গ্রামীণফোনের গাঁয়ের বধূ

শনিবার, ১১ জুন ২০১৬

গ্রামীণফোনের গাঁয়ের বধূ

বিনোদনবীথি রানী সরকার। গ্রামীণফোনের ‘কই রইলা রে বন্ধু, কই রইলা রে’ দিয়ে মিডিয়ায় আগমন। তারপর ব্যস্ততা নাটক ও চলচ্চিত্রে। কাজ করেছেন বেশকিছু বিজ্ঞাপনেও। এই তারকার বিজ্ঞাপন ক্যারিয়ারের গল্প শোনাচ্ছেন মাসিদ রণ

ক্যারিয়ারে অনেক প্রস্তাব পেলেও তাঁর বিজ্ঞাপনের সংখ্যা মাত্র হাফ ডজন। কারণ গ্রামীণফোনের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি থাকায় অন্য কোনো কম্পানির বিজ্ঞাপনে মডেল হতে পারেননি। তবে সেই চুক্তি এখন শেষ


গাঁয়ের বধূ বীথি। উদাস দুপুরে স্বচ্ছ জলের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে আনমনা হয়। প্রিয়জনের কথা মনে পড়ে। বাতাস, বৃষ্টি আর আলোর খেলায় মেতে থাকতে গিয়েও কিসের যেন টান অনুভব করে। গ্রামীণফোনের দেশব্যাপী শক্তিশালী নেটওয়ার্কের বিজ্ঞাপন দেখলে বোঝা যায় বীথির অপেক্ষায় থাকার গল্প। হঠাৎ ফোন বেজে ওঠে। দৌড়ে গিয়ে মোবাইল তুলে হাতে নেয়। এতেই স্পষ্ট কিসের অপেক্ষায় কাটে তার প্রহর। এই বিজ্ঞাপনে ‘বন্ধু রঙ্গিলা রঙ্গিলা রঙ্গিলা রে, আমারে ছাড়িয়া বন্ধু কই রইলা রে’ গানটি নতুন করে প্রাণ পায়। হাবিব ওয়াহিদের সংগীতে জিঙ্গেলে কণ্ঠ দেন ন্যান্সি। নির্মাতা অমিতাভ রেজা। এই বিজ্ঞাপনে মডেল হন বীথি রানী সরকার। এখন বীথিকে ছোট ও বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা গেলেও এটাই ছিল তাঁর প্রথম কাজ। বিজ্ঞাপনটি প্রচারের এক মাসের মাথায় তারকা খ্যাতি পান। শুধু তা-ই নয়, হয়ে যান গ্রামীণফোনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। এই গল্প দিবাস্বপ্নের চেয়ে কম ছিল না তাঁর কাছে। ছোটবেলা থেকে নায়িকা হতে চাওয়া মেয়েটি হুট করে এমন সুযোগ পেয়ে যাবেন, তা নিজেও ভাবতে পারেননি!

indexমডেলিংয়ে আসতে নিজেই গিয়েছিলেন অমিতাভ রেজার কাছে। ভাবনায়ও ছিল না তাঁকে দেখে অমিতাভ রেজা এই বিজ্ঞাপনে সুযোগ দেবেন। এক মিনিটের টিভিসির শুটিং হয় টানা ১১ দিন। অথচ চরিত্র একটাই! বীথি বললেন, ‘অন্তত ১১ বছর যাতে মানুষ টিভিসিটি মনে রাখে এ জন্যই হয়তো ১১ দিন শুটিং হয়েছিল। টানা ১১ দিন আমি ক্যামেরার সামনে ছিলাম। দম ফেলারও ফুরসত ছিল না। লোকেশন ছিল দুটি। প্রথম ১০ দিন দিনাজপুরের প্রত্যন্ত এক পল্লীতে। আমার পানির নিচে ডুবে যাওয়ার দৃশ্যটি আলাদা করে ধারণ করা হয় এফডিসির সুইমিং পুলে।’ বীথির জীবনের প্রথম শট এক টেকেই ওকে হয়। ‘বিজ্ঞাপনটিতে কোনো কিছু কৃত্রিম ছিল না। প্রাকৃতিক পরিবেশে কাজ করেছি। রোদের প্রখর তেজ, ঝোড়ো বাতাস, হারিকেনের আলো, বৃষ্টি, খালের ঘোলা জল, ঘাসের ওপর শিশির বিন্দু সবই প্রাকৃতিক। আমার প্রথম শট ছিল বাতাসে চুল ওড়ানো। এক টেকেই ওকে হয়। এতে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। পুরো কাজ অনেক সুন্দর করে শেষ করতে পারি। ফল কী তা সবার জানা, বিগত কয়েক বছরের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভিসি ছিল এটি।’ বললেন বীথি। এত বড় একটি কাজ হবে আর একটু ঝামেলা থাকবে না তা কি হয়? শোনা যাক বীথির মুখেই, ‘সবচেয়ে কঠিন ছিল এফডিসিতে শুটিং করা। আমি সাঁতার কাটতে পারি না। তার মধ্যে এক্সপ্রেশনসহ আমাকে পানির নিচে ডুবে যাওয়ার শট দিতে হয়। ওই এক শট ওকে করতে কত যে পানি খেতে হয়েছিল, তার ইয়ত্তা নেই।’ শুটিংয়ে মন খারাপের ঘটনাও ঘটেছিল তাঁর। বললেন, ‘একটি দৃশ্যে ঝড় আসার আগেই আমি মুরগির বাচ্চাগুলোকে ঘরে নিতে তাড়া করছি। শটের আগেই কেন যেন মনে হচ্ছিল পায়ের নিচে পড়বে না তো বাচ্চাগুলো। ঠিকই তাই হলো, শট শেষে দেখি একটা বাচ্চা আমার পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা গেছে। এই ঘটনার পর দুই ঘণ্টা আমি শুধু কেঁদেছি। শুটিংয়ে মনই দিতে পারছিলাম না।’

টিভিসিতে তাঁকে গাঁয়ের বধূ সাজাতে মেকআপের বদল মেক-ডাউন করে কালো করা হয়। এ জন্য তাঁকে সাধারণ দর্শক দেখলেও চিনতে পারত না। একই বাসে পাশে বসে ওই টিভিসিতে তাঁর অভিনয় বা রূপমাধুর্যের প্রশংসা করছে কেউ, অথচ তাঁকে চিনতে পারছে না। শুধু সাধারণ দর্শক নয়, গুণী অভিনেতা-নির্মাতা গাজী রাকায়েত ‘মৃত্তিকা মায়া’য় কালো ভেবে বীথিকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। বীথি মুখোমুখি হলে তাঁর চেহারা দেখে অবাক হন। বীথির গ্ল্যামারের বিচ্ছুরণ দেখা গেছে আরএফএল দুরন্ত সাইকেল, আরএফএল কনফারেন্স চেয়ার ও শিশুদের জন্য নির্মিত সরকারি একটি টিভিসিতে। ক্যারিয়ারে অনেক প্রস্তাব পেলেও তাঁর বিজ্ঞাপনের সংখ্যা মাত্র হাফ ডজন। কারণ গ্রামীণফোনের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি থাকায় অন্য কোনো কম্পানির বিজ্ঞাপনে মডেল হতে পারেননি। সেই চুক্তি শেষ। বীথি এখন নিজেকে আরো মেলে ধরার অপেক্ষায়। প্রত্যাশা নন্দিত মডেল-নায়িকা হয়ে আজীবন মিডিয়ায় টিকে থাকার।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / জুন ১০,২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১১ জুন ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com