খুলনা বিমান বন্দর হচ্ছে বাগেরহাটে

বুধবার, ০৬ মে ২০১৫

খুলনা বিমান বন্দর হচ্ছে বাগেরহাটে
খুলনা বিমান বন্দরের নির্ধারিত স্থান

 

বাগেরহাটঃ  খুলনাবাসীর অনেক প্রতিক্ষিত খুলনা বিমান বন্দর অবশেষে  নির্মাণ করা  হচ্ছে বাগেরহাটে । উদ্যোগ নেওয়ার ৫৪ বছর পর বিমান বন্দরটি নির্মিত হতে যাচ্ছে । ১৯৬১ সালে খুলনায় প্রথমবারের মত বিমান বন্দর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য খুলনার ফুলতলা থানাধীন মশিয়াখালিতে জমি অধিগ্রহণও করা হয়। দ্বিতীয় দফায় একই উপজেলার তেলিগাতি, পরে  বাগেরহাটের কাটাখালিতে বিমান বন্দরের কথা বলা হয়। চতুর্থ দফায় ১৯৯৮ সালে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লায় খুলনা-মংলা মহাসড়কের পূর্বপাশে জায়গা নির্ধারণ করা হয় এবং জমি অধিগ্রহণ করা হয়। সেই পরিকল্পনানুযায়ী বাগেরহাটের ফয়লায়ই হচ্ছে বৃহত্তর খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা  খুলনা বিমান বন্দর । নাম করণ করা হচ্ছে এতদাঞ্চলের সাধক হযরত খান জাহান আলীর নামে ‘ খানজাহান আলী বিমান বন্দর, খুলনা।
 মঙ্গলবার একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) এ সংক্রান্ত প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বিমান বন্দরের নির্মাণ কাজ আগামী ২০১৮ সালের জুন মাস নাগাদ শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।


বিমান বন্দর হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হবে। সেই সাথে মংলা বন্দর ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত বিমান বন্দরটি ফয়লার খুলনা-মংলা মহাসড়কের পুবপাশে অবস্থিত। এখানে মাটি ভরাটের কাজ অনেক আগে হলেও জায়গাটি উন্মুক্তভাবে পড়েছিল।

জানা যায়, ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে বিমানবন্দরের জন্য খুলনা-মংলা মহাসড়কের পাশে ওই এলাকার ৯৩ দশমিক ৫৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। একই বছরের জুন মাসে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে বিমানবন্দরের জমি হস্তান্তর করে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ১৯৯৮ সালের জুন মাসে প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩২ কোটি টাকা। বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিমানবন্দর নির্মাণের পূর্ব পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনে। তখন সিদ্ধান্ত হয়, স্টল বিমানবন্দর নির্মাণের পরিবর্তে মাঝারি ধরনের বিমান ওঠানামার উপযোগী বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। এজন্য আগের অধিগ্রহণ করা জমির পাশে জনবসতি এলাকার আরও ৭১ দশমিক ৮২ একর জমি অধিগ্রহণের কথা বলা হয়। তবে জমি আর অধিগ্রহণ করা হয়নি।

২০১২ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী লে. কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফারুক খান খুলনা-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ রুটে ছোট বিমান ওঠানামার জন্য বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগের কথা জানান।

২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বিমানবন্দর নির্মাণে প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্যে কাজ শুরু করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। সাত মাস পর ওই বছরের ২৬ নভেম্বর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে কুয়েট তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে দুভাগে বিমানবন্দর নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। 

প্রথম ভাগে ছোট বিমান ওঠানামার জন্য স্টল এবং দ্বিতীয়ভাগে পূর্ণাঙ্গ বিমান বন্দর করার জন্য প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে রূপান্তরের জন্য জমি লাগবে আরও ৮০ একর। সময় লাগবে ২০২২ সাল পর্যন্ত। বর্তমানে প্রস্তাবিত এলাকার জমি দখল করে ধান ও মাছের চাষ করছে প্রভাবশালী মহল। সেখানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কয়েকটি  ট্রাক ও রোলার মেশিন আছে, যা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বিমানবন্দরের জায়গা ব্যবহার করছে সুবিধাভোগীরা। 

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, “খান জাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হওয়া খুবই আনন্দের ব্যাপার। বহুদিন ধরে খুলনা তথা এই অঞ্চলের মানুষ বিমান বন্দর বাস্তবায়নের কথা বলে আসছিল। অবশেষে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “বিমান বন্দরের ফলে দ্রুত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে, যাতে সুন্দরবনের পর্যটক সংখ্যা বাড়বে। কাঁচাপাট রপ্তানি ও মংলা বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতি পাবে। বিমানবন্দর না থাকার কারণে বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতা ও খেলোয়াড়দের  খুলনায় আসার ক্ষেত্রে নেতিবাচক মনোভাবটি পাল্টে  ইতিবাচক হবে।  

খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী আমিনুল হক খানজাহান আলী বিমান বন্দরের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/  মে ০৬, ২০১৫
 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:৩৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৬ মে ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com