গ্রীষ্মে শিমচাষে কলেজ শিক্ষকের সাফল্য

শনিবার, ২৮ আগস্ট ২০২১

গ্রীষ্মে শিমচাষে কলেজ শিক্ষকের সাফল্য
শিম ক্ষেতে সৌখিন চাষী কলেজ শিক্ষক মো. শাহাবাজ আলী [ ছবিঃ সংগৃহীত ]

গ্রীষ্ম মৌসুমে শীতকালের সবজি “শিম” চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষক মো. শাহাবাজ আলী।

ইতোমধ্যে উৎপাদিত শিম বাজারজাত করে বেশ ভালো দাম পাচ্ছেন বলেও জনান তিনি।


জানা গেছে, তিন মাস আগে নিজের মাছের ঘেরের প্রায় ৪০ শতক আইল জুড়ে শিমের বীজ রোপন করেছিলেন শাহাবাজ আলী। পাশাপাশি ঘেরের মধ্যে ইপসা-২, বারি-৪ সহ বিভিন্ন প্রকার মাছও চাষ করেন তিনি।

শাহবাজ আলী জানান, তার রোপন করা গ্রীষ্মকালীন শিম গাছ থেকে এক সপ্তাহ আগে শিম তোলা শুরু করেন তিনি। নতুন এ শিম বাজারে প্রতি কেজির মূল্য ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা দাম পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “উপজেলা কৃষি অফিস এবং কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিভাগ এমএলটি সাইট  করার পরামর্শ দেয়। এর ফলে আগাম জাতের শিমের বীজ সংগ্রহ করে বীজ রোপন করি। বীজ রোপনের পর কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিয়মিত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতাম। একই সঙ্গে পোকামাকড় প্রতিরোধেও পদক্ষেপ নিয়েছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “প্রথমবার আগাম শিমচাষ করেই ভালো ফলন পেয়ে আনন্দ হচ্ছে। আগামীতে আরও নানা ধরনের আগাম ফসল লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

অন্যদিকে, মহারাজপুর, মঠবাড়ী ও কালনা, শ্রীরামপুরসহ আশপাশের অনেক গ্রামের কৃষকরা শাহাবাজ আলীর সাফল্য দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

কয়রা উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন জানান, লবণাক্ত এলাকা হওয়ায় এবং আশপাশে চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে লবণ পানিতে প্লাবিত হওয়ায় চাষ করতে সবাই যখন ভয় পাচ্ছিল তখন শাহাবাজ আলী সবকিছুর ভয় উপেক্ষা করে নিজেই পরিচর্যা করে তার শিম ক্ষেত আগলে রেখেছেন।

গবেষণা বিভাগ খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনর রশিদ বলেন, বারি শিম ১, ২ ও ৪ আগাম চাষ করা যায়। শিম একটি উচ্চ মূল্যের সবজি। যদি কৃষকরা এ ধরনের শিমচাষে আগ্রহী হন, তাহলে লাভবান হতে পারবেন। কৃষকরা আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১:১০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৮ আগস্ট ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com