গোপালগঞ্জে বিজয়া দশমীর নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

শনিবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৬

গোপালগঞ্জে বিজয়া দশমীর নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

বিনোদনreporterগোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জের অন্তত ৪ স্থানের আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা  বাইচ প্রতিযোগিতা দুর্গা পূজার বিজয়াকে আরো আনন্দ মুখর করে তুলেছিল। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড়, কাশিয়ানী উপজেলার বাথানডাঙ্গা ও মুকসুদপুর উপজেলার জালিরপাড়ে লাখ লাখ মানুষের মিলন মেলা বসেছিল।

এ যেন শারদীয় দুর্গোৎসবের পর আরো একটি উৎসব। মঙ্গলবার ঘাঘর, সাতপাড়, বাথানডাঙ্গা, বুধবার জলিরপাড়ে দুর্গ পূজার দশমী উপলক্ষে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বর্ষার বিদায় লগ্নে শরতের মনোরম বিকেলে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, বরিশাল জেলার বিভিন্ন বয়সের লাখ লাখ মানুষ  নৌকা বাইচ উৎসবে মেতে নির্মল আনন্দ উপভোগ করেছেন।

বিজয়া দশমীর সর্ববৃহৎ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা মঙ্গলবার কোটালীপাড়ার ঘাঘর নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘাঘর নদীর জাঠিয়ার মোড় থেকে ঘাঘর কান্দা পর্যন্ত  দু’ কিলোমিটার পর্যন্ত এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা  বাইচ উপভোগ করতে বিভিন্ন বয়সের লক্ষাধিক নারী-পুরুষ নদীর দু’পাড়ে সমবেত হন।  দেড় শ’ বছর ধরে এই বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর, নড়াইল, বরিশাল জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শতাধিক সরেঙ্গা, ছিপ, কোষা, চিলাকাটা, জয়নগর বাচারী নৌকা অংশ নেয়। নান্দনিক এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা বিপুল আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দুপুর দু’টা থেকে শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

1476251474প্রতিযোগিতায় প্রধান আকর্ষণ ছিল মহিলাদের বাচারী নৌকা। মহিলাদের পাঁচটি বাচারী নৌকা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও এফবিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি আলহাজ্ব শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার, পুলিশ সুপার এস.এম এমরান হোসেন উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার নির্বাহী কর্মকর্তা জিলাল হোসেন , জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, পৌর মেয়র এইচ এম অহিদুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান হাজরাসহ আরো অনেকে  উপস্থিত ছিলেন।

অংশ গ্রহণকারী সকল নৌকাকে ১টি করে কালার টিভি প্রদান করা হয়।

এ দিন কাশিয়ানী উপজেলার বাথানডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় গোপালগঞ্জ ও নড়াইল জেলার অন্তত ১৫ টি নৌকা অংশ নেয়। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। মধুমতি বিলরুট ক্যানেলে অনুষ্ঠিত এ বাইচ উপভোগ করতে নদীর দু’পাড়ে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার মানুষ। বাইচ শেষে প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

বুধবার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়ে ২’ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ   অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্গা পূজার বিজয়া দশমী উপলক্ষে মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়ে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কেউ এ বাইচের আয়োজন করেনা। দিনটি এলেই সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার বাইচের নৌকা এসে  মধুমতি এমবিআর  খালে জড়ো হয়। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় নৌকা বাইচ। এ বছরের বাইচে ২৫ টি বাইচের নৌকা অংশ নেয়।  খালের দু’ পাড়ে দাড়িয়ে হাজার, হাজার মানুষ বাইচ উপভোগ করেন। এ উপলক্ষে বসেছিল মেলা।

জলিরপাড়  গ্রামের  কার্ত্তিক সাহা বলেন , আমাদের এলাকার নৌকা বাইচ কেউ প্রচলন করেননি। দু’ শ’ বছর আগে বিল এলাকার মানুষ চিত্ত বিনোদনের জন্য নৌকা দিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতো এ থেকে এটি প্রচলিত হয়। সে ঐতিহ্য এখনো চলছে। বাইচ থেকে এলাকার মানুষ নির্মল আনন্দ উপভোগ করে।

কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, প্রায় দেড়শত বছর আগে যশোরের বিঘাপতির জমিদার খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ঘাঘর নদীতে দুর্গা পূজার পর এখানে মেলা ও নৌকা বাইচের আয়োজন করেছিলেন। সেখান থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময় এখানে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কোটালীপাড়া উপজেলার সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ এই নৌকা বাইচ উপভোগ করেন।

কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাঙালির হাজার বছরের কৃষ্টি কালচার ধারণ করতেই আমরা  নৌকা বাইচের আয়োজন করি। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ধরে  রাখতেই অমাদের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবো।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / অক্টোবর ১৫, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:২২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com