গর্ভবতী নারীর সঙ্গে ডাক্তারের নির্মম আচরণ!

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

গর্ভবতী নারীর সঙ্গে ডাক্তারের নির্মম আচরণ!

 

সিলেটঃসিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন ডাক্তারের বিরুদ্ধে আবারো চিকিৎসা অবহেলা এবং রোগীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার এই ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন একজন গর্ভবতী নারীর স্বামী ও তার শাশুড়ি। সেদিনই ৩২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় গেছে হাসপাতালে।


জানা গেছে, গত রাত রাত সাড়ে ১২ টায় প্রসব বেদনায় ছটফট করা আকলিমা বেগমকে (১৯) ভর্তি করা হয় গাইনি ওয়ার্ডে। সঙ্গে ছিলেন আকলিমার শাশুড়ি রাবেয়া বেগম। কিন্তু ভর্তি হলেও রাত সোয়া একটা পর্যন্ত কোন ডাক্তার দেখতে আসেননি তাকে। এ অবস্থায় প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন আকলিমা। জোরে-জোরে চিৎকার করছিলেন তিনি। তার চিৎকারের সুর ভেসে আসছিল গাইনি ওয়ার্ডের বাইরেও। এমন সময় কর্তব্যরত ডাক্তার তার কাছে আসেন। তিনি উত্তেজিত হয়ে আকলিমাকে মারধর করেন। নাকে-মুখে টিপ্পনি দিয়ে ধরেন। এমন দৃশ্য দেখে শাশুড়ি রাবেয়া বেগম দৌড়ে যান। তিনি গিয়ে বাধা দিলে নার্সরা তাকে ধরে টানা-হ্যাঁচড়া করেন। এ সময় রাবেয়া চিৎকার শুরু করলে ক্ষেপে যান কর্তব্যরত চিকিৎসক। তিনি হাতে থাকা স্টেটোসকোপ দিয়ে আঘাত করতে থাকেন রাবেয়ার মাথায়। এতে রাবেয়ার মাথা ফেটে যায়। অজ্ঞান হয়ে পড়েন মেঝেতে। হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়রা তাকে নিয়ে যান জরুরি বিভাগে। সেখানে রাবেয়ার মাথায় তিনটি সেলাই দেয়া হয়। রাতে রাবেয়াকে জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ওদিকে, লেবার ওয়ার্ডের বেডে যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন আকলিমা। –

এভাবে রাত কাটানোর পর ভোরে হাসপাতালে এসে পৌঁছেন আকলিমার স্বামী মোহাম্মদ আলী। তার আগেই রাবেয়ার উপর অত্যাচারের ব্যাপারে টনক নড়ে প্রশাসনের। ডিউটি ডাক্তার বিথীর উপর চাপ প্রয়োগ করা হলে তিনি সকালে এসে রাবেয়া ও তার ছেলে মোহাম্মদ আলীর কাছে ক্ষমা চান। এ রকম ঘটনা আর ঘটবে না বলে জানান। ওদিকে, মাথায় ব্যান্ডেজ দেওয়া রাবেয়াকে সকালের দিকে গ্রামের বাড়ি ছাতকের ভৌলা গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, স্ত্রী আকলিমাকে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন। আর বেলা সোয়া একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ডাক্তার তাদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। তারা আর এ রকম ঘটনা ঘটবে না বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভাই আমার রোগী এখনও হাসপাতালে ভর্তি। যদি আপনাদের সঙ্গে কথা বলি তাহলে ডাক্তাররা আমার রোগীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করবে। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। বর্তমানে আমি রাতের ঘটনাটি ভুলতে চাই। –

এ ঘটনা সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে। অথচ ১০ শিশুসহ ৩২ রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ওইদিন সকাল থেকে হাসপাতাল এবং সিলেটে তোলপাড় চলছে। ডাক্তাররা সতর্ক হয়ে যখন চিকিৎসা দিচ্ছেন, এরই মধ্যে আরও একটি কা- ঘটিয়েছেন ইন্টার্নি চিকিৎসক বিথী। সকালের দিকে গাইনি ওয়ার্ডে গেলে ভর্তি থাকা রোগীদের স্বজনও এমনটি জানিয়েছেন। এমনকি পুলিশের কাছে চলে এসেছে এ খবরও। গতকাল দিনভর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা চালান। তবে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবদুস সালাম বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন অন্যায়কেই প্রশ্রয় দিতে রাজি নয়। ওদিকে, সোমবার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত একদিনে হাসপাতালে ১০ শিশুসহ ৩২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল অনেককেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে দেখা গেছে। যে শিশু ওয়ার্ডে কখনও বেডশূন্য থাকে না সে ওয়ার্ডে শূন্য ছিল কয়েকটি বেড।

রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, এ ঘটনার পর চিকিৎসা সেবা ভাল হলেও আতঙ্ক কমছে না। এ কারণে অনেকেই হাসপাতাল ছেড়ে বেসরকারি ক্লিনিকে চলে গেছেন। সূত্র: মানবজমিন

 

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com