে আর নতুন নতুন গল্প কতই-বা! এই তো এ রকমই গল্প সব। ধরে নেয়া যায়, এভাবেই কাটবে তাদের জীবন। সুমন অফিসে ঝামেলায় পড়বে, বিব্রত হবে, লতিফাকে বাড়িওয়ালা এসে কথা শুনিয়ে যাবে, তাদের বাবু হবে না। এর বাইরে আরও কিছু থাকবে, এই তো সব কিছু না। কাঁচাবাজারে গিয়ে কান্না পাবে সুমনের, তার বলা দাম শুনে বিক্রেতা উত্তর দেয়া দূরের কথা ফিরেও তাকাবে না, রিকশাওয়ালা খামোখা দুকথা শুনিয়ে দেবে, মহল্লার বখাটে ছেলেরা এসে কোনো এক অজুহাতে চাঁদা চাইবে, না দিলে সমস্যা আছে, এ রকম আরও কত কী! আর ওদিকে লতিফা সংসার সামলাতে ব্যস্ত থাকবে, দিন দিন কী যে অবস্থা, কিছুতেই সামাল দেয়া যায় না, সে হয়তো মার্কেটে যাবে, কিছু কিনে দাম মেটানোর সময় ভ্যানের ওপর পসরা সাজিয়ে বসা হকার কানের কাছে মুখ এনে ভালো মানুষের গলায় বলবে, আপা, ভালো প্যান্টি আর ব্রা আছে, নেবেন? শুনে তার কান্না পাবে, কিন্তু তার কিছু করার থাকবে না। কিংবা বাড়ির ভেতর থাকতে থাকতে সে হাঁপিয়ে উঠবে, তার খুব বেড়াতে যেতে ইচ্ছা করবে, তার পাহাড় বা সমুদ্র দেখার ইচ্ছা হবে, সে বলবে সুমনকে- একবার কক্সবাজার যদি যাই আমরা…। সুমন বুঝদারের মতো মাথা ঝাঁকাবে- যেতে পারলে তো ভালোই হতো…কিন্তু ইচ্ছা করলেই কি আমরা সব পারি!
এভাবেই তাদের জীবন পার হয়ে যেতে পারে। তবে ঝগড়া থাকবে। এই যে তাদের জীবন, এমন জীবনে কষ্ট, অভিমান আর মন-কষাকষির কমতি পড়ে না। সুতরাং ঝগড়া বলি বা কথা কাটাকাটি, থেকেই যাচ্ছে। কোনো কোনো দিন সেটা হয়তো মারাত্মক হয়ে উঠবে। অভিমান বা কথা কাটাকাটির গণ্ডি পেরিয়ে সেটা হয়ে উঠবে ভয়ঙ্কর কোনো ঝগড়া। কক্সবাজার যাওয়ার কথা নিয়েই তাদের ঝগড়া হতে পারে। ওই যে সুমন বলল না- ইচ্ছা করলেই কি আমরা সব পারি- লতিফা হয়তো তখন রাগ-রাগ বা বিদ্রুপের গলায় বলল- কেন পারি না? হ্যাঁ, কেন পারি না!
হয়তো এই কথার পরই লেগে যাবে তাদের। কথায় কথায় সেটা চরমের দিকে যাবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে কেউ একটুও সরবে না! জেদি গলায় লতিফা বলবে- কী পারো তুমি, কী পারো? কিছুই পারো না।
সুমন রাগ-রাগ চোখে তাকিয়ে থাকবে।
ওভাবে তাকিয়ো না ড্যাবড্যাব করে। পারার মধ্যে পারো তো শুধু পয়সা বিছিয়ে বসতে। কিছু একটা হলো আর উনি পয়সা বিছিয়ে বসলেন! ব্যস, হয়ে গেল!
যদি যায় তো গেল। তোমার কী…তাতে তোমার সমস্যা কী!
আমার সমস্যা একটাই। তখন আমি বুঝি তুমি সুস্থ নও।
আমি…আমি সুস্থ না!
মানসিকভাবে।
ওহ। আর তুমি যে যখনতখন এসব ভেঙে ফেলার কথা বলো, তুমি খুব সুস্থ না?
ভাঙবই তো। ভেঙে ফেলার কথা বলবই তো।
না, আর কোনো দিন ওসব বলবে না তুমি।
একশ কোটিবার বলব। ভাঙব আমি। ভাঙব।
কী আশ্চর্য!
এর মধ্যে আশ্চর্যের কী হলো! কক্সবাজার যেতে চেয়েছি, তোমারও যাওয়ার ইচ্ছা, কিন্তু তোমার সামর্থ্য নেই, এই নিয়ে আমাদের ঝগড়া হচ্ছে। এর মধ্যে আশ্চর্যের কী দেখলে! আমি জানি তুমি এই একটু পরই ওই পয়সাগুলো নিয়ে বসবে। আশ্চর্যের কিছু যদি থাকে, তবে এটাই।
আমি বলছি, তোমার কয়েন ভাঙার ইচ্ছাটা আশ্চর্য। সব সময় শুধু ভাঙব ভাঙব।
ভাঙব। একদম ভাঙব। ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলব।
তুমি অসুস্থ, আমি না। আমি সত্যিই এখন ওই কয়েনগুলো নিয়ে বসব।
সুমন হয়তো সত্যিই তার কয়েনগুলো নিয়ে বসবে। আর, তারপর, সেদিন তাদের এমন একটা প্রচণ্ড ঝগড়া হতেই পারে, সেই ঝগড়ার সঙ্গে মিশে থাকবে অনেক অভিমান ও কষ্টও। সেই ঝগড়ার কোনো এক মুহূর্তে এমন হতে পারে- সুমন হঠাৎই উঠে দাঁড়াবে, কয়েনগুলো নেবে দুহাতের মুঠোয়, ছুটে যাবে জানালার দিকে, কয়েনগুলো ছুড়ে দেবে বাইরে, একবারে হবে না, তাই কয়েকবার, তবু তার রাগ আর অভিমান কমবে না- ভাঙার কথা বলতে না? -সে লতিফার দিকে তাকিয়ে শ্লেষের সঙ্গে বলবে- সহ্য হতো না তোমার! তাই না? খুশি? এবার খুশি?
লতিফাকে হতভম্ব দেখাবে না, তাকে আনন্দিত দেখাবে, সে বলবে জীবনে এত খুশি আমি হইনি।
হয়তো এমন হবে, সে রাতে তাদের ঝগড়াটা সহসা মিটবে না। আগে যেমন হতো, সুমনকে অসহায় মনে হতো লফিতার, একটু পর থেকেই তার মায়া জন্মাতে শুরু করত, সেবার তেমন কিছু হবে না। আর সুমনকেও অসহায় দেখাবে না, তাকে দেখাবে গম্ভীর ও থমথমে। তবে এ আমরা জানি, সংসারে মন-কষাকষি কত দিন আর থাকে!
সুতরাং তারা ফিরে যাবে তাদের রোজকার জীবনে। তাদের দিন পার হবে। এর মধ্যে টুকটাক, ছোট-বড় অনেক ঘটনাই ঘটবে মন খারাপ করে দেয়ার। এই সব মন খারাপের দিনে তারা দুজন হয়তো চুপচাপ বসে থাকবে কিংবা ঝগড়া যদি হয় তাদের, তারপর তারা চুপ করে বসে থাকবে। হয়তো কোনো দিন সুমন বলবে- তুমি খুব বদলে গেছ। আজকাল তুমি রাগলে তোমার রাগ আর পড়তে চায় না।
আমার?…আমি তো দেখছি তোমাকে, তুমি একবার গম্ভীর হলে আর ঠিক হও না।
ভালো লাগে না। মাঝে নিজেকে এত ছোট মনে হয়।
ছোটই তো। ছোটই মনে হবে।
তবু। কিছু কিছু ঘটনা এমনভাবে চেপে বসে, বের হতে পারি না। নিজেকে ছোট ভাবতে ভালো লাগে না লতিফা।
বুঝি। লতিফা ‘বুঝি’ বলবে। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকবে, বলবে- কী যে করতে ইচ্ছা করে, বুঝি না, কী যে করতে ইচ্ছা করে মাঝে-মধ্যে।…সুমন…।
হুঁ?
তুমি খুব ছেলেমানুষ।
আমি?
হুঁ তুমি। ছেলেমানুষ না হলে হঠাৎ রাগের মাথায় কয়েনগুলো ওভাবে কেউ ফেলে দেয়! তুমি বুঝবে না!

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা /১০ জুন , ২০১৭

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১০ জুন ২০১৭

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com