খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিমের লাশ তুলে পাঠানো হলো ঢাকায়

বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিমের লাশ তুলে পাঠানো হলো ঢাকায়
মৃত্যুর ১৫ দিন ময়নাতদন্তের জন্য কুয়েট শিক্ষকের মরদেহ উত্তোলন করেছে পুলিশ [ ছবিঃ সংগৃহীত ]

কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী অধ্যাপক সেলিমকে তার অফিসে আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন করার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি মারা যান বলে তার সহকর্মীদের অভিযোগ

মৃত্যুর ১৫ দিন পর কবর থেকে তোলা হয়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের মরদেহ।


বুধবার (১৫) ডিসেম্বর) সকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

অকাল প্রয়াত এ শিক্ষকের বাবা মো. শকুর আলী বলেন, “পুলিশ মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের আশ্বাস দেওয়ায় আমরা ময়নাতদন্তের জন্য রাজি হয়েছি। সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সই করা চিঠি অনুযায়ী, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহম্মেদ, খুলনা খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস, কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ফারহান লাবিবের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য মরদেহ প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসাপাতালের মর্গে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।”

মেডিকেল অফিসার ফারহান লাবিব বলেন, “লাশ উত্তোলন করে কুষ্টিয়া মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আজই বাঁশগ্রাম কবরস্থানে দাফন করা হবে।”

গত ৩০ নভেম্বর কুয়েটের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন (৩৮) ক্যাম্পাস সংলগ্ন বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার থেকে তার মৃত্যু হয়। এরপর, ১ ডিসেম্বর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ কুষ্টিয়ায় তার গ্রামে দাফন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের কুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে সংগঠনটির কয়েকজন কর্মী অধ্যাপক সেলিমকে তার অফিসে আটকে রেখে মানসিকভাবে নির্যাতনের কয়েক ঘণ্টা পর তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন > খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের অস্বাভাবিক মৃত্যুঃ ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

এ সময় তাকে গালাগালি, অপমান ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তার সহকর্মীরা।

ঘটনার পর গত ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয় কুয়েট ক্যাম্পাস। ওই দিন বিকেল ৪টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও ছাত্রাবাস খালি করতে বলা হয়।

এছাড়া পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

কিন্তু প্যানেল সময়মতো তদন্ত শেষ করতে পারেনি। পরে তদন্ত সংস্থার সুপারিশ বিবেচনা করে, কর্তৃপক্ষ ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়িয়েছে কুয়েট।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com