ঘন কুয়াশায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে দীর্ঘ যানজট

বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৭

ঘন কুয়াশায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে দীর্ঘ যানজট

ঘন কুয়াশার কারণে গতকাল বুধবার ভোর থেকে টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়ে টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। এতে সেতুর ২ পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ৪ ঘণ্টা পর বুধবার সকাল ৯টার কিছু পরে টোল আদায় শুরু হলেও থেমে থেমে চলেছে যানবাহন। ফলে দুর্ভোগে পড়েন চালক ও যাত্রীরা।ঘন কুয়াশার কারণে বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায় বন্ধ থাকায় সেতুর দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সুষ্টি হয়। পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল সারে ৭টা থেকে প্রচুর পরিমানে ঘন কুয়াশা থাকায় বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। ফলে সেতুর দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তিতে পরেছে গাড়ি চালক ও যাত্রীরা। কুয়াশা কেটে গেলে সকাল নয়টার দিকে, টোল আদায় শুরু হয়। স্বাভাবিক হতে থাকে যান চলাচল।এদিকে কুয়াশার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় ওজন স্কেল বিকল হওয়ায়ও যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ জানান, বুধবার সকাল সেতুর ওজন স্কেল বিকল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ওজন স্কেল মেরামত করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে প্রায় দেড় ঘন্টা ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করেছে।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত : মৌসুমের প্রথম ঘন কুয়াশায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
গতকাল বুধবার সকাল ৭টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট শাখা বাণিজ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভোর থেকে নৌরুট এলাকায় ঘন কুয়াশার পরিমাণ বাড়তে থাকে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কুয়াশায় ফেরি মার্কিং বাতির আলো অস্পষ্ট হয়ে যায়। এতে করে নৌরুটে দুর্ঘটনা এড়াতে সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। অবশ্য পরে কুয়াশা কেটে গেলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়।


ডিসেম্বরের শুরুতেই শীত : এদিকে শীত বাংলা সনের পঞ্চম ঋতু। ডিসেম্বরের     মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শীতকাল হলেও বাস্তবে নভেম্বর থেকেই শীত অনুভূত হয়। তবে এবার আসি আসি করেও শীত যেন আসছে না। নভেম্বরের শেষ দিকেও রাজধানীবাসীকে রাতে হিম হিম ভাব এনে কাঁথা কিংবা কম্বল মুড়ি দিয়ে সুখনিদ্রা দিতে চালাতে হচ্ছে বৈদ্যুতিক ফ্যান। দেশের উত্তরাঞ্চলে কিন্তু ঠিকই শীত জেঁকে  বসেছে। তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ অবস্থায় শীতের আমেজ পেতে রাজধানীবাসীকে কিন্তু আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ নিঝুম রোকেয়া বলেন, এবার রাজধানীতে তীব্র শীত অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা কম। এখন পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহের তেমন আশঙ্কা নেই। তবে হিমেল হাওয়ার কামড় কিছুটা অনুভূত হতে পারে ডিসেম্বরের শুরুর দিকে। তখন তাপমাত্রা নেমে যাবে। তিনি আরও বলেন, শীত এবার উত্তরাঞ্চলে  জেঁকে বসতে পারে।

এখনই সেখানে ১১.৮ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা নেমে গেছে। সে তুলনায় রাজধানীতে তাপমাত্রা তেমন কমেনি। ধারণা করা হচ্ছে, উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। এ ছাড়া শ্রীমঙ্গলেও তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পাবে বলে মন্তব্য করেন এ আবহাওয়াবিদ। সাধারণত নভেম্বর মাসে দেশে হাড় কাঁপানো শীত খুব একটা পড়ে না। কারণ সূর্য যত দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে যায়, শীতের তীব্রতা ততটাই বাড়তে থাকে। তা ছাড়া দিনের ব্যাপ্তি কমে আসায় ডিসেম্বর থেকেই বাংলাদেশে শীত পড়তে শুরু করে। তখন উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বাতাস বাংলাদেশের দিকে আসায় তাপমাত্রা আরও কমে আসে। এর সঙ্গে সাইবেরিয়া থেকে আসা হিমেল বাতাস যোগ হয়। ফলে হাড় কাঁপানো শীত পড়তে শুরু করে। তাই ডিসেম্বরে শীতের তীব্রতা বাড়বে। এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চলে ডিসেম্বরের শেষ দিকে দু-একটি মৃদু অথবা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে কামড় বসাতে পারে শীত। শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে ঘনকুয়াশাও পড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ ৩০ নভেম্বর, ২০১৭

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৭

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com